কাপ্তাই লেক

ধরন: হ্রদ
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

কৃত্রিম চমৎকার এই নীল লেকটির আয়তন প্রায় ১১০০০ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করা হলে পানি সংরক্ষণের জন্য পাহাড়ের মধ্যেকার সমতল ভূমি এবং উপত্যকা ভরাট করে এই লেকটি সৃষ্টি করা হয়। বাংলাদেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প কাপ্তাইয়ে অবস্থিত। কর্ণফুলী নদীর উপর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নির্মিত বাঁধ নির্মাণ করা হলে এই লেকটি সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আশেপাশে পাহাড় এবং লেকের পানির নীচ থেকে পাহাড় ও উঁচু ভূমি দেখা যাওয়ায় লেকের সৌন্দর্য বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাঙ্গামাটি এবং কাপ্তাইকে সংযোগকারী সড়কটি পাহাড়ের অভ্যন্তর দিয়ে চলে গিয়েছে এবং এই সড়কে রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছাড়াও বন্যপ্রাণীর দেখা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ সরকারের পর্যটন কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কাপ্তাই ভ্রমনের জন্য আকর্ষণীয় প্যাকেজ দিয়ে থাকে। কাপ্তাই লেকে নৌকা ভ্রমন করে আপনি এখানকার পিকনিক স্পট, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখার পাশাপাশি এখানকার ভৌগলিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

ইংরেজি এইচ বর্ণের আকৃতি বিশিষ্ট কাপ্তাই লেকের দুটি বাহু সুভলং-এর কাছে একটি সংকীর্ণ গিরিসঙ্কট দ্বারা সংযুক্ত যা কর্ণফুলি নদীর গতিপথের একটি অংশ। হ্রদের ডান বাহু অর্থাৎ কাসালং দক্ষিণ দিকে দুটি অন্তঃপ্রবাহী নদী মাইনি ও কাসালং দ্বারা এবং পাশ দিয়ে কর্ণফুলি নদী দ্বারা পুষ্ট। রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই, অর্থাৎ বাম বাহুটি দুটি নদী, উত্তরে চেঙ্গী (বা চিংগ্রী) ও দক্ষিণে রাইনখিয়াং দ্বারা পুষ্ট। কর্ণফুলি নদী তিনটি প্রধান শাখার জন্ম দিয়েছে- একটি রাঙ্গামাটিতে, একটি ধুলিয়াছড়িতে ও অপরটি কাপ্তাইয়ে। রাঙ্গামাটি ও ধুলিয়াছড়ি শাখাদ্বয় বর্তমানে কাপ্তাই বাঁধ দ্বারা সৃষ্ট জলাধারের অধীনে। কাপ্তাই হ্রদ মধ্য কর্ণফুলি উপত্যকার প্রায় সমগ্র অংশ এবং চেঙ্গী, কাসালং ও রাইনখিয়াং নদীর নিম্ন মোহনাসমূহকে নিমজ্জিত করেছে। কাপ্তাই হ্রদের তটরেখা ও অববাহিকা খুবই অনিয়মিত। এর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংস্থানিক (morphometric) ও জলবিজ্ঞানসংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যাদি নিম্নরূপ: পৃষ্ঠদেশের উচ্চতা ৩১.১ মিটার, তলদেশের আয়তন ৫৮,৩০০ হেক্টর, ঘনমান (volume) ৫,২৪,৭০০ ঘন মিটার, মোট বার্ষিক ক্ষরণ ১৭,০৭,০০০ ঘন মিটার, সঞ্চয় অনুপাত ০.৩১, গড় গভীরতা ৯ মিটার, সর্বোচ্চ গভীরতা ৩২ মি, নির্গমদ্বারের গভীরতা ১৫.৫মি, পানি সীমার বাৎসরিক গড় হ্রাসবৃদ্ধি ৮.১৪ মি, বর্ধিষ্ণু মৌসুম ৭৬ দিন এবং ২৫° সে তাপমাত্রায় আপেক্ষিক পরিবাহিতা ১৪৪ মাইক্রো-মোহ্স (µmhos)।

ভূতাত্ত্বিকভাবে কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি অঞ্চলের কাপ্তাই হ্রদের নিম্নাঞ্চল (অর্থাৎ কাপ্তাই নিম্নভঙ্গ) প্রতিবর্তী কর্দমশিলা ও পলিশিলার সঙ্গে প্রধানত হলুদাভ-বাদামি, সূক্ষ্ম থেকে মাঝারি দানাদার, ঘন থেকে তির্যক স্তরিত বেলেপাথরে গঠিত (টিপাম বেলেপাথর স্তরসমষ্টি) এবং ঊর্ধ্বাঞ্চল হলুদাভ-বাদামি, সূক্ষ্ম থেকে মাঝারি দানাদার, উপকৌনিক থেকে উপগলিত, মাঝারি থেকে কম বাছাই, ভারি থেকে ঘন স্তরিত এবং সুরক্ষিত পত্রছাপসমৃদ্ধ মাঝে মাঝে তির্যক স্তরিত বেলেপাথর এবং তার সঙ্গে স্ফটিক দানা, নুড়ি ও কাদা পাথর দ্বারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত (ডুপি টিলা স্তরসমষ্টি)।

সুভলং ও বরকলের আশপাশে অবশ্য হ্রদটি প্রধানত ভুবন স্তরসমষ্টি দ্বারা গঠিত। স্থানীয় লোকজন হ্রদটিকে ঘিরে রাখা প্রতিরক্ষামূলক গাছপালা উজাড় করে ফেলায় এ সব শিলাপাথর বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে সহজেই ক্ষয়িত হচ্ছে। এতে ভূমিধস সংঘটিত হচ্ছে এবং আলগা শিলা পদার্থসমূহ ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নদীবাহিত হয়ে হ্রদে গিয়ে পড়ছে। ফলে হ্রদটি দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নববইয়ের দশকের প্রথম দিকে যখন হ্রদটির বয়স ৩০ বছর, তখনই এর প্রায় ২৫% ভরাট হয়ে এসেছিল।


কিভাবে যাবেন

রাঙ্গামাটিতে আপনি বিভিন্নভাবে পৌছাতে পারেন। রাঙ্গামাটিতে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ হানিফ, ইউনিক, সাউদিয়া, এস আলম, শ্যামলী ইত্যাদি। প্রায় ৬০০/- টাকা ভাড়ায় ৭ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টায় আপনি ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটিতে পৌঁছে যাবেন। শ্যামলী পরিবহনের একটিমাত্র এসি বাস ছাড়া রাঙ্গামাটিতে কোন এসি বাস চলাচল করেনা। এছাড়া আপনি ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে বাসে যেতে পারেন এবং সেখান থেকে বাসে করে রাঙ্গামাটিতে পৌছাতে পারেন। তবে, ঢাকা থেকে বাসে করে সরাসরি রাঙ্গামাটিতে যাওয়াই সহজতর হবে।

কিভাবে পৌঁছাবেন: রাঙ্গামাটি জেলা

চট্রগ্রাম বিভাগের এগারো জেলার অন্যতম রাঙ্গামাটির উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিনে বান্দরবান জেলা, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, এবং পশ্চিমে খাগড়াছড়ি জেলা ও চট্রগ্রাম জেলা অবস্থিত।

ঢাকার সাথে রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ থাকায় আপনি বাসে করে এখানে পৌছাতে পারবেন। আপনার সুবিধার্থে ঢাকা ও রাঙ্গামাটির মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য নিম্নে প্রদান করা হলোঃ
১। শ্যামলী পরিবহন
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ফোনঃ ০২-৭৫৪১০১৯
আরামবাগ কাউণ্টার, ফোনঃ ০২-৭১৯৩৯১০
ফকিরাপুল কাউণ্টার, ফোনঃ ০২-৯৩৩৩৬৪
বাস ছাড়ে সকাল ৯:৩০ মিনিটে
২। এস আলম সার্ভিস
ফকিরাপুল কাউণ্টার, ফোনঃ ০২-৯৩৩১৮৬৪
সকাল ৮টা থেকে ১০:১৫ মিনিট পর্যন্ত বাস ছেড়ে যায়
৩। হানিফ সার্ভিস
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ফোনঃ০১১৯১১২৫০৪৮; বাস ছাড়ে সকাল ৯:৩০ মিনিটে
গাবতলি কাউণ্টার, ফোনঃ০১১৯০৮০৬৪৪৭; বাস ছাড়ে সকাল ৮:৩০ মিনিটে

কোথায় থাকবেন

আপনার সুবিধার্থে রাঙ্গামাটিতে থাকার হোটেল, মোটেল ও রেস্টহাউজগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য নিম্নে প্রদান করা হলোঃ
১। হোটেল গোল্ডেন হিল
ঠিকানাঃ রিজার্ভ বাজার, রাঙ্গামাটি, ফোনঃ ০১৮২০৩০৪৭১৪
২। হোটেল গ্রিন ক্যাসেল
ঠিকানাঃ রিজার্ভ বাজার, রাঙ্গামাটি, ফোনঃ ৬১২০০
৩। হোটেল লেক ভিউ
ঠিকানাঃ রিজার্ভ বাজার, রাঙ্গামাটি, ফোনঃ ৬২০৬৩
৪। হোটেল সুফিয়া
ঠিকানাঃ কাঁঠালতলী, রাঙ্গামাটি, ফোনঃ ৬২১৪৫
৫। পেদা টিংটিং, ফোনঃ ৬২০৮২

কি করবেন

রাঙ্গামাটিতে বেড়াতে আসলে আপনি এখান থেকে বিভিন্ন ধরনের স্থানীয়ভাবে তৈরি সামগ্রী কিনতে পারেন। যেমনঃ গৃহস্থলীর কাজের জন্য বিভিন্ন হাতে তৈরি পণ্য, স্থানীয় আদিবাসীদের হাতে বোনা কাপড় ইত্যাদি।

খাবার সুবিধা

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন

অন্যদের ওয়েবসাইট থেকে

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন