হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র

ধরন: প্রাকৃতিক সম্পদ
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড নামে পরিচিত এই গ্যাসক্ষেত্রটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অধীনে পেট্রোবাংলার একটি সহযোগি সংগঠন। এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে দেশে প্রাকৃতিক ও খনিজ গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়।

১৯৫৫ সালে তদানিন্তন পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (পিপিএল) প্রাকৃতিক গ্যাসের খোঁজে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সিলেট জেলার জৈন্তাপুর থানার অধীন হরিপুর নামক গ্রামে খনন কাজ শুরু করে এবং একই বছর কূপ খনন করার সময় দেশে প্রথমবারের মত প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মেলে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অতিরিক্ত উচ্চচাপের কারনে সৃষ্ট বিস্ফোরণের কারনে দেশে খনন করা প্রথম কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের চেষ্টা সফল হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে হরিপুরে ৬টি কূপ খনন করা হয় যেগুলোর মধ্যে ৩ নং ও ৬ নং কূপ দুটি সক্রিয় থাকলেও বাকি কুপগুলোকে বিভিন্ন যান্ত্রিক কারনে পরিত্যাক্ত করতে হয়েছিল। হরিপুরের মাটির নীচের চারটি স্তর হলঃ টিপাম, উপরের বোকাবিল, দ্বিতীয় বোকাবিল এবং নীচের বোকাবিল।

স্বাধীনতার পর ১৯৮৬ সালে হরিপুরে বহুল আলোচিত সিলেট-৭ কূপটি খনন করা হয় যেটি ছিল দেশের তেল উৎপাদনকারি একমাত্র কূপ। সময়ের সাথে সাথে কূপটির সরবরাহের ক্ষমতা কমতে থাকে এবং প্রায় সাত বছর একটানা প্রায় ৫৬০৮৬৯ ব্যারল অপরিশোধিত তেল সরবরাহের পর ১৯৯৪ সালের ১৪ই জুলাই কূপটি থেকে তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং সেসময় কূপটিতে চাপের পরিমান ছিল শূন্য। ২০০৫ সালের মার্চে এই কূপটিকে গ্যাস সরবরাহকারি কুপে রুপান্তর করা হয়। সেসময় কূপটির ১৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করার ক্ষমতা ছিল।

১৯৮৯ সালে হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রে সর্বশেষ খনন করা কূপটি হল সুরমা ১ক, যেটি খনন করেছিল সিমিটার এক্সপ্লোরেসন লিমিটেড। তেলের খোঁজে খনন করা হলেও এই কূপে তেল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এই কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। সম্প্রতি, এই গ্যাসক্ষেত্রে ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপের কাজ শেষ হয়েছে।

কূপ থেকে প্রাপ্ত গ্যাস এবং অন্যান্য সম্পদ প্রক্রিয়ার জন্য এই গ্যাসক্ষেত্রে ১ X৩০ এমএম এসসিএফডি সিলিকাটাইপ সলিড ডেসিকেন্ট ডিহাইড্রেশন প্ল্যান্ট এবং ৬৮ বিবিএল/দিন ধারনক্ষমতাসম্পন্ন কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেসন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে।


কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সিলেটে কিভাবে পৌছাবেন ইতিমধ্যেই উল্ল্যেখ করা হয়েছে। সিলেট থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রে আপনি বাস অথবা সিএনজিতে চড়ে পৌঁছে যাবেন।

কিভাবে পৌঁছাবেন: সিলেট জেলা

ঢাকা থেকে সিলেটে আপনি সড়কপথে, রেলপথে এবং আকাশপথে পৌছাতে পারেন।

ঢাকা থেকে সিলেটের মধ্যে চলাচলকারি বাসগুলোর মধ্যে আছেঃ
১। গ্রীনলাইন পরিবহনঃ
ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়ঃ সকাল ৮:৩০ মিনিটে, সকাল ১০ টায়, বিকাল ৪:১৫ মিনিটে, বিকাল ৫:৩০ মিনিটে এবং রাত ১২:৩০ মিনিটে; ভাড়াঃ ৮৫০/- টাকা (ভলভো), ১১০০/- টাকা (স্কেনিয়া);
২। শ্যামলী পরিবহনঃ
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ৭১০২২৯১, ০১৯৩৬২৬০২৩;
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৮০৭৫৫৪১, ৭৫১১০১৯, ৭৫৫০০৭১;

৩। হানিফ পরিবহনঃ
পান্থপথকাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ০১৭৩৪০২৬৭০
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭১
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭৩

৪। টি আর ট্র্যাভেলস
৫। সোহাগ পরিবহন

উপরে উল্ল্যেখিত বাসগুলো প্রতিদিন ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে রাত ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকার মালিবাগ রেলগেট, রাজারবাগ এবং সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সিলেটের পথে ছেড়ে যায়। নন এসি এসব বাসের ভাড়া প্রায় ৫০০/- টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া প্রায় ৮০০/- টাকা থেকে ১০০০/- টাকা।

ঢাকা থেকে সিলেটে বাংলাদেশ বিমান, নভো এয়ার, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং রিজেণ্ট এয়ারওয়েজ দ্বিমুখী ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। এসব বিমান সংস্থার একমুখি পথের ভাড়া পড়বে ৩০০০/- টাকা থেকে ৮০০০/- টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০টির অধিক ফ্লাইট ঢাকা থেকে সিলেটে আসা যাওয়া করে।

ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস এবং উপবন এক্সপ্রেস যথাক্রমে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় ছেড়ে যায়। এছাড়া বিকালবেলা নয়া সংযোজিত কালিনী এক্সপ্রেস সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। রেলপথে সিলেটে পৌছাতে ৭ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। এসব ট্রেনের ভাড়া পরবে শোভন শ্রেণীর আসনের জন্য ২৯৫/- টাকা এবং তাপানুকুল প্রথম শ্রেণীর আসনের জন্য ৬৭৯/- টাকা।
ট্রেনের যাত্রার সময়সূচী:
১।কালিনী এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় বিকাল ৪ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ শুক্রবার;
২। পারাবত এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৬:৪০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে দুপুর ১:৩৫ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ৩ টায়; ঢাকায় পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ মঙ্গলবার;
৩। উপবন এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় রাত৯:৫০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় রাত ১০ টায়; ঢাকায় পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেটে বন্ধের দিন নেই তবে ঢাকায় বন্ধের দিনঃ বুধবার;
৪। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ১২ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ৭:৫০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৮:২০ মিনিটে; ঢাকায় পৌঁছে বিকাল ৪ টায়; সিলেট ও ঢাকায় ট্রেনটির কোন বন্ধের দিন নেই;
শ্রেণীভেদে এই ট্রেনগুলোর ভাড়া ৭৫/- টাকা থেকে ১০১৮/- টাকা পর্যন্ত।

কোথায় থাকবেন

সিলেটে থাকার জন্য বেশকিছু ভালমানের হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের বেশীরভাগ মাজার রোড, আম্বরখানা, এবং জিন্দাবাজারে অবস্থিত। এসব হোটেলের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ
১। হোটেল ইস্টার্ন গেইট এন্ড পানাহার রেস্টুরেন্ট।
২। হোটেল গুলশান।
৩। হোটেল দরগা ভিউ।
৪। গ্রিনল্যান্ড হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট।
৫। হোটেল সিটি লিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল।
৬। সুরমা ভ্যালী রেস্ট হাউজ।
৭। হোটেল বাহারাইন রেসিডেনসিয়াল।
৮। হোটেল কুরাইশি রেসিডেন্স।
৯। হোটেল আজমীর।
১০।হোটেল পায়রা।
১১।হোটেল সুপ্রিম।
১২।হোটেল পলাশ।
১৩।হোটেল ওয়েস্টার্ন।
১৪।হোটেল অনুরাগ।
১৫।হোটেল আল-আমীন।
১৬।হোটেল গার্ডেনস ইন।
১৭।হোটেল ফেরদৌস।
১৮।হোটেল পানামা।
১৯।হোটেল গ্রীন।
২০।হোটেল হিলটাউন।
২১।হোটেল রোজভিউ।
২২।হোটেল স্টার প্যাসিফিক।
২৩।হোটেল তাজমহল।

কি করবেন

এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাসের উৎপাদনের প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করতে পারেন।

খাবার সুবিধা

এই গ্যাসক্ষেত্রের আশেপাশে কোন রেস্টুরেন্ট নেই। আপনি সাথে করে খাবার নিয়ে যেতে পারেন অথবা সিলেটে ফিরে গিয়ে খেতে পারেন।

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন