অষ্টগ্রাম হাওড়

ধরন: হাওড়
সহযোগিতায়: Nayeem ,Lonely Traveler
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

চারপাশে পানিদ্বারা পরিবেষ্টিত একটি বিশাল জলাভূমি হল অষ্টগ্রাম হাওড় যেখানে দ্বীপের মত কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। এখানে আসলে কিছু মাছ ধরার নৌকা এবং হাওড়ে অবস্থিত গ্রামগুলোই আপনার চোখে পরবে। বর্ষাকাল এখানে বেড়াতে আসার সবচেয়ে ভাল সময়। কিশোরগঞ্জের ছয়টি উপজেলাজুড়ে রয়েছে একটি বিশাল হাওড়। অষ্টগ্রাম হাওড় নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার হাওড়গুলোর সাথে সংযুক্ত হয়েছে। বর্ষাকালে কোন রকম বাধা ছাড়াই আপনি এক হাওড় থেকে অন্য হাওড়ে যেতে পারবেন।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ার চর থেকে ৪০০০/- টাকায় নৌকা ভাড়া করে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলা, মিঠামইন উপজেলা এবং ইটনা উপজেলা ঘুরে দেখতে পারবেন। সবকিছু ঘুরে দেখতে প্রায় আট থেকে নয় ঘণ্টা সময় লাগবে।
হাওড়ে জীবনযাত্রা মোটেই সহজ নয়। বর্ষাকালে হাওড় সর্বদা পানি দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে। এই পানির কারনে হাওড়বাসির নিদারুন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষাকালে এসব হাওড়ের মানুষ নৌকায় করে খুব সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে। এমনকি নৌকার কারনে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারনে বর্ষাকালে স্থানীয়রা বিয়ের আয়োজনও করে থাকে।

তবে বর্ষাকালে হাওড়ের মানুষদের শুধুমাত্র মাছধরার উপর নির্ভর করতে হয় কারন এ সময় কৃষিকাজ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। বছরে শুধুমাত্র একবার শুষ্ক মৌসুমে এখানে চাষের কাজ করা হয় এবং এই চাষের মাধ্যমে প্রাপ্ত শস্যের উপর নির্ভর করে এখানকার পরিবারগুলো সারা বছর চলে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হাঁটাই হল এখানে যোগাযোগের একমাত্র মধ্যম। তাই কোন মৌসুম এখানকার মানুষদের জন্য শ্রেয় তা নির্ণয় করা সত্যিকার অর্থেই কঠিন।   হাওড়ে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে আর তা হলঃ এখানে এক টুকরো শুকনো জায়গা খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন।

হাওড়ে নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানোর সময় এখানকার গ্রামের বাড়িগুলোকে দেখতে বেশ সুন্দর দেখায়। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখলে আপনি সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখতে পাবেন। এখানকার বাড়িগুলো এতটাই ছোট যে স্থান স্বল্পতার জন্য বাথরুম, রান্নাঘর, থাকার জায়গা, আসবাব ও অন্যান্য জিনিসপত্র সবকিছু প্রায় একই জায়গায় রাখা হয়েছে। এমনকি গৃহপালিত পশুরাও এখানকার মানুষদের খুব কাছেই থাকে। শৌচাগারের দুষিত পানি গ্রামের বাড়িগুলোর পাশেই হাওড়ে নিষ্কাশন হয় এবং হাওড়ের পানিতেই এখানকার অধিবাসীরা গোসল করে। এমন কি সেখানকার পানি দিয়ে বাসন ধোঁয়া হয় এবং খাওয়ার পানিও সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয়। হাওড়বাসিদের নলকূপের পানি ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও লৌহ পদার্থ এবং আর্সেনিক মুক্ত হওয়ায় তারা হাওড়ের পানিকেই পছন্দ করে। এক কথায় এখানকার গ্রামের বাড়িগুলো খুবই অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন এবং নোংরা এবং এখানকার অধিবাসীরা এই পরিবেশের সাথেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে।  নৌকায় চড়ে আপনি হাওড়ের মানুষের জীবনযাত্রা খুব সহজেই প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।
অষ্টগ্রামে পৌঁছে আপনি কুতুবশাহী মসজিদ দেখতে যেতে পারেন। অষ্টগ্রাম ও কুলিয়ারচরের মধ্যে প্রতি এক ঘণ্টা অথবা কখনো কখনো দুই ঘণ্টায় লঞ্চ চলাচল করে।


কিভাবে যাবেন

কিশোরগঞ্জে হাওড় দেখতে যাওয়ার একাধিক উপায় আছে। এখানে নিকলী, মিঠামইন, ইটনা তে আপনি হাওড়ের বিশালতা দেখতে পাবেন। তবে অষ্টগ্রামের হাওড় দেখতে যেতে চাইলে আপনাকে নিম্নে প্রদত্ত নির্দেশনা মানতে হবে। হাওড় দেখতে চাইলে আপনাকে নৌকা ভাড়া করতে হবে অথবা লঞ্চে চড়তে হবে। তবে, নৌকা ভাড়া করাই শ্রেয় কারন লঞ্চে সব যাত্রী আপনাকে প্রত্যক্ষ করবে তাই আপনি হাওড়ের সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করতে পারবেন না। কুলিয়ার চর, ভৈরব বাজার এবং বাজিতপুর থেকে আপনি নৌকা ভাড়া করতে পারবেন। তবে, নৌকা ভাড়ার পূর্বে ঠিক করে নিন আপনি কতদুর যেতে চান। কুলিয়ার চরের জিপিএস অবস্থান হল (২৪° ৯’৫.০৩”উ, ৯০°৫৬’২.৬২”পু);

কিভাবে পৌঁছাবেন: কিশোরগঞ্জ জেলা

কিশোরগঞ্জ সদরের অবস্থান ২৪.৪৩৩৩°উ ৯০.৭৮৩৩°পূর্বে। ১৯৩.৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কিশোরগঞ্জ সদরে প্রায় ৫৫৮২৮টি বসতবাড়ি রয়েছে। এই জেলায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্ব জন্মগ্রহন করেছেন। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার (কিশোরগঞ্জ জেলা) উত্তরে নান্দাইল উপজেলা, দক্ষিনে পাকুন্দিয়া এবং কাটিয়াদি উপজেলা, পূর্বে করিমগঞ্জ এবং তাড়াইল উপজেলা পশ্চিমে হোসাইনপুর ও নান্দাইল উপজেলা অবস্থিত। কিশোরগঞ্জ জেলার প্রধান নদী হল নরসুন্দা নদী।

ঢাকা ও কিশোরগঞ্জের মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। জলসিরি
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে চলাচল করে
প্রথম বাস ছাড়ে ভোর ৫টায় এবং শেষ বাস ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৭টায়
ভাড়াঃ ১৩০/- টাকা (পরিবর্তনশীল)

২। নাবিল পরিবহন
ঠিকানাঃ ১৫/১, পুরাতন গাবতলি, মিরপুর, ঢাকা-১২১৮
ফোনঃ ০২-৯০০৭০৩৬, ০২-৯০১১১৪৩

৩। ড্রিম লাইন
ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে কিশোরগঞ্জ চলাচল করে
ফোনঃ ০১৭১১৩৭৭৫৮৬

৪। কিশোরগঞ্জের বোটরিশ বাসস্ট্যান্ড থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
একতা সার্ভিস (লোকাল)
কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরব হয়ে ঢাকার সায়েদাবাদে চলাচল করে
ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ছেড়ে যায়।

৫। ঈশা খাঁ সুপার গেইট লক
কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার সায়েদাবাদে চলাচল করে
ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ছেড়ে যায়

৬। এম কে সুপার
কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের মধ্যে চলাচল করে
ভোর ৬:৫০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬:১০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ছেড়ে যায়

৭। অতিথি
কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের মধ্যে চলাচল করে
ভোর ৬:৪৫ মিনিটে এবং সকাল ৭:২০ মিনিটে দুটি বাস ছেড়ে যায়
আপনাকে আগাম এই বাসের আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
মোবাইলঃ ০১৭১৮৪৮১১৯২ (কিশোরগঞ্জ কাউণ্টার)
০১৯১৯০১৯১৯৭ (টাঙ্গাইল কাউণ্টার)

৮। এশা এন্টারপ্রাইজ
কিশোরগঞ্জ ও চট্রগ্রামের মধ্যে চলাচল করে
দুপুর ১:২০ মিনিটে এবং দুপর ২:২০ মিনিটে দুটি বাস ছেড়ে যায়
আপনাকে আগাম এই বাসের আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
মোবাইলঃ ০১৭১৩৫৭৭৩০৪

কোথায় থাকবেন

কিশোরগঞ্জে থাকার জন্য হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। হোটেল তেপান্তর প্রিন্সেস
জামিরদিয়া মাস্টার বাড়ি, ভালুকা
ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ

২। হোটেল রিভার ভিউ
স্টেশন রোড, কিশোরগঞ্জ

৩। হোটেল শাহিনা (আবাসিক)
স্টেশনরোড, কিশোরগঞ্জ
3. Hotel shahina (Resident)
৪। বাংলাদেশ গেস্ট হাউজ
স্টেশন রোড, কিশোরগঞ্জ

৫। হোটেল গাংচিল (আবাসিক)
স্টেশন রোড, কিশোরগঞ্জ

কি করবেন

হাওড়ের গ্রামগুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এককথায় মনোমুগ্ধকর। হাওড়ের পানিকে স্পর্শ করে মৃদু বাতাস যখন আপনার কপালে আছড়ে পরবে তখন এক অন্যরকম অনুভুতি অর্জন করবেন। এককথায় হাওড়ে ভ্রমনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করবেন আপনি।

খাবার সুবিধা

কিশোরগঞ্জে খাওয়ার জন্য বেশকিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

ভ্রমণ টিপস

হাওড়ে সন্ধ্যার পর অবস্থান না করাই ভাল।

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন

অন্যদের ওয়েবসাইট থেকে

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন