Gaibandha District
আকর্ষণ সমূহ
তথ্য
প্রাচীন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যে ভরপুর বাংলাদেশের অন্যতম জেলার নাম গাইবান্ধা। মূল ব্রহ্মপুত্র নদীর পাশাপাশি এই জেলা দিয়ে বহমান অন্যান্য নদীগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ তিস্তা নদী, করতোয়া নদী, বাঙালি নদী এবং ঘাঘট নদী। গাইবান্ধা জেলার মোট আয়তন ২১৭৯.২৭ বর্গকিলোমিটার। ১৯৫৮ সালের ২৭শে আগস্ট রংপুর জেলার অধীনে ভবানীগঞ্জ নামক একটি মহাকুমা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৮৭২ সালের শুরুর দিকে ব্রহ্মপুত্র নদী সংলগ্ন পুরো এলাকা ভাঙ্গনের মুখোমুখি হয়। ১৮৭৫ সালের ভবানীগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় গাইবান্ধা। তবে, গাইবান্ধা জেলার নামকরণ নিয়ে নানা রকম কল্পকাহিনীর প্রচলন রয়েছে। যেমনঃ প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে রাজা বিরাটের রাজধানী ছিল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। রাজা বিরাটের প্রায় ৬০০০০ গরু ছিল। এসব গরুর সুরক্ষার জন্য একটি পরিত্যাক্ত স্থানে বিশাল গোশালা নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই গোশালা থেকেই গাইবান্ধা নামটির উৎপত্তি হয়। ১৯৮৪ সালে গাইবান্ধা মহাকুমাকে জেলায় উন্নত করা হয়। সিপাহী বিদ্রোহ থেকে শুরু করে খেলাফত আন্দোলন এমনকি ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বাংলাদেশের প্রায় সকল আন্দোলনে এই জেলা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। গাইবান্ধা জেলায় বেশকিছু প্রতিথজশা ব্যাক্তিত্ব জন্মগ্রহণ করেছেন। যেমনঃ আবু হোসাইন সরকার (যিনি ছিলেন শের-ই-বাংলার প্রথম পছন্দ এবং তিনি ১৯৫৫ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্য মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে পুরো পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন)। এছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার শাহ আব্দুল হামিদ, ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত লেখক ও অভিনেতা তুলশী লাহিড়ী এবং প্রখ্যাত উপন্যাসিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস গাইবান্ধায় জন্মেছিলেন। বাংলাদেশের বেশকিছু ঐতিহাসিক স্থান গাইবান্ধায় অবস্থিত। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছেঃ নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ি, বর্ধন কুঠি, মীরের বাগান জাম-ই মসজিদ, রাজা বিরাটনগর, ভারতখালী কাষ্ঠ মন্দির ইত্যাদি। এই জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে আছেঃ বালাশী ঘাট, ড্রিমল্যান্ড, সরোবর ইত্যাদি। এছাড়া রসমালাইয়ের জন্যও বিশেষ খ্যাতি রয়েছে গাইবান্ধার।
Where to stayগাইবান্ধায় থাকার জন্য কয়েকটি উল্ল্যেখযোগ্য হোটেল সম্পর্কে তথ্য আপনার সুবিধার্থে নিম্নে প্রদান করা হলোঃ ১। হোটেল আল সাইফুল, মোবাইলঃ ০১৯৬২-৬১৫৪১৫, ০১৭৬৪-৯৯০৮২২, ফোনঃ ০৫৪১-৬২০৯০, শহীদ সোহরাওয়ার্দী সড়ক, মধ্যপাড়া, গাইবান্ধা। ২। হোটেল আর রাহমান, শহীদ আনোয়ার হোসেন সড়ক, গাইবান্ধা, ফোনঃ ০৫৪১-৬১৪৮১, মোবাইলঃ ০১৭১৩-২৭০২৮৩, ০১৭১৫-৪৬৪৭৪৮; ৩। হোটেল রাজমহল, ডিবি রোড, বাসস্ট্যান্ড, গাইবান্ধা, ফোনঃ ০১৭৩৭৮০৫৫৬৩;
How to goঢাকা ও গাইবান্ধার মধ্যে বাস চলাচল করে থাকে। ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর, আব্দুল্লাহপুরসহ যেকোনো প্রধান বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে গাইবান্ধায় যাওয়ার টিকেট কাটতে পারবেন।
ঢাকা ও গাইবান্ধার মধ্যে বাস চলাচল করে। আপনার সুবিধার্থে এই পথে চলাচলকারী কয়েকটি বাস সম্পর্কে নিম্নে তথ্য প্রদান করা হলোঃ
১। আলহামরা পরিবহন, গাবতলি, ফোনঃ ০২-৯০০৫৬১২, মোবাইলঃ ০১৭২১-৮০২০৩১
২। নাবিল পরিবহন, গাবতলি, ফোনঃ ৯০০৭০৩৬, ৯০১৩৬৮২
৩। এস আর ট্র্যাভেলস, গাবতলি, ফোনঃ ০২-৮০১১২২৬, কল্যাণপুর, যোগাযোগঃ ০২-৮০১৩৭৯৩, ০১৭১১-৩৯৪৮০১, আবদুল্লাহপুর, যোগাযোগঃ ০১৭১৯৪৪০২৩, উত্তরা, যোগাযোগঃ ০১৫৫২৩১৫৩১৮
৪। শাহ ফতেহ আলী, মহাখালি, যোগাযোগঃ ০১১৯৩২২১০৮৫, উত্তরা, যোগাযোগঃ ০১১৯৩২২১০৮৪
৫। আল হামরা ট্র্যাভেলস, গাবতলি, যোগাযোগঃ ৮৮-০২-৯০০৫৬১২, ০১৭২১-৮০২০৩১