লোহাগড় মঠ

ধরন: তীর্থযাত্রার স্থান
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

প্রায় সাতশ বছর পুরাতন প্রাচীন লোহাগড় মঠ চাঁদপুর জেলার লোহাগড় গ্রামে ডাকাতিয়া নদীর পাশে অবস্থিত। লোহ এবং গহর নামে দুজন অত্যাচারী ভাই ছিলেন যাদের নামানুসারে এই গ্রামের নাম হয়ে যায় লোহাগড়।

মঠটি কে এবং কবে নির্মাণ করেছিলেন এ ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। তবে, কিছু সূত্র থেকে জানা যায় যে ওই দুই ভাই এই মঠটি নির্মাণ করেছিলেন। শুরুতে এখানে পাশাপাশি পাঁচটি মঠ ছিল তবে বর্তমানে এখানে মাত্র তিনটি মঠ অবশিষ্ট রয়েছে।

সেসময় মানুষজন লোহ এবং গহর সহোদরকে নিয়ে ভীষণ আতঙ্কে থাকতো কারন এই দুই ভাই অনেক অত্যাচারী ছিলেন এবং তারা গ্রামের মানুষের কল্যাণের জন্য কখনোই কিছু করেননি। গ্রামের নারীদের ধর্ষণ করা ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ। মানুষজন এই দুই ভাইয়ের বাড়ির ধারেকাছে যেতে সাহস পেতো না। কথায় আছে লোহ এবং গহরের কাছে তাদের মা দুধ খেতে চেয়েছিল এবং এই অপরাধে তারা তাদের মাকে বাসার কাছে অবস্থিত পুকুরে ডুবিয়ে হত্যা করেছিল।

বর্তমানে টিকে থাকা তিনটি মঠ ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতার। সবচেয়ে লম্বা মঠটি সবচেয়ে সুন্দর যেটির উপরিভাগে নিম্নভাগের চেয়ে অনেক বেশি নকশার কাজ রয়েছে। এই মঠটির উপরিভাগ দেখতে অনেকটা প্যাগোডার উপরিভাগের মত দেখতে। মঠটির উপরে কয়েকটি গর্ত রয়েছে যেখানে টিয়াপাখি বাস করে। মানুষজন মঠগুলোর কাছে খুব কম যাওয়ায় অনেক বছর এগুলো জঙ্গলে ঢেকে ছিল। মানুষজন মনে করতো মঠগুলোতে খারাপ আত্মার আনাগোনা রয়েছে এবং এসব খারাপ আত্মা মানুষকে নিয়ে যায় অথবা হত্যা করে আর এ কারনেই অনেক বছর মানুষজন একা এই মঠের কাছে যাওয়ার সাহস করেনি।


কিভাবে যাবেন

সকাল ৭টা থেকে আরম্ভ করে বিকাল পর্যন্ত এক ঘণ্টা বিরতিতে ঢাকার সদরঘাট থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায়। আপনি এগুলোর যেকোনো একটি লঞ্চে করে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টায় চাঁদপুরে পৌছাতে পারবেন। চাঁদপুরে পৌঁছে যাওয়া এবং আসার জন্য একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে আধ ঘণ্টায় মঠে পৌঁছে যেতে পারবেন। সিএনজি অটোরিকশা চালককে বললেই চলবে যে আপনি লোহাগড় মঠে যেতে চান। তবে সিএনজি ভাড়া এখানে একটু বেশি তাই আপনাকে প্রায় ৪০০/- টাকা থেকে ৫০০/ টাকা ভাড়া দিতে হতে পারে। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশাতে আপনি শেয়ার করেও যেতে পারেন এবং এতে করে অটোরিকশা প্রয়োজনমত বদল করতে পারবেন।

কিভাবে পৌঁছাবেন: চাঁদপুর জেলা

ঢাকা ও চাঁদপুরের মধ্যে নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি লঞ্চে করে চাঁদপুরে পৌছাতে পারবেন। আপনার সুবিধার্থে ঢাকা ও চাঁদপুরের মধ্যে চলাচলকারী কয়েকটি লঞ্চ সম্পর্কে নিম্নে তথ্য প্রদান করা হলোঃ

১। এম ভি সোনার তরী, ছাড়ার সময়ঃ সন্ধ্যা ৭:২০ মিনিট;
২। এম ভি মেঘনার রানী, ছাড়ার সময়ঃ রাত ৮টা;
৩। এম ভি ঝাণ্ডা, ছাড়ার সময়ঃ রাত ৮টা;
৪। এম ভি মিতালী, ছাড়ার সময়ঃ রাত ৯:৪০ মিনিট;
৫। এম ভি ময়ুর-২, ছাড়ার সময়ঃ দপুর ১:৩০ মিনিট;

ঢাকা ও চাঁদপুরের মধ্যে ভোর ৫টা থেকে সকাল ১১টার মধ্যে মেঘনা এক্সপ্রেস, সাগরিকা এক্সপ্রেস এবং চাদপুর কমিউটার ট্রেন চলাচল করে।

কোথায় থাকবেন

চাঁদপুরে থাকার জন্য ছোট হোটেল থাকলেও সেগুলো মোটেও মানসম্মত নয়। আপনার সুবিধার্থে এই জেলায় থাকার জন্য কিছু হোটেল সম্পর্কে তথ্য নিম্নে প্রদান করা হলঃ
১। ভাই ভাই আবাসিক হোটেল;
ঠিকানাঃ তালতলী বাসস্টেশন, চাঁদপুর;
২। হোটেল সকিনা
ঠিকানাঃ নতুন বাজার, চাঁদপুর;
৩। হোটেল অতিথি
ঠিকানাঃ ম্যাটারনিটি রোড, চাঁদপুর;

খাবার সুবিধা

চাঁদপুরে কোথায় খাবেন জানতে এখানে ক্লিক করুন

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন