ওসমানী জাদুঘর

ধরন: যাদুঘর
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক (১২ এপ্রিল ১৯৭১-৭ এপ্রিল ১৯৭২) বঙ্গবীর জেনারেল মুহাম্মাদ আতাউল গনি ওসমানীর পৈতৃক নিবাসটিকে বর্তমানে ‘ওসমানী জাদুঘর’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই জাদুঘরটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১২ কিলোমিটার এবং সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জেনারেল ওসমানীর মহান অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই জাদুঘরটির রক্ষনাবেক্ষনের করছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। ১৯৮৫ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি এই জাদুঘরটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ ১৯৮৭ সালের ৪ঠা মার্চ এই জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন। এই জাদুঘরটি নিঃসন্দেহে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রেরনা জোগাবে।

‘নুর মঞ্জিল’ হলো কয়েকটি কক্ষ সমৃদ্ধ একটি টিনশেড ভবন যেটির সামনে রয়েছে একটি চমৎকার চত্বর। জাদুঘরে পৌছাতে হলে আপনাকে মূল ফটক থেকে কয়েক মিটার অতিক্রম করতে হবে। জাদুঘরে ঢোকার মুখেই অভ্যর্থনাকারীদের পাশাপাশি জেনারেল ওসমানীর একটি বিশাল প্রতিকৃতি আপনাকে স্বাগত জানাবে। আপনাকে অভ্যর্থনা কক্ষে রক্ষিত রেজিস্টারে আপনার নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হবে। জাদুঘরের লবিতে বসার সুব্যাবস্থা রয়েছে। এই জাদুঘরের তিনটি গ্যালারীতে জেনারেল ওসমানীর ব্যবহার করা জিনিসপত্র ছাড়াও বেশকিছু ঐতিহাসিক ছবি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। জাদুঘর ভবনের পশ্চিম এবং পূর্ব প্রান্তে জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক এবং সহযোগী তত্ত্বাবধায়কের কক্ষ অবস্থিত।


কিভাবে যাবেন

ওসমানী জাদুঘর সিলেট শহরের ধোপাদীঘিরপাড়ে অবস্থিত। বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সিতে করে আপনি এখানে পৌছাতে পারবেন। বিমানবন্দর থেকে ওসমানী জাদুঘরে পৌছানোর পথে সিলেট শহরের যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্থান আপনাকে অতিক্রম করতে হবে সেগুলোর মধ্যে আছেঃ সিলেট ক্যাডেট কলেজ, মালিনীছড়া চাবাগান, মজুমদারি, আম্বরখানা, চৌহাট্টা, কুমারপাড়া, সুবহানিঘাট, এবং নুরমঞ্জিল। রেলস্টেশন এবং বাসস্ট্যান্ড থেকে এই জাদুঘরে পৌছাতে আপনাকে শাহজালাল সেতু, সুবহানিঘাট এবং নুর মঞ্জিল অতিক্রম করতে হবে। ঢাকা থেকে সিলেটে কিভাবে পৌছাবেন ইতিমধ্যেই উল্ল্যেখ করা হয়েছে। সিলেট শহরে পৌঁছে রিকশা অথবা সিএনজি অটোরিকশায় আপনাকে নাইয়রপুল সড়ক অভিমুখে যাত্রা করতে হবে।

কিভাবে পৌঁছাবেন: সিলেট জেলা

ঢাকা থেকে সিলেটে আপনি সড়কপথে, রেলপথে এবং আকাশপথে পৌছাতে পারেন।

ঢাকা থেকে সিলেটের মধ্যে চলাচলকারি বাসগুলোর মধ্যে আছেঃ
১। গ্রীনলাইন পরিবহনঃ
ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়ঃ সকাল ৮:৩০ মিনিটে, সকাল ১০ টায়, বিকাল ৪:১৫ মিনিটে, বিকাল ৫:৩০ মিনিটে এবং রাত ১২:৩০ মিনিটে; ভাড়াঃ ৮৫০/- টাকা (ভলভো), ১১০০/- টাকা (স্কেনিয়া);
২। শ্যামলী পরিবহনঃ
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ৭১০২২৯১, ০১৯৩৬২৬০২৩;
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৮০৭৫৫৪১, ৭৫১১০১৯, ৭৫৫০০৭১;

৩। হানিফ পরিবহনঃ
পান্থপথকাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ০১৭৩৪০২৬৭০
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭১
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭৩

৪। টি আর ট্র্যাভেলস
৫। সোহাগ পরিবহন

উপরে উল্ল্যেখিত বাসগুলো প্রতিদিন ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে রাত ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকার মালিবাগ রেলগেট, রাজারবাগ এবং সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সিলেটের পথে ছেড়ে যায়। নন এসি এসব বাসের ভাড়া প্রায় ৫০০/- টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া প্রায় ৮০০/- টাকা থেকে ১০০০/- টাকা।

ঢাকা থেকে সিলেটে বাংলাদেশ বিমান, নভো এয়ার, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং রিজেণ্ট এয়ারওয়েজ দ্বিমুখী ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। এসব বিমান সংস্থার একমুখি পথের ভাড়া পড়বে ৩০০০/- টাকা থেকে ৮০০০/- টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০টির অধিক ফ্লাইট ঢাকা থেকে সিলেটে আসা যাওয়া করে।

ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস এবং উপবন এক্সপ্রেস যথাক্রমে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় ছেড়ে যায়। এছাড়া বিকালবেলা নয়া সংযোজিত কালিনী এক্সপ্রেস সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। রেলপথে সিলেটে পৌছাতে ৭ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। এসব ট্রেনের ভাড়া পরবে শোভন শ্রেণীর আসনের জন্য ২৯৫/- টাকা এবং তাপানুকুল প্রথম শ্রেণীর আসনের জন্য ৬৭৯/- টাকা।
ট্রেনের যাত্রার সময়সূচী:
১।কালিনী এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় বিকাল ৪ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ শুক্রবার;
২। পারাবত এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৬:৪০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে দুপুর ১:৩৫ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ৩ টায়; ঢাকায় পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ মঙ্গলবার;
৩। উপবন এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় রাত৯:৫০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় রাত ১০ টায়; ঢাকায় পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেটে বন্ধের দিন নেই তবে ঢাকায় বন্ধের দিনঃ বুধবার;
৪। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ১২ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ৭:৫০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৮:২০ মিনিটে; ঢাকায় পৌঁছে বিকাল ৪ টায়; সিলেট ও ঢাকায় ট্রেনটির কোন বন্ধের দিন নেই;
শ্রেণীভেদে এই ট্রেনগুলোর ভাড়া ৭৫/- টাকা থেকে ১০১৮/- টাকা পর্যন্ত।

কোথায় থাকবেন

সিলেটে থাকার জন্য বেশকিছু ভালমানের হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের বেশীরভাগ মাজার রোড, আম্বরখানা, এবং জিন্দাবাজারে অবস্থিত। এসব হোটেলের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ
১। হোটেল ইস্টার্ন গেইট এন্ড পানাহার রেস্টুরেন্ট।
২। হোটেল গুলশান।
৩। হোটেল দরগা ভিউ।
৪। গ্রিনল্যান্ড হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট।
৫। হোটেল সিটি লিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল।
৬। সুরমা ভ্যালী রেস্ট হাউজ।
৭। হোটেল বাহারাইন রেসিডেনসিয়াল।
৮। হোটেল কুরাইশি রেসিডেন্স।
৯। হোটেল আজমীর।
১০।হোটেল পায়রা।
১১।হোটেল সুপ্রিম।
১২।হোটেল পলাশ।
১৩।হোটেল ওয়েস্টার্ন।
১৪।হোটেল অনুরাগ।
১৫।হোটেল আল-আমীন।
১৬।হোটেল গার্ডেনস ইন।
১৭।হোটেল ফেরদৌস।
১৮।হোটেল পানামা।
১৯।হোটেল গ্রীন।
২০।হোটেল হিলটাউন।
২১।হোটেল রোজভিউ।
২২।হোটেল স্টার প্যাসিফিক।
২৩।হোটেল তাজমহল।

কি করবেন

এই জাদুঘরের গ্যালারীগুলো ঘুরে জেনারেল ওসমানী সম্পর্কে ধারনা লাভ করতে পারেন।
১। জাদুঘরের প্রথম গ্যালারীটি একটি শয়নকক্ষ যেখানে বেশকিছু শো পিস রয়েছে।
২। দ্বিতীয় গ্যালারীটি একটি বৈঠকখানা যেখানে বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র রয়েছে।
৩। তৃতীয় গ্যালারীতে রয়েছে একটি পড়ার টেবিল, চেয়ার এবং বেডস্ট্যান্ড।

খাবার সুবিধা

জাদুঘরের অভ্যন্তরে খাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় আপনাকে আশেপাশে খাবার রেস্টুরেন্টের খোঁজ করতে হবে।

ভ্রমণ টিপস

বৃহস্পতিবার ব্যাতিত সপ্তাহের অন্যান্য সবদিন এই জাদুঘরটি খোলা থাকে। এই জাদুঘরটি দুপুর ৩:৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৫:৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে। জাদুঘরটি পরিদর্শনের জন্য দর্শনার্থীদের কোন প্রবেশ মূল্য দিতে হয়না। জাদুঘরের পক্ষ থেকে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জন্মদিবস (১লা সেপ্টেম্বর), মৃত্যুদিবস (১৬ই ফেব্রুয়ারি), স্বাধীনতা দিবস (২৬শে মার্চ) এবং বিজয় দিবস (১৬ই ডিসেম্বর) পালন করা হয়ে থাকে। সর্বমোট ১১ জন পরিশ্রমী ব্যাক্তি এই মূল্যবান স্থাপনার দেখভাল করছে।

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন

অন্যদের ওয়েবসাইট থেকে

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন