ওয়ারীর খ্রিষ্টান সমাধিক্ষেত্রটি “সালাহউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতালের” ঠিক পাশেই অবস্থিত। “বলদা গার্ডেন” থেকে মাত্র এক মিনিটের হাঁটা পথের দূরত্বে অবস্থিত এই সমাধিক্ষেত্রটি সকলের জন্য উন্মুক্ত নয়। শুধুমাত্র আপনার কোন আত্মীয় স্বজন এই সমাধিক্ষেত্রে শায়িত থাকলে আপনি এখানে প্রবেশ করতে পারবেন।
ভালোভাবে লক্ষ্য করলে আপনি খুব সহজেই এই সমাধিক্ষেত্রে দুই ধরনের স্থাপত্যশৈলীর সমাধি দেখতে পাবেন। সমাধিক্ষেত্রের পুরাতন অংশের সমাধিগুলো প্রায় ২০০ বছর থেকে ৩০০ বছর পুরাতন এবং সমাধিগুলোতে গ্রীক অথবা রোমান শৈলীর নকশা পরিলক্ষিত হয়। অপরদিকে, সমাধিক্ষেত্রের অপর অংশের সমাধিগুলো নতুন এবং এগুলো দেখতে এ সময়ের আধুনিক স্থাপনার মত।
প্রায় ৪০০ বছর পুরাতন এই সমাধিক্ষেত্রের ডানপাশে কয়েকটি পাথরে মোড়ানো সমাধি এবং গম্বুজ সদৃশ্য সমাধি দেখতে পাবেন। এ সকল সমাধি প্রায় কয়েকশ বছর পুরাতন এবং এগুলোর বেশীরভাগ বর্তমানে ধ্বংসের পথে রয়েছে। এ সমাধিগুলোর মধ্যে একটি হলো বেঙ্গল আর্মির মেজর জেনারেল হ্যামিল্টন ওয়েচের যিনি ১৮৫৬ সালের ১১ই জুন মৃত্যুবরন করেন। এছাড়া এখানকার প্রাচীন সমাধিগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে ১৭৬৯ সালে মৃত্যুবরনকারী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্যাপ্টেন বোরথনের সমাধি।
এছাড়া এই সমাধিক্ষেত্রে রয়েছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনকালে লালবাগ কেল্লায় সিপাহী বিদ্রোহের সময়ে নিহত সৈনিকদের সমাধি। এখানকার বেশীরভাগ সমাধির নামফলকগুলো পড়া খুবই দুঃসাধ্য ব্যাপার। একটি প্রাচীন স্থান হওয়াতে সরকারের উচিত এই সমাধিক্ষেত্রটি বিলীন হওয়ার পুবেই রক্ষা করতে এগিয়ে আসা। আপনি ছবি দেখে সমাধিক্ষেত্রটির জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারনা লাভ করতে করবেন।
ঢাকার যেকোন প্রান্ত থেকে লোকাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে আপনি বলদা গার্ডেন-এ আসতে পারবেন, যেখানে এই সমাধিক্ষেত্রটি অবস্থিত।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!