দেওয়ান পীরের মাযার

ধরন: দরগাহ
সহযোগিতায়:
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার পীর বলুহ দেওয়ান (র.)-এর রওজা শরিফকে ঘিরে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাজরাখানা গ্রামে কপোতাক্ষ নদের তীরে এক সপ্তাহব্যাপী মেলা বসে। বলুহ মেলা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলে ব্যস্ততার ধুম পড়ে যায়। মেলার মূল উপলক্ষ হল পীর বলুহ দেওয়ান এর মাযার শরীফ।

বলুহ দেওয়ান আসলে কে ছিলেন সে ব্যাপারে কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি সম্ভবত তিনশ’ থেকে চারশ’ বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন। বয়স্কদের অনুমান, তিনি উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের ছুটি বিশ্বাসের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

লোকাল মিথ: কথিত আছে, পীর বলুহ দেওয়ান অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল রহস্যজালে ঘেরা। যদিও জন্মকাল সম্পর্কে আজও কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

তাঁর সম্পর্কে স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে নানা অলৌকিক কাহিনী। জনশ্রুতি রয়েছে, যখন তাঁর বয়স ১০/১২ বছর তখন বাবার অনুমতি নিয়ে বিদ্যান বিলে গরু চরাতে যান। গরু দিয়ে তে নষ্ট করার অভিযোগে তেমালিক গরু ধরতে গেলে তিনি গরুগুলোকে বক বানিয়ে গাছে বসিয়ে রাখেন।

বাবার মৃত্যুর পর তিনি উপজেলার হাজরাখানা গ্রামে মামার বাড়িতে থেকে অন্যের বাড়ি দিনমজুর খাটতেন। একদিন তিনি সর্ষে মাড়াই করতে মাঠে গিয়ে সর্ষের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেন। সংবাদ শুনে গৃহস্থ মাঠে গিয়ে দেখেন, সর্ষের গাদায় আগুন জ্বলছে। তখন গৃহস্থ রাগান্বিত হলে তিনি হেসে বলেন, ‘ছাই উড়িয়ে দেখেন সর্ষে পোড়েনি’।

প্রচলিত আছে, একদিন তাঁর মামি খেজুর রসের চুলায় জ্বাল দিতে বললে তিনি জ্বালানির পরিবর্তে চুলার ভেতর পা ঢুকিয়ে দেন, চুলায় আগুন জ্বলতে থাকে। কিন্তু তাঁর পায়ের কোনো ক্ষতি হয় না।

এমন অনেক অলৌকিক ঘটনার জন্ম দিতে থাকলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু মানুষ তাঁর কাছে আসতে থাকেন। অলৌকিক ঘটনার প্রেক্ষিতে বলুহ দেওয়ান পীর হিসাবে আখ্যা পান। লোকজন জটিল ও কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেতে তাঁর নামে মানত করতে থাকেন।
তাঁর মৃত্যুর পর প্রতি বছর ভাদ্রমাসের শেষ মঙ্গলবার হাজরাখানা গ্রামে অবস্থিত তাঁর রওজা শরিফে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, নারকেল ও নগদ টাকাসহ নানা প্রকার জিনিস দিয়ে মানত শোধ করা হয়ে থাকে। কালের পরিক্রমায় বহু বছর ধরে চলে আসছে এই প্রথা।২০১৫ সালের ১৫ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর এই মেলাটি বসেছিল।
মেলা শুরু হওয়ার সপ্তাহ খানেক আগে থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফেরিওয়ালা ও দোকানিরা এসে পসরা সাজায়। যাকে ঘিরে এই মেলা, তার সম্পর্কে হাজারও কিংবদন্তি বিদ্যমান। যা এখনও মানুষের মুখে মুখে প্রকাশ পায়।

Deowan Pirer Mazar


কিভাবে যাবেন

From Jessore, take a local auto-rickshaw to Chowgacha to reach that Mazar। From Jessore Railway station, there are plenty of local auto-rickshaws are available to Chowgacha

কিভাবে পৌঁছাবেন: যশোর জেলা

ঢাকার গাবতলি থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। আপনার সুবিধার্থে এসব বাস সম্পর্কে কিছু তথ্য নিম্নে প্রদান করা হলঃ
১। হানিফ এন্টারপ্রাইজ
গাবতলি কাউণ্টার, ফোনঃ ৮০১৬০৪০, ৮০১১৭৫৯
ভাড়াঃ প্রায় ২৮০/- টাকা
২। সোহাগ পরিবহন
গাবতলি বুকিং বুথ, ফোনঃ ৮০১১৯৯৮, ৮০১২১৪৮
ভাড়াঃ প্রায় ২৮০/- টাকা
৩। ঈগল পরিবহন
গাবতলি কাউণ্টার, ফোনঃ ৮০১৭৬৯৮, ৮০১৭৩২০

ঢাকা থেকে আকাশপথে যশোরে যাওয়া যায়। ঢাকা ও যশোরের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
• ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ
৩৯২৫/- টাকা থেকে টিকেটের দাম আরম্ভ
• রিজেণ্ট এয়ারওয়েজ
৩৮০০/- টাকা থেকে টিকেটের দাম আরম্ভ
• নভো এয়ার লিমিটেড
৫৪০০/- টাকা থেকে টিকেটের দাম আরম্ভ হলেও এখানে ডিসকাউণ্টে ৪৮০০/-টাকা এবং ৪৩০০/- টাকায় টিকেট পাবেন। এছাড়া, ৪০০০/- টাকায় বিশেষ টিকেট পাবেন।

ঢাকা থেকে প্রতিদিন দুপুর ১২:৩০ মিনিটে আন্তঃনগর ট্রেন যশোরের পথে ছেড়ে যায়। এছাড়া খুলনাগামী ট্রেনে উঠেও যশোরে নেমে যেতে পারেন।
প্রথম শ্রেণীর ভাড়াঃ প্রায় ৮৫/- টাকা।
সাধারণ শ্রেণীর ভাড়াঃ ৩৫/- টাকা।

কোথায় থাকবেন

যশোরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল পাবেন। এসব রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে কিছু তথ্য আপনার সুবিধার্থে প্রদান করা হলঃ
• বাঁচতে শেখা (এনজিও এবং গেস্টহাউজ), ফোনঃ +৮৮০৪২১৬৮৮৫
• হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল, ফোনঃ +৮৮০৪২১৬৭৪৭৮
• হোটেল ম্যাগপাই, ফোনঃ +৮৮০৪২১৬৮৭২২
• হোটেল মিড টাউন, ফোনঃ +৮৮০১৭১১৯৪০১৬০
• গ্র্যান্ড হোটেল, ফোনঃ +৮৮০৪২১৭৩০৩৮
• হোটেল আর এস, ফোনঃ +৮৮-৪২১৬১৮৮১

খাবার সুবিধা

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন