বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন চিনি কল হল কেরু এন্ড কোম্পানি। প্রায় ১০৭৪ একর জমির উপর অবস্থিত এই চিনিকলটি প্রায় ৮৩০০ একর আবাদি জমিতে আখের চাষ করে থাকে। এই চিনিকলে প্রায় ৫০০০ মেট্রিকটন চিনি উৎপাদনের জন্য ৭০,০০০ মেট্রিকটন থেকে ৭৫,০০০ মেট্রিকটন আখ মাড়াই করা হয়ে থাকে। বর্তমানে ফলনের মন্দার কারনে চাষিরা আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। তবে, লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে কেরু এন্ড কো প্রায় ১২,০০০ একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে।
রাজধানী ঢাকা ও খুলনার মধ্যে দিন ও রাতে নিয়মিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং নন এসি বাস চলাচল করে। এই রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ সোহাগ পরিবহন, ঈগল পরিবহন, একে ট্র্যাভেলস, হানিফ পরিবহন ইত্যাদি। এসব বাসে ভ্রমন করতে ভাড়া দিতে হবে প্রায় ৫০০/- টাকা এবং ঢাকা থেকে খুলনায় পৌছাতে প্রায় ৭ ঘণ্টা সময় লাগবে।
এছাড়া যশোর থেকেও খুলনার উদ্দেশ্যে বাস চলাচল করে। যশোর থেকে খুলনায় প্রায় একঘণ্টায় ৫০/-টাকা ভাড়ায় পৌছাতে পারবেন।
অন্য জেলার চেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার পরিবহন ব্যবস্থা ভাল। আপনি মোটর চালিত যানে ৩০ মিনিটের মধ্যেই চুয়াডাঙ্গার যেকোনো উপজেলায় পৌছাতে পারবেন। তবে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় আসতে হলে সময় লাগবে ৪ ঘণ্টা থেকে ৫ ঘণ্টা। দীর্ঘপথে ভ্রমনের জন্য এই জেলার মানুষ প্রধানত বাস এবং ট্রেন ব্যবহার করলেও স্থানীয়ভাবে রিকশা এবং মানবচালিত বাহনে চলাচল করে। তবে ব্যাক্তিগতভাবে এই জেলার মানুষেরা সাইকেল এবং মোটরসাইকেল ব্যবহার করে। এছাড়া পণ্য পরিবহনের জন্য নসিমন নামক বাহন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
ঢাকা থেকে সড়কপথে বাসে করে সরাসরি চুয়াডাঙ্গায় পৌছাতে পারবেন। ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গায় চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
• দর্শনা ডিলাক্স
ফোনঃ ৯০১০৩০৬, ০১৭১২৫৫২২৭২, ০১৭১২৪১৭৭৬৬
• জে আর পরিবহন
ফোনঃ ০১৭১১১৭৫৫৫১, ০১৭১৭৬৫৭৭৯৯
• এস এম পরিবহন
ফোনঃ ০১৭৩৪৭২৭৩৯২
ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গার রেলপথে যোগাযোগ রয়েছে। চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে আপনি চুয়াডাঙ্গায় আসতে পারবেন। চিত্রা এক্সপ্রেস সোমবার ছাড়া প্রতিদিন ঢাকা থেকে খুলনায় যাতায়াত করে। ট্রেনের সময়সূচী এবং ভাড়া সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন
http://www.railway.gov.bd/chuadangaschedule.asp
একটি চমৎকার জেলা হওয়া সত্ত্বেও চুয়াডাঙ্গায় থাকার ব্যবস্থা খুব একটা ভাল নয়। এই জেলায় থাকার জন্য উল্ল্যেখ করার মত কোন হোটেল নেই। এখানে থাকার জন্য কিছু হোটেল থাকলেও সেগুলোর সেবার মান আপনার প্রত্যাশা নাও পুরন করতে পারে।
১। সানড্রিয়ান হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট
মো: শওকত হোসেন
রূপসা সিনেমা হল পাড়া, চুয়াডাঙ্গা
ফোনঃ ০১৯১৯৯৭০৩৫৫
২। হোটেল অবকাশ (আবাসিক)
প্রোঃ আবু মোতালেব জেয়ার্দার
শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, চুয়াডাঙ্গা।
ফোনঃ ০৭৬১-৬২২৮৮, ০১৭১৬৯৩৬২০১
৩। হোটেল সোনার বাংলা
মো: শহিদুল হক
দর্শনা রেল বাজার, চুয়াডাঙ্গা
ফোনঃ ০১৭১৪৮১২৫২৭
৪। হোটেল সুরমা
আব্দুল খালেক
দর্শনা রেল বাজার, চুয়াডাঙ্গা
ফোনঃ ০১৭১১৯৩৯৬৯৭
৫। হোটেল আল-আমীন
আব্দুল মতিন ভুইঁয়া
দর্শনা রেল বাজার, চুয়াডাঙ্গা
ফোনঃ ০১৭১৫৪৯৯৬৭০
৬। হোটেল আল-মেরাজ
হারুন-উর-রশিদ
মুক্তিপাড়া, চুয়াডাঙ্গা
ফোনঃ ০১৭২১৬৫৬৪৪৯
৭। অন্তুরাজ আবাসিক হোটেল
সিদ্দিক জামান নান্টু
রেল স্টেশনের পশ্চিম দিকে, চুয়াডাঙ্গা
ফোনঃ ০৭৬১৬২৭০২
৮। প্রিন্স আবাসিক হোটেল
মোছা; জিন্নাতুননেছা
ফেরীঘাট রোড, চুয়াডাঙ্গা
ফোনঃ ০৭৬১৬২৩৭৮
৯। হোটেল সালাউদ্দিন
মো: হামিদুল হক
দর্শনা রেল বাজার, চুয়াডাঙ্গা
১০। হোটেল অবসর
মোছা; সাহারজান খাতুন
শহীদ আবুল কাসেম সড়ক, চুয়াডাঙ্গা
ফোনঃ ০৭৬১৬২৪০৫
১১। শয়ন বিলাস আবাসিক হোটেল
এ এন এম আরিফ এন্ড ব্রাদার্স
শহীদ আবুল কাসেম সড়ক, চুয়াডাঙ্গা
ফোনঃ ০৭৬১৬৩৭৭৮
১২। খান আবাসিক হোটেল
মো: আনিছুজ্জামান খাঁন
খান সুপার মার্কেট জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা
ফোনঃ ০১৭১৮৬৬১৫১৩
১৩। মিজান আবাসিক হোটেল
মো: ইব্রাহিম প্রামানিক
আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা
1. এখানকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারেন যেমনঃ নীলকুঠি, ঠাকুরপুর মসজিদ, ঘোলদাড়ি জামে মসজিদ ইত্যাদি।
2. এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
3. এছাড়া জীবননগর উপজেলায় কাশীপুর জমিদারবাড়ি দেখে আসতে পারেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় খাওয়ার ব্যবস্থা বেশ উন্নত। তাই এখানে মজাদার নানা পদের খাবারের স্বাদ নেওয়ার জন্য রেস্টুরেন্ট খুঁজে পেতে আপনার সমস্যা হবে না। এছাড়া আপনি যে হোটেলে উঠবেন সেখানেও খেতে পারবেন।
আপনি চুয়াডাঙ্গা শহরে অবস্থিত একটি ছোট মার্কেটে যেতে পারেন এবং এখান থেকে স্থানীয়ভাবে তৈরি নানা ধরনের সামগ্রী কিনতে পারবেন।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!