বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান নভোথিয়েটার

ধরন: Theatre
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

পূর্বে ভাষানী নভোথিয়েটার নামে পরিচিত এই নক্ষত্রশালাটি ২০০৪ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় কতৃক জনগনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।  ৫.৪৬ একর জমির উপর নির্মিত এই নভোথিয়েটারের আধ্মাপনযোগ্য গম্বুজটি ২১ মিটার লম্বা এবং ৩ মিটার চওড়া। এটির ধারণক্ষমতা ২৭৫ জন। স্থপতি আলী ইমাম এই নক্ষত্রশালাটির নকশা করেন।

সমাজ থেকে কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাস দূর করে মানুষের মনে বিশেষ করে ছাত্রসমাজের সামনে ইতিবাচক বৈজ্ঞানিক ধ্যান ধারনা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বিজ্ঞান শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নভোথিয়েটারকে। ঢাকার তেজগাঁও এর বিজয় স্মরনীতে বিজ্ঞান ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় প্রায় ২২০৯৬ বর্গমিটার জায়গার উপর প্রতিষ্ঠা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নভোথিয়েটার। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১২৩১.২৭ মিলিয়ন টাকা ব্যয়ে এই নভোথিয়েটারটি নির্মিত হয়। নক্ষত্রশালাটির জন্য জাপান, আমেরিকা, কোরিয়া, ফ্রান্স, ইটালি এবং ভারত থেকে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়। এই নভোথিয়েটারে রয়েছে আকর্ষণীয় সিমুলেটর রাইড, ৫ডি মুভি থিয়েটার, ৫ডি ইণ্টেরিয়েকটিভ এডুটেইনমেণ্ট সিমুলেটর, গ্রহ এবং সৌরজগতের প্রতিরূপ, বিজ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল প্রদর্শনী এবং বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের প্রতিকৃতি। এছাড়াও এখানে রয়েছে ১৫০ আসন বিশিষ্ট আধুনিক মিলনায়তন, ৫০ আসনের কনফারেন্স কক্ষ, হাইড্রলিক লিফট, র‍্যাম্প এবং প্রায় ১০০ গাড়ির ধারনক্ষমতা সম্পন্ন ভু-গর্ভস্থ পারকিং ব্যবস্থা।

নক্ষত্রশালার গম্বুজে পৃথিবী এবং নীল আকাশকে ফুটিয়ে তোলা হয়। সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে নির্মিত এখানকার থিয়েটারে দর্শকরা ত্রিমাত্রিক পরিবেশে মহাশূন্যে হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রহে যাওয়ার অনুভুতি অর্জন করবেন। থিয়েটারের বাঁকানো ছাদে আকাশ এবং গ্রহ নক্ষত্রকে ঘূর্ণয়মান অবস্থায় দেখানো হয় যা কিনা ১২০ ডিগ্রী কোণে একটি বড় পর্দায় প্রতিফলিত হয়ে থাকে।

এই নক্ষত্রশালায় তিন ধরনের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা আছে। ‘অনন্তের পথে যাত্রা’ নামক প্রামাণ্যচিত্রে নক্ষত্র, গ্রহ এবং মহাশূন্যের অন্যান্য বস্তুকে বাস্তবিক অর্থে ফুটিয়ে তোলা হয়। ‘এই আমাদের বাংলাদেশ’ নামক প্রামাণ্য চিত্রে দেখানো হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ, চার হাজার বছর পূর্বে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে অবস্থিত গিরিখাদ, উত্তর আমেরিকায় আদি মানুষের স্থায়ী হবার বর্ণনা। দর্শকদের শো দেখার জন্য গম্বুজের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়না কেননা প্রায় ১৫০টি প্রোজেকটরের মাধ্যমে দেখানো বর্ণনায় দর্শকরা মহাশূন্যে ভ্রমনের অনুভুতি পাবেন। সম্প্রতি এই নক্ষত্রশালায় একটি নতুন ক্যাপসুল সিমুলেটর এবং স্মার্ট স্টেপ ফ্লোর সংযোজিত হয়েছে।

এখানে যা দেখানো হয়ে থাকেঃ

এই থিয়েটারে দুটি ভিন্ন ধরনের প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। প্রথমটির নাম ‘অনন্ততার পথে যাত্রা’ এবং দ্বিতীয়টির নাম ‘এই আমাদের বাংলাদেশ’। প্রথম প্রামাণ্য চিত্রে মহাশূন্য, সূর্য এবং গ্রহদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। দ্বিতীয় প্রামাণ্য চিত্রে বাংলাদেশের প্রকৃতি, ঐতিহ্য এবং পল্লী জীবনচিত্র কে ফুটিয়ে তোলা হয়।


কিভাবে যাবেন

ঢাকা শহরের যেকোনো স্থান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় খুব সহজেই এই নভোথিয়েটারে পৌছাতে পারবেন। এছাড়া বাসে করে ফার্মগেট পর্যন্ত এসে হেঁটেও পৌঁছে যেতে পারেন এখানে।

কিভাবে পৌঁছাবেন: ঢাকা জেলা

কোথায় থাকবেন

খাবার সুবিধা

ঢাকা শহরে কোথায় খাবেন, সে পেইজটি দেখুন। দেখতে ক্লিক করুন

ভ্রমণ টিপস

নিষেধাজ্ঞাঃ
• থিয়েটারের ভেতর খাবার নিয়ে প্রবেশ করা যাবেনা।
• শো চলার সময় ছবি তোলা এবং কোন ধরনের লাইট জ্বালানো নিষেধ।
• শো চলাকালীন কেউ থিয়েটারে প্রবেশ করতে পারবে না।

টিকেটের মূল্য:
থিয়েটারের প্রবেশমুখে উত্তরদিকে ২টি এবং দক্ষিনদিকে ২টি সহ মোট ৪টি টিকেট কাউণ্টার রয়েছে।
এখানে প্রবেশমূল্য ৫০/- টাকা তবে দুই বছরের নীচের বয়সের শিশুরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবে।
থিয়েটারের অভ্যন্তরে ‘সিমুলেটর রাইড’ নামে একটি বিশেষ ধরনের রাইড আছে। এটিতে চড়তে হলে ৫/- টাকা দিয়ে টিকেট কিনতে হবে।
শো এর ১ঘণ্টা পূর্বে টিকেট বিক্রি শুরু হয়।

নিয়মিত শো এর সময়সূচী:
শনিবার থেকে বৃহস্পতিবারঃ সকাল ১০.৩০ মিনিট, দুপুর ১২টা, দুপুর ২টা, দুপুর ৩.৩০ মিনিট, বিকাল ৫টা এবং সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট
টিকেট সংগ্রহের সময়সূচীঃ সকাল ১০টা, সকাল ১০.৩০ মিনিট, দুপুর ১২টা, দুপুর ২টা, দুপুর ৩.৩০ মিনিট, বিকাল ৫টা
শুক্রবারঃ সকাল ১০.৩০ মিনিট, দুপুর ১২টা, দুপুর ২টা, দুপুর ৩.৩০ মিনিট, বিকাল ৫টা এবং সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট
বন্ধের দিনঃ বুধবার

রমজান মাসে শো এর বিশেষ সময়সূচীঃ
শনিবার থেকে বৃহস্পতিবারঃ সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা, দুপুর ২টা
শুক্রবারঃ সকাল ৯টা, সকাল ১১টা, দুপুর ২.৩০ মিনিট
বন্ধের দিনঃ বুধবার
সকল সরকারি ছুটির দিনে থিয়েটারটি বন্ধ থাকে।

পারকিং:
এই থিয়েটারে ভু-গর্ভস্থ পারকিং এর ব্যবস্থা আছে। পারকিং এর মূল্য হলঃ
বাসের জন্য ৩০/- টাকা
কারের জন্য ১০/- টাকা
মোটর সাইকেলের জন্য ৫/- টাকা

বাথরুমের সুবিধাঃ
থিয়েটারের নীচতলার পশ্চিমপ্রান্তে পুরুষদের জন্য ৮টি এবং মহিলাদের জন্য ৮টি পৃথক টয়লেট রয়েছে।

নিরাপত্তা এবং অগ্নি প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা:
বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি অগ্নিপ্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা রয়েছে।

ওয়েবসাইটঃ http://www.novotheatre.gov.bd/

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন

অন্যদের ওয়েবসাইট থেকে

  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকার বিজয় সরণী এলাকায় ৫.৪৬ একর জমির উপর ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের একমাত্র প্ল্যানিটেরিয়াম ‘‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার।’’

  • Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman Novo Theatre is a planetarium on Bijoy Sharani Avenue of Tejgaon area in Dhaka, Bangladesh. The theater opened to public on 25th September 2004. It was previously named Bhashani Novo Theatre.

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন