Feni Girls Cadet College

ধরন: School / College / University
সহযোগিতায়: Nayeem ,জুনাইদ আলম খান
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ হলো বাংলাদেশের ফেনী জেলায় অবস্থিত মেয়েদের জন্য সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি উচ্চ বিদ্যালয়। ক্যাডেট কলেজগুলো স্বায়ত্তশাসিত আবাসিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সব ধরনের শিক্ষা প্রদান করে থাকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধীনে ন্যাস্ত ক্যাডেট কলেজগুলো কার্যক্রম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এডজুটেণ্ট জেনারেলের সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হয়ে থাকে।

ইতিহাস: ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজটি ছিল মেয়েদের জন্য দেশের একমাত্র ক্যাডেট কলেজ। বাংলাদেশের বাদবাকি নয়টি ক্যাডেট কলেজে ছেলেদের শিক্ষাদান করা হত। নারীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করার জন্য গার্লস ক্যাডেট কলেজের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়েছিল। ২০০২ সালে প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের নিয়োগ দানের ফলে এই প্রয়োজনীয়তা আরো গুরুত্ব লাভ করে।  অবশেষে সরকার ফেনী এবং জয়পুরহাটে দুটি গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। পুঙ্খানপুঙ্খভাবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর পরিত্যাক্ত একই ইংরেজ বিমান ঘাঁটির (১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত) একটি অংশকে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য বেছে নেয়া হয়। ২০০৪ সালের ২৯ শে জুন মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস (এমইএস) প্রকল্পের কাজ আরম্ভ করে। দেশব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে ক্যাডেট কলেজের জন্য ছাত্রী (যাদের ক্যাডেট বলা হয়ে থাকে) নির্বাচনের প্রক্রিয়া আরম্ভ হয় এবং সবচেয়ে ভালো ফল অর্জনকারীদের ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হয়।

ক্যাডেট কলেজের যাত্রার শুরুতে অতি প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা, ফ্যাকাল্টি মেম্বার এবং কর্মচারীদের অন্যান্য ক্যাডেট কলেজ থেকে এখানে নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। ২০০৬ সালের এপ্রিলে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রথম ব্যাচ যোগদান করে। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীতে ৫০ জন করে মোট ১০০ জন ছাত্রী (ক্যাডেট) নিয়ে ২০০৬ সালের ১৫ই এপ্রিল ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ যাত্রা আরম্ভ করে। ২০০৬ সালের ৭ই জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক অনারম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধানগন, উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা, বিশিষ্টজনেরা, কলেজের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং ক্যাডেটরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজনীয় কয়েকটি স্থাপনা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

উদ্দেশ্য: মহৎ শিক্ষা ও যথোচিত জীবন

ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ এলাকায় রয়েছে অনেক কিছু। প্রায় ৪৯.৫ একর (২০০,০০০ বর্গমিটার) জায়গার উপর স্থাপিত এই কলেজের ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে একাডেমিক ব্লক, হাউস, ক্যাডেট মেস, মসজিদ, মিলনায়তন, কলেজ হাসপাতাল, কলেজ পাঠাগার, প্রশাসনিক ভবন, ক্যাডেট ক্যান্টিন, খেলার মাঠ, বাস্কেটবল কোর্ট এবং একটি ড্রিল গ্রাউণ্ড।

বিনোদন: ক্যাডেট কলেজের প্রতিটি হাউসেই রয়েছে টিভি, সংবাদপত্র, পিরিয়ডিকালস এবং সঙ্গীত চর্চার নানা ধরনের যন্ত্রপাতি। হাউসের অভ্যন্তরে গেমস রুমে টেবিল টেনিস, ক্যারাম, দাবা এবং স্ক্রাবল খেলার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ক্যাডেটরা হাউস লাইব্রেরিতেও বই পড়ে সময় কাটাতে পারে। বিশেষ বিশেষ বৃহস্পতিবারে ক্যাডেট কলেজের মিলনায়তনে সিনেমা দেখার আয়োজন করা হয়ে থাকে। ক্যাডেট কলেজের প্রতিটি শ্রেণী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় পরিবেশনা করে থাকে এবং এসব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কলেজের কর্মকর্তা এবং ফ্যাকাল্টি মেম্বারেরা সপরিবারে আমন্ত্রিত হয়ে থাকেন। সেই সাথে প্রতিটি টার্মের শেষে হাউসগুলোও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করে থাকে। ইচ্ছুক ক্যাডেটদের জন্য ক্যাডেট কলেজে রয়েছে সঙ্গীত এবং নাচ শেখার ব্যবস্থা। প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রতিটি ক্যাডেটের সুপ্ত প্রতিভা বের করে আনা হয়। বিশেষ বিশেষ উপলক্ষ যেমনঃ বাংলা নববর্ষ, রবীন্দ্র এবং নজরুল জয়ন্তী ইত্যাদি নানা ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে পালন করা হয়ে থাকে।


কিভাবে যাবেন

বাংলাদেশের প্রধান মহাসড়ক অর্থাৎ ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কটি ফেনীর উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। ঢাকা থেকে ১৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফেনীতে বাসে করে যেতে সময় লাগবে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা এবং চট্রগ্রাম থেকে ফেনীতে পৌছাতে সময় লাগবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। এছাড়া ঢাকা থেকে চট্রগ্রামগামী ট্রেনে করেও ফেনীতে পৌছাতে পারবেন।

কিভাবে পৌঁছাবেন: Feni District

বাংলাদেশের দক্ষিন অংশে অবস্থিত একটি ছোট জেলার নাম ফেনী। ফেনী জেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে চট্রগ্রাম জেলা, দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা ও কুমিল্লা জেলা অবস্থিত।

ঢাকার সাথে ফেনীর সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি ঢাকা থেকে বাসে করে ফেনীতে পৌছাতে পারবেন। ঢাকা ও ফেনীর মধ্যে চলাচলকারী কয়েকটি বাস সম্পর্কে তথ্য আপনার সুবিধার্থে নিম্নে প্রদান করা হলোঃ
১। স্টারলাইন পরিবহন
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, যোগাযোগঃ ০১৯৭৩২৫৯৬৫৩, ০১৯৭৩২৫৯৬২১, ০১৯৭৩২৫৯৭২৪
২। এস আলম পরিবহন
যোগাযোগঃ ০১৮২২৯১৫৫৯৫

ঢাকা ও ফেনীর মধ্যে রেলযোগাযোগও রয়েছে। ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে চলাচলকারী ট্রেনে চড়ে ফেনীতে নেমে যেতে পারবেন। আপনার সুবিধার্থে ঢাকা ও ফেনীর মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনগুলো সম্পর্কে নিম্নে তথ্য প্রদান করা হলোঃ
১। মহানগর গোধূলি
ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়ঃ দুপুর ৩টায়
চট্রগ্রামে পৌছায়ঃ রাত ৯:৩৫ মিনিটে
২। মহানগর প্রভাতি
ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়ঃ সকাল ৭:৪০ মিনিটে
চট্রগ্রামে পৌছায়ঃ দুপর ২:৩০ মিনিটে

কোথায় থাকবেন

ফেনী জেলায় থাকার ব্যবস্থা মাঝারি মানের তাই থাকার ব্যবস্থার উন্নতি করার যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে এখানে। আপনার সুবিধার্থে ফেনীতে থাকার জন্য কিছু হোটেল ও গেস্টহাউজ সম্পর্কে নিম্নে তথ্য প্রদান করা হলোঃ
১। ইদ্রিসিয়া হোটেল
ঠিকানাঃ স্টেশন রোড, ফেনী, ফোনঃ ০১৭১৪২৬৮৬৫৯
২। ফেনী সার্কিট হাউজ
ঠিকানাঃ বিজাসিংহদীঘিরপাড়, মহীপাল, ফেনী, ফোনঃ ০১৭১৩১৮৭৩০৪
৩। জেলা পরিষদ ডাকবাংলো
ঠিকানাঃ জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, ফেনী
ফোনঃ ০৩৩১-৭৩১৮৪

খাবার সুবিধা

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন