বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাধীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় অবস্থিত। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম বরিশালের রহমতগঞ্জ গ্রামে। ১৯৬৭ সালের ৫ অক্টোবার তিনি পাকিস্তানের কাকুলিস্তান মিলিটারি একাডেমীতে যোগদান করেন। ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি কমিশন লাভ করেন। মুক্তিবাহিনীর ৭ নং সেক্টরে তিনি একজন কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহানন্দা নদীর কাছে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা ভেদ করতে গিয়ে তিনি শহীদ হন। ১৯৭১ সালে সর্বচ্চ ত্যাগ শিকারের কারনে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করে। ঢাকা সেনানিবাসের মূল ফটক তাঁরই নামে রাখা হয়েছে যা কিনা জাহাঙ্গীর গেইট নামে পরিচিত। তাঁকে সোনা মসজিদ প্রাঙ্গনে সমাহিত করা হয়।
ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাওয়ার উপায় ইতিমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌঁছে আপনি বাস অথবা সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে সেখানে পৌছাতে পারেন।
ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দূরত্ব ৩১৯.৪ কিলোমিটার (ভায়া রাজশাহী)। আপনি সড়কপথ এবং রেলপথে সেখানে পৌছাতে পারেন।
ঢাকা থেকে বিভিন্ন বাস যেমনঃ হানিফ এন্টারপ্রাইজ, মডার্ন এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিভিন্ন জেলা ও শহরে বাস ছেড়ে যায়। মূলত এখান থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যই মূলত তিন ধরনের বাস ছেড়ে যায়, যেসব হলঃ গেইট লক, সরাসরি ও লোকাল সার্ভিস। এখান থেকে অন্যান্য রুটে চলাচলকারী বাস সার্ভিসগুলোর মধ্যে আছেঃ নবাবগঞ্জ-শিবগঞ্জ, নবাবগঞ্জ-নওগাঁ, নবাবগঞ্জ-নাচোল, নবাবগঞ্জ-রহানপুর। সোনা মসজিদ থেকে রাজশাহী প্রতিদিন সকাল ৭.১৫ মিনিট থেকে বিকাল ৫.১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রতিদিন এক ঘণ্টা পর পর চলাচল করে। এছাড়া বিআরটিসি বাস নবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় চলাচল করে। এখানে দুইটি বাস টার্মিনালের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাস টার্মিনাল এবং অপরটি ঢাকা বাস টার্মিনাল।
অতীতে নদী পথই ছিল পরিবহনের প্রধান মধ্যম। এখান থেকে বিভিন্ন জেলায় পরিবহনের জন্য পদ্মা নদী, মহানন্দা নদী, পাগলা নদী, মরাগঙ্গা নদী ও কিছু বিল ব্যাবহার করা হত। ফারাক্কা বাঁধের কারনে পদ্মা নদীর পানি কমে যাওয়াতে নদীপথের জনপ্রিয়তা কমে যায়। তবে এখনও এই জেলার বিভিন্ন অংশ থেকে নদী পথে মাল পরিবহন করা হয় যেমন এই জেলার পশ্চিম এবং পূর্ব অংশ থেকে নদী পথই মাল পরিবহনের একমাত্র ভরসা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রোহানপুর এবং রাজশাহীর সাথে রেল যোগাযোগ ব্যাবস্থা খুবই সীমিত। এই জেলার ভেতর দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক রেল লাইন ভারতের পশিমবঙ্গের মালদায় চলে গেছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্টেশন যেমনঃ নবাবগঞ্জ সদর, আমনুরা, নাচোল, নিজামপুর, রোহানপুর থেকে লোকাল ট্রেন রাজশাহী ও দেশের অন্যান্য অংশে যাতায়াত করে। তাছাড়া নবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী পর্যন্ত একটি শাটল সার্ভিস চলাচল করে। আপনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী পৌঁছে দেশের যেকোনো প্রান্তে আন্ত নগর ট্রেনে যাতায়াত করতে পারেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে থাকার জন্য শহরে অনেক হোটেল আছে। যেমনঃ
১। হোটেল রোজ
আনোয়ার হোসেন আনু,
স্টেশন রোড, (মহনন্দা বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন) ,লাখেরাজপাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর।
ফোনঃ ০১৭৬১৮৫৫৪৭১
২। লাল বোডিং
মো: সেনটু মিঞা, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ফোনঃ ০১৭১৮২৭৯৮৪১
৩। হোটেল আল নাহিদ
আলহাজ রফিকুল ইসলাম
শান্তিমোড়, আরামবাগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ফোনঃ ০১৭১৩৩৭৬৯০২
৪। হোটেল স্বপ্নপুরী
মো: বাবুল হাসনাত দুরুল,
আরামবাগ মোড়, বিশ্ব রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ফোনঃ ০১৭১১৪১৬০৪১
৫। নবাবগঞ্জ বোডিং
এ্যড: কাশেম মিঞা
হাসপাতাল রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ফোনঃ ০১৭১৫১৬৭৬৪৬
৬। হোটেল রংধনু
মোসারফ হোসেন
লাখেরাজ পাড়া, মহনন্দা বাসষ্ট্যান্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ফোনঃ ০১৭১২৩৩৯৬৮৭
১। সমাধির ছবি তুলতে পারেন।
২। সমাধিতে ফুল দিয়ে এই বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন।
আপনি কাছাকাছি খাবার রেস্টুরেন্ট অথবা ফাস্ট ফুডের দোকান খুঁজতে পারেন অথবা সাথে করে খাবার নিয়েও যেতে পারেন।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!