Belonia

ধরন: Area
সহযোগিতায়: Nayeem ,KUSACHI Yasuaki
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার আন্তর্জাতিক সীমান্তের জিরো পয়েন্ট বিলোনিয়ার বাসপাদুয়া এবং ভারতের দক্ষিন ত্রিপুরা জেলায় অবস্থিত। জিরো পয়েন্টে কাটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে। এই স্থানটিকে ফেনী জেলায় অন্তর্গত উত্তর ঘুটুমাও বলা হয়ে থাকে। এই এলাকায় আন্তসীমান্ত কার্যক্রম রুটিন মাফিক পরিচালিত হয়। ভৌগলিক সীমারেখায় আবদ্ধ না থেকে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে বিবাহের ঘটনা যেমন ঘটছে তেমনি দুই দেশের মানুষের মধ্যকার বন্ধুত্ত্বের সম্পর্ক এখনও বিদ্যমান রয়েছে।

আম, কাঁঠাল ও নারিকেল গাছ দিয়ে পরিবেষ্টিত সরকারি আবাসনের উল্টোদিকেই রয়েছে বিএসএফের একটি বর্ডার পোস্ট। দুই দেশকে পৃথক করা মুহুরি নদী ও মুহুরির চরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়মিত টহল দিয়ে থাকে।

একসময় মুহুরি নদীতে বেড়ে ওঠা জলাভুমিতে সবজি এবং আখের চাষ করা হলেও বর্তমানে এই জলাভূমিটি দুই দেশের মধ্যে একটি বিবাদমান স্থান।

আখাউড়া-আগরতলা সড়ক থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে আখাউড়া সীমান্তে গিয়ে বোঝা যায় যে ভারত  এবং বাংলাদেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক অসন্তোষও দূর হবে।

সকাল আনুমানিক ৭ টার দিকে মাছ বোঝাই টেম্পো বাংলাদেশের আখাউড়া থেকে এসে পণ্য খালাস করে চলে যায়। এখানকার ব্যবসা যে কতটা রমরমা তা বোঝা যায় যখন দেখা গেলো শুল্ক মুক্ত ইলিশের শুটকি এখানে প্রতি কেজি ২ ডলারে এবং ছোট মাছের শুটকি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ সেন্টে। ভারতে আমদানি করা অন্য সকল পণ্যের উপর শতকরা ১৫ ভাগ থেকে ৩০ ভাগ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়।

বিগত ২০ বছরের অধিক সময় ত্রিপুরা সরকার বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারের লক্ষ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য নতুন দিল্লির উপর চাপ প্রয়োগ করে আসলেও তা এতোদিনে শুধুমাত্র কথার কথাই রয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মারাঠি কবি অমিতা কোকেটের কবিতার কিছু লাইন মনে পরে যায়ঃ “ আমাদের সম্পর্কের মধ্যকার বুনন অত্যন্ত মজবুত হলেও তা এতোটাই কঠিনভাবে আবদ্ধ যে আমরা নখে ব্যাথা পেয়ে যাই”।

কলকাতা থেকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রায় ২৫,০০০ ফুট উচ্চতায় আগরতলা যেতে সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট। এটিকেই বলা যায় কলকাতা থেকে আগরতলা যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম কেননা বিকল্প সড়কপথে গৌহাটি হয়ে আগরতলা যেতে ২০ ঘণ্টার অধিক সময় লেগে যায়। অনেকেই এই বিকল্প পথে চলাচল করে না। মাঝে মাঝে অনেকের কাছে মনে হয় যে তারা প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হচ্ছেন।

ব্যাঙ্কারদের কাছে এই রাজ্যের কৃষক সমাজের কোন অস্তিত্বই নেই। ত্রিপুরা সরকারের কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সচিব ডঃ জি এস জি আয়ানগারের কাছে জানা গেলো এখানে ব্যয় এবং আয়ের অনুপাত ছিল ২৩ শতাংশ কেননা ব্যাংকগুলো কোন অবস্থাতেই ধার দিতে চাইত না এবং ত্রিপুরার গ্রামাঞ্ছলে ব্যাংকের শাখা থাকাটা এক কথায় বিরল ঘটনা।

সরকার এই বিষয়টি নিয়ে আরবিআই এর সাথে আলোচনা করলেও বিষয়টি এখন পুরোপুরি হিমাগারে চলে গিয়েছে। কিছু কৃষক কেন্দ্র থেকে অনুদান পেয়ে থাকলেও বাকি অনুদান রাজ্যকে অন্যান্য উৎস থেকে যোগাড় করতে হয়। ব্যাংকের মাধ্যমে জুম চাষকারী উপজাতিদের অনুদান দেওয়ার কোন চিন্তা ভাবনা আদৌ ছিল কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শতবর্ষের অধিককাল ধরে চলে আসা নিয়ম কানুন খুব সহজেই মুছে ফেলা যায় না আর সে কারনে এই ব্যপারে কিছু বলার নেই।

আগরতলার সচিবালয়ে গিয়ে কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিঙের কথা মনে পড়ে যায়। এখানে চোখে পড়ল বাদামি মাছিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং দর্শনার্থীরা টেবিল থেকে টেবিলে পিওনদের সাহায্য নিয়ে ধর্না দিয়ে যাচ্ছে। এখানে সিদ্ধান্ত না নেয়াটা যেন  সিদ্ধান্ত নেয়ার চাইতে শ্রেয়। ত্রিপুরার অপেক্ষারো যেন আর শেষ হয় না।


কিভাবে যাবেন

ফেনী জেলায় বাংলাদেশভারত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিলোনিয়া অবস্থিত

কিভাবে পৌঁছাবেন: Feni District

বাংলাদেশের দক্ষিন অংশে অবস্থিত একটি ছোট জেলার নাম ফেনী। ফেনী জেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে চট্রগ্রাম জেলা, দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা ও কুমিল্লা জেলা অবস্থিত।

ঢাকার সাথে ফেনীর সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি ঢাকা থেকে বাসে করে ফেনীতে পৌছাতে পারবেন। ঢাকা ও ফেনীর মধ্যে চলাচলকারী কয়েকটি বাস সম্পর্কে তথ্য আপনার সুবিধার্থে নিম্নে প্রদান করা হলোঃ
১। স্টারলাইন পরিবহন
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, যোগাযোগঃ ০১৯৭৩২৫৯৬৫৩, ০১৯৭৩২৫৯৬২১, ০১৯৭৩২৫৯৭২৪
২। এস আলম পরিবহন
যোগাযোগঃ ০১৮২২৯১৫৫৯৫

ঢাকা ও ফেনীর মধ্যে রেলযোগাযোগও রয়েছে। ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে চলাচলকারী ট্রেনে চড়ে ফেনীতে নেমে যেতে পারবেন। আপনার সুবিধার্থে ঢাকা ও ফেনীর মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনগুলো সম্পর্কে নিম্নে তথ্য প্রদান করা হলোঃ
১। মহানগর গোধূলি
ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়ঃ দুপুর ৩টায়
চট্রগ্রামে পৌছায়ঃ রাত ৯:৩৫ মিনিটে
২। মহানগর প্রভাতি
ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়ঃ সকাল ৭:৪০ মিনিটে
চট্রগ্রামে পৌছায়ঃ দুপর ২:৩০ মিনিটে

কোথায় থাকবেন

ফেনী জেলায় থাকার ব্যবস্থা মাঝারি মানের তাই থাকার ব্যবস্থার উন্নতি করার যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে এখানে। আপনার সুবিধার্থে ফেনীতে থাকার জন্য কিছু হোটেল ও গেস্টহাউজ সম্পর্কে নিম্নে তথ্য প্রদান করা হলোঃ
১। ইদ্রিসিয়া হোটেল
ঠিকানাঃ স্টেশন রোড, ফেনী, ফোনঃ ০১৭১৪২৬৮৬৫৯
২। ফেনী সার্কিট হাউজ
ঠিকানাঃ বিজাসিংহদীঘিরপাড়, মহীপাল, ফেনী, ফোনঃ ০১৭১৩১৮৭৩০৪
৩। জেলা পরিষদ ডাকবাংলো
ঠিকানাঃ জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, ফেনী
ফোনঃ ০৩৩১-৭৩১৮৪

খাবার সুবিধা

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন