দোতলা এই মন্দিরটির নিয়ন্ত্রন বাংলাদেশ সরকার গ্রহন করে এটিকে পুরাকীর্তি নিদর্শন হিসেবে ঘোষণা করেছে। কবে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল তা জানা না গেলেও এটির নাম থেকে প্রতীয়মান হয় যে রাজারাম নামে কোন এক ধনাঢ্য ব্যাক্তি মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। মন্দিরটির দেয়াল এবং পিলারে টেরাকোটার কাজ পরিলক্ষিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে মন্দিরে অঙ্কিত চিত্রগুলো মহাভারত এবং রামায়নের কিছু অংশকে বর্ণনা করছে। আপনি যদি পুরাকীর্তি নিদর্শন পছন্দ করেন তবে এই মন্দিরে আপনাকে আসতেই হবে।
ঢাকা থেকে কিভাবে মাদারীপুরে পৌছাবেন জানতে এখানে ক্লিক করুন । মাদারীপুরের স্মৃতিসৌধ থেকে যেকোন ধরনের মোটরচালিত বাহনে করে আপনি এখানে আসতে পারবেন। তবে, এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে উপভোগের জন্য আপনি রিকশাতেও চড়তে পারেন। মাদারীপুর-ঢাকা মহাসড়কে টেকেরহাট বাসস্ট্যান্ডে নেমে মাত্র ৫/- টাকা রিকশা ভাড়ায় আপনি এই মন্দিরে পৌছাতে পারবেন। এই মন্দিরটি খালিয়া গ্রামের পিস সেন্টারের কাছে অবস্থিত। তবে, মন্দিরটি খুঁজে পেতে অসুবিধা হলে স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করলেই তারা আপনাকে পথ দেখিয়ে দেবেন।
ঢাকা থেকে সরাসরি এই মন্দির দেখতে আসলে টেকেরহাট মাদারীপুর শহরে প্রবেশের আগে পরবে।
ঢাকা থেকে মাদারীপুরের সড়কপথে দূরত্ব ১৯১ কিলোমিটার এবং এই জেলায় পৌছাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগবে। মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে দিনের ২৪ ঘণ্টাই বাস ছেড়ে যায়।
মাদারীপুরে যেতে হলে আপনাকে প্রথমে মাওয়া ঘাটে পৌছাতে হবে। ঢাকা থেকে মাওয়া ঘাটে বিআরটিসি, প্রচেষ্টা, ইলিশ, গুনগুন, আজমেরি পরিবহন যাতায়াত করে। বিআরটিসি বাস টার্মিনাল গুলিস্তানে অবস্থিত এবং এই বাসে যেতে ভাড়া পরবে ৭০/- টাকা। উত্তরা এবং রামপুরা থেকে ছেড়ে যায় প্রচেষ্টা পরিবহন এবং এই বাসের ভাড়া ১০০/- টাকা। যাত্রাবাড়ী থেকে ৮০/- টাকা ভাড়ায় মাওয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ইলিশ, গুনগুন, আজমেরি পরিবহন। মাওয়া ঘাট থেকে ফেরি, স্পীডবোট, ট্রলার অথবা লঞ্চে করে আপনাকে কাওড়াকান্দি অথবা মাঝিকান্দি ফেরি ঘাটে পৌছাতে হবে। এখান থেকে লোকাল বাস অথবা ট্যাক্সিতে করে মাদারীপুরে পৌছাতে পারবেন।
ঢাকা থেকে মাদারীপুরে সড়কপথে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। চন্দ্রা পরিবহন
ভোর ৬:৩০ মিনিটে প্রথম এবং রাত ৯টায় শেষ বাস ছেড়ে যায়।
ভাড়াঃ ১৮০/- টাকা।
ধরনঃ চেয়ার কোচ
কাউণ্টারের ঠিকানাঃ গাবতলি ঢাকা
ফোনঃ ০১৭১৮০৩৩৮৬৬, ০১৭৩৯১৪০৮১৯, ০১৬৭১৯৭৫৭৯৯
২। সোহেল পরিবহন
ভোর ৭:৩০ মিনিটে প্রথম এবং রাত ১০টায় শেষ বাস ছেড়ে যায়।
ভাড়াঃ ১৬০/- টাকা।
ধরনঃ চেয়ার কোচ
কাউণ্টারের ঠিকানাঃ গাবতলি ঢাকা
ফোনঃ ০১৭১২০৪০৭৭৭, ০২-৮০২৩৬৭১
ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭:৪৫ মিনিটে এবং রাত ৮:১৫ মিনিটে মাদারীপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায়।
মাদারীপুরে থাকার জন্য হোটেল ব্যবস্থাপনা বেশ ভাল। এখানে আপনি বিভিন্ন মানের হোটেলে থাকতে পারবেন। এখানে থাকার জন্য হোটেল ও গেস্টহাউজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ
১। জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, ফোনঃ ০৬৬১-৬২০৬৩
২। পলাশ হোটেল, ফোনঃ০১৭১৬১৪৬৫১৮
৩। সৈকত হোটেল, ফোনঃ ০৬৬১-৬১৫০৫, ০১৯১৪৪৬৭২৫৮
১। মন্দিরটির স্থাপত্যশৈলী প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
২। ছবি তুলতে পারেন।
৩। স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে মন্দিরটির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!