তৈদুছড়া ঝর্ণা

ধরন: জলপ্রপাত / ঝর্ণা
সহযোগিতায়: Nayeem ,Lonely Planet
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর তৈদুছড়া ঝর্ণাটি শিবছড়ি ঝর্ণা নামেও পরিচিত। সবুজ পাহাড়ে ঘেরা খাগড়াছড়ির বৃহত্তম এই ঝর্ণাটিতে এসে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি এখানে ছবি তুলতে পারবেন এবং ট্রেকিং করতে পারবেন। এখানে দুটি ঝর্ণা দেখতে পাবেন। একটি ঝর্ণা থেকে অন্যটিতে হেঁটে যেতে প্রায় আধঘণ্টা সময় লাগবে। কয়েকবছর আগে এখানে দুটি ঝর্ণা আবিষ্কৃত হয়।

দীঘিনালা খাগড়াছড়ি জেলার একটি উপজেলা। ঢাকা কিংবা খাগড়াছড়ি হতে গাড়ী নিয়ে সরাসরি যাওয়া যায় দীঘিনালায়। তৈদুছড়া ভ্রমনের জন্য খাগড়াছড়িতে রাত্রি যাপন না করে দীঘনালায় থাকাই উত্তম। এখানে থাকার জন্য একটি ভাল মানের রেষ্টহাউজ আছে। যোগাযোগ করলে হয়তো আগে থেকেই এটি বুকিং করা সম্ভব, অথবা গিয়েও বুকিং করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বুকিং পাওয়াটা ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিতে হবে। আর একান্ত রেষ্টহাউজ না পেলে এখানকার স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে কোন না কোন একটি থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। গাড়ী নিয়ে দীঘিনালা হতে সামনে এগিয়ে চাপ্পাপাড়া পর্যন্ত যাওয়া যায়। এর পর আর গাড়ী চলার কোন পথ না থাকায় বাকী পথটুকু হেঁটেই যেতে হবে।

দীঘিনালা হতে সব মিলিয়ে তৈদুছড়ি পর্যন্ত পৌছতে প্রায় ৪ ঘন্টা সময় লাগে। নির্ভর করে হাঁটার গতির উপর। সুতরাং সকালে রওয়ানা দিলে অনায়েসেই সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসা সম্ভব। এই আসা যাওয়ার পথটি মোটেও বিরক্তিকর নয়। হাঁটতে হাঁটতে যতটা না ক্লান্তি আপনাকে গ্রাস করবে তার চাইতেও বেশী গ্রাস করবে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নেশা। চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় যে আপনি আসক্ত হবেনই। কেবল দীঘিনালা থেকে তৈদুছড়া নয়, খাগড়াছড়ি প্রবেশের পর হতে আপনার জন্য কেবল বিস্ময় অপেক্ষা করবে। যে দিকেই চোখ যাবে কেবল সবুজ পাহাড়, নীল আকাশ আর সাদা কুয়াশার মত মেঘ আপনাকে মোহাবিষ্ট করে রাখবে।


কিভাবে যাবেন

তৈদুছড়া ঝর্ণা খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় অবস্থিত। খাগড়াছড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে সারাদিনের জন্য প্রায় ১৮০০/- টাকা থেকে ২৫০০/- টাকা ভাড়া দিয়ে একটি চান্দের গাড়ি নিয়ে দীঘিনালায় পৌছাতে পারবেন। এছাড়া আপনি বাসে করেও দীঘিনালায় যেতে পারবেন।

দীঘিনালায় পৌঁছে থানা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে চলে যাবেন। থানা নির্বাহী কর্মকর্তা আপনাকে একজন গাইড দিয়ে সাহায্য করবেন। প্রথমবারের মত দীঘিনালায় গেলে একজন গাইড ছাড়া আপনার পক্ষে তৈদুছড়া ঝর্ণায় পৌঁছানো সম্ভব হবে না।

দীঘিনালায় পৌঁছানোর কোন সরাসরি ব্যবস্থা না থাকায় আপনাকে নিজেই ওখানে পৌছানোর উপায় বের করতে হবে। বর্ষাকালে দীঘিনালায় পৌঁছানোর পথ পিচ্ছিল থাকে তাই আপনাকে সতর্ক হয়ে পথ চলতে হবে। এছাড়া দীঘিনালায় যাওয়ার পথে আপনাকে দুটি পাহাড় বেয়ে উঠতে হবে এবং একটি ঝিরি ও আদিবাসীদের একটি গ্রাম অতিক্রম করতে হবে। এসময় আপনাকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হবে।

কিভাবে পৌঁছাবেন: খাগড়াছড়ি জেলা

ঢাকা থেকে শ্যামলী , হানিফ ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন । ভাড়া নিবে ৫২০ টাকা । শান্তি পরিবহনের বাস দীঘিনালা যায় । ভাড়া ৫৮০ টাকা । এছাড়া BRTC ও সেন্টমার্টিন্স পরিবহনের এসি বাস খাগড়াছড়ি যায়। যোগাযোগঃ

১। সেন্টমার্টিন্স পরিবহন – আরামবাগঃ ০১৭৬২৬৯১৩৪১ , ০১৭৬২৬৯১৩৪০ । খাগড়াছড়িঃ ০১৭৬২৬৯১৩৫৮ ।

২। শ্যামলী পরিবহন – আরামবাগঃ ০২-৭১৯৪২৯১ । কল্যাণপুরঃ ৯০০৩৩৩১ , ৮০৩৪২৭৫ । আসাদগেটঃ ৮১২৪৮৮১ , ৯১২৪৫৪ । দামপাড়া (চট্টগ্রাম) ০১৭১১৩৭১৪০৫ , ০১৭১১৩৭৭২৪৯।

৩। শান্তি পরিবহন- ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির ভাড়া ৫২০ টাকা, দিঘিনালা ৫৮০ টাকা, পানছড়ি ৫৮০ টাকা, মেরুন ৬০০ টাকা, মাইনী ও মারিস্যা ৬৫০ টাকা। সায়দাবাদ থেকে সকাল ৮ টায় একটি গাড়ি খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। রাত ১০ টা থেকে ১১.১৫ পর্যন্ত চারটি গাড়ি যায়। রাত ১০ টার গাড়ি পানছড়ি যায়। রাত ১০.৪৫ এর গাড়ি মাইনী। রাত ১১.১৫ গাড়ি মারিস্যা যায়। সব গুলো গাড়িই সায়দাবাদের সময়ের ১ ঘন্টা আগে গাবতলী থেকে ছেড়ে আসে। সায়দাবাদ – ০১১৯১২১৩৪৩৮। আরামবাগ ( ঢাকা ) – ০১১৯০৯৯৪০০৭ । অক্সিজেন(চট্টগ্রাম) – ০১৮১৭৭১৫৫৫২ ।

চট্টগ্রাম থেকেও খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন । BRTC এসি বাস কদমতলী (চট্টগ্রাম): ০১৬৮২৩৮৫১২৫ । খাগড়াছড়িঃ ০১৫৫৭৪০২৫০৭ ।

কোথায় থাকবেন

১। পর্যটন মোটেলঃ এটি শহরে ঢুকতেই চেঙ্গী নদী পার হলেই পরবে। মোটেলের সব কক্ষই ২ বিছানার। ভাড়াঃ এসি ২১০০ টাকা, নন এসি ১৩০০ টাকা। মোটেলের অভ্যন্তরে মাটিতে বাংলাদেশের মানচিত্র বানানো আছে। যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২০৮৪৮৫।

২। গিরি থেবারঃ এটি খাগড়াছড়ি শহরের কাছে খাগড়াছড়ি ক্যন্টনমেন্টের ভিতরে অবস্থিত। এখানে সিভিল ব্যক্তিরাও থাকতে পারে। সব রুমই শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত। যার মধ্যে ২ টি ভি আই পি রুম, প্রতিটির ভাড়া ৩০৫০ টাকা। ডাবল রুম ভাড়া ২০৫০ টাকা। একটি সিংগেল রুম যার ভাড়া ১২০০ টাকা। যোগাযোগ : কর্পোরেল রায়হান- ০১৮৫৯০২৫৬৯৪।

৩। হোটেল ইকো ছড়ি ইনঃ খাগড়াপুর ক্যান্টর্মেন্ট এর পাশে পাহাড়ী পরিবেশে অবস্থিত। এটি রিসোর্ট টাইপের হোটেল। যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২৬২৫ , ৩৭৪৩২২৫।

৪। হোটেল শৈল সুবর্নঃ ০৩৭১-৬১৪৩৬ , ০১১৯০৭৭৬৮১২।

৫। হোটেল জেরিনঃ ০৩৭১-৬১০৭১।

৬। হোটেল লবিয়তঃ ০৩৭১-৬১২২০, ০১৫৫৬৫৭৫৭৪৬ , ০১১৯৯২৪৪৭৩০।

৭। হোটেল শিল্পীঃ ০৩৭১-৬১৭৯৫।

কি করবেন

খাগড়াছড়িতে বেড়াতে আসলে আপনি এখান থেকে বিভিন্ন ধরনের স্থানীয়ভাবে তৈরি সামগ্রী কিনতে পারেন যেমনঃ গৃহস্থালী কাজের জন্য বিভিন্ন হাতে তৈরি পণ্য, স্থানীয় আদিবাসীদের হাতে বোনা কাপড় ইত্যাদি।

খাবার সুবিধা

খাগড়াছড়িতে খাওয়ার জন্য বেশকিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এখানে কম দামে খাওয়ার জন্য সেরা রেস্টুরেন্ট হল ‘সিস্টেম রেস্টুরেন্ট’। এই রেস্টুরেন্টে অবশ্যই বাঁশ ভাজার স্বাদ নিতে ভুলবেন না।

ভ্রমণ টিপস

খাগড়াছড়িতে মুলত তিন ধরনের মৌসুম দেখা যায়। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে আবহাওয়া ঠাণ্ডা, রৌদ্রোজ্জ্বল এবং শুষ্ক থাকে। এপ্রিল এবং মে মাসে বর্ষা পূর্ববর্তী মৌসুমটিতে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাত সহকারে আবহাওয়া প্রচণ্ড গরম ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকে। জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বর্ষাকালে আবহাওয়া গরম, মেঘলা এবং আদ্র থাকে।

এখানে আসার পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার শারীরিক ফিটনেস বেশ ভাল অবস্থায় রয়েছে। আপনাকে সাথে করে একটি ৪ ফুট লম্বা বাঁশ এবং ভাল মানের ট্রেকিং বুট সাথে রাখতে হবে এবং পানির মধ্যে দিয়ে প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। আপনাকে সাথে করে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বহনের জন্য প্লাস্টিকের ব্যাগ রাখতে হবে। এছাড়া সবসময় সাথে করে ব্যান্ডেট এবং অডমস ক্রিম (মশা তাড়ানোর ক্রিম) রাখুন এবং অন্তত দুই সেট কাপড়, টর্চ লাইট, বাড়তি মোজা এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি বহন করুন।

তৈদুছড়া ঝর্ণা দেখার পাশাপাশি আপনি দীঘিনালার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোও দেখতে পারেন যেমনঃ ঝুলন্ত সেতু, বৌদ্ধ বিহার, রাজা মানিক্কের দীঘি ইত্যাদি। এসব স্থানে আপনি রিকশা অথবা টমটমে করে যেতে পারবেন।

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন

  • খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় সবুজ পাহাড় আর বুনো জঙ্গলের মাঝে অবস্থিত নয়নাভিরাম ঝর্না দুটির নাম তৈদুছড়া ঝর্না, খাগড়াছড়িতে যে কয়টি দর্শনীয় স্থান রয়েছে তৈদুছড়া তাদের মধ্যে অন্যতম।

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন