আমাদের লোকসংস্কৃতির উপর কবিতা রচনার জন্য কবি জসীমউদ্দিন খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র কবি যার কবিতায় এদেশের গ্রামের সৌন্দর্য এবং গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা নিখুতভাবে উঠে এসেছে।
আমাদের সকলের প্রিয় এই কবির বাসভবন কুমার নদীর তীরে অবস্থিত। চমৎকার সৌন্দর্য এবং তার চারপাশের মনোরম পরিবেশের কারনে এই নদীটির আলাদা খ্যাতি আছে। বাসার অভ্যন্তরে পারিবারিক কবরস্থানে কবির কবর রয়েছে। কবি জসীমউদ্দিনের বাসায় ঢুকতে আপনাকে পাঁচ টাকা প্রবেশমূল্য দিতে হবে। এখানে আপনি কবির ব্যবহার করা বিভিন্ন জিনিসপত্র দেখতে পাবেন যেমনঃ ক্যামেরা, প্লেট, চেয়ার, খাট, কিছু ছবি ইত্যাদি।
এছাড়া এখানে বিভিন্ন ভাষণ, কবিতা এবং গল্প থেকে কবির নিজস্ব উক্তি দেখতে পাবেন। এসব উক্তির কিছু কিছু আমরা আমাদের পাঠ্য পুস্তকে পড়ে এসেছি তাই এসব পড়ে আপনি আপনার ছেলেবেলায় হারিয়ে যাবেন। কবির বাসার বাইরে একটি চমৎকার পিকনিক স্পট রয়েছে যেখানে বিকালবেলা মানুষজনের সমাগম ঘটে। এখানকার নদী এবং ধানক্ষেত ঘেরা পরিবেশে সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
এখানে নদীর পাশেই অবস্থিত বিশাল মাঠটিতে স্থানীয়রা খেলাধুলা করে থাকে। ছোট বাচ্চাদের ছোটাছুটি দেখে হয়তো আপনি শৈশবে হারিয়ে যাবেন। দর্শনার্থীদের বসার জন্য মাঠের পাশে পৃথক শেডের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের ১ তারিখ থেকে ১৮ তারিখ এই মাঠে কবির নামে একটি মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে স্থানীয়দের অনুরোধে মেলার মেয়াদ দুইদিন বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে।
ঢাকার গাবতলি বাসস্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন বাস সার্ভিস ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে চলাচল করে থাকে। এসব বাস সার্ভিসের মধ্যে রয়েছেঃ আজমেরি এণ্টারপ্রাইজ, আনন্দ পরিবহন, সূর্যমুখী পরিবহন ইত্যাদি। এসব বাসে ভ্রমন করতে কমবেশি ১৪০/- টাকা থেকে ১৫০/- টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হবে আপনাকে। তবে আজমেরি এণ্টারপ্রাইজে ভ্রমন করলে আপনাকে লঞ্চে করে পদ্মানদী পার হতে হবে যার মানে হল নদীর ওপারে গিয়ে আপনাকে বাস বদলাতে হবে।
কবির গ্রামের নাম আম্বিকাপুর। গ্রামটি মূল শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাই ফরিদপুর শহরে পৌঁছে আপনি যেকোন ধরনের বাহনে চড়ে এখানে পৌছাতে পারবেন। যেহেতু সবাই এই স্থানটিকে ভালভাবে চেনে তাই আপনার খুঁজে পেতে খুব একটা বেগ পেতে হবেনা।
বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে ঢাকা বিভাগের অধীনে অবস্থিত একটি জেলার নাম ফরিদপুর। ২০৭২.৭২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলার উত্তর ও পূর্বে পদ্মা নদী এবং নদীর ওপারে মানিকগঞ্জ, ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ জেলা অবস্থিত। এছাড়া, ফরিদপুর জেলার পূর্বে মাদারীপুর জেলা, দক্ষিনে গোপালগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে রাজবাড়ি, নড়াইল এবং মাগুরা জেলা অবস্থিত। ঢাকা থেকে টঙ্গী এবং বাইপাইল হয়ে নদী অতিক্রম করে সড়কপথে ফরিদপুরে পৌছাতে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লাগবে। সড়কপথে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের দূরত্ব ১৩৮ কিলোমিটার।
ঢাকা থেকে ফরিদপুরে এবং ফরিদপুর থেকে ঢাকায় চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। নাবিল পরিবহন
ঠিকানাঃ ১৫/১, পুরাতন গাবতলি, মিরপুর, ঢাকা-১২১৮
ফোনঃ ০২-৯০০৭০৩৬, ০২-৯০১১১৪৩
২। গোল্ডলাইন এবং আজমিরি এন্টারপ্রাইজ (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত; ফরিদপুর-ঢাকা)
ফোনঃ ০৬৩১-৬৬৯৮৮
মোবাইলঃ ০১৭৫৫৫২২২০০, ০১৭৩৩২০৮৮৭
৩। জাকের এন্টারপ্রাইজ (নন এসি বাস সার্ভিস; ফরিদপুর-ঢাকা)
ফোনঃ ০১৭১২৪২৪১৩৪
৪। সাউদিয়া পরিবহন( ফরিদপুর-ঢাকা)
ফোনঃ ০৬৩১-৬৩৬৪৪
মোবাইলঃ ০১৯১৬১৩৬৫৩১, ০১৭১৭৬০৫৫৭৬
ফরিদপুরে থাকার জন্য হোটেল ও গেস্ট হাউজগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। হোটেল র্যাফেলস ইন
বেসরকারি এই হোটেলে ৩২টি কক্ষ রয়েছে
গোয়ালচামট, ফরিদপুর
ফোনঃ ০৬৩১-৬১১০৬
২। হোটেল লাক্সারি (আবাসিক)
বেসরকারি এই হোটেলে ৬৫টি কক্ষ রয়েছে
গোয়ালচামট, ফরিদপুর
ফোনঃ ০৬৩১-৬২৬২৩
৩। হোটেল পদ্মা (আবাসিক)
বেসরকারি এই হোটেলে ৪৫টি কক্ষ রয়েছে
মুজিব সড়ক, ফরিদপুর
ফোনঃ ০৬৩১-৬২৬৮৫
৪। হোটেল পার্ক প্যালেস (আবাসিক)
বেসরকারি এই হোটেলে ৩৮টি কক্ষ রয়েছে
ফোনঃ ০১৫৫৬৩২৭০৬৭
৫। হোটেল শ্যামলী (আবাসিক)
বেসরকারি এই হোটেলে ১৩টি কক্ষ রয়েছে
মুজিব সড়ক, ফরিদপুর
ফোনঃ ০৬৩১-৬৪৫৩৮
৬। হোটেল জোনাকি (আবাসিক)
বেসরকারি এই হোটেলে ৪৪টি কক্ষ রয়েছে
গোয়ালচামট, ফরিদপুর
ফোনঃ ০৬৩১-৬৪১৬৮
৭। আঞ্চলিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট গেস্ট হাউজ
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট
ভাঙ্গা, ফরিদপুর
সরকারি এই গেস্ট হাউজে নন এসি কক্ষের ভাড়া ১০০/- টাকা
ফোনঃ ০৬৩২৩৫৬৩২৯
জসীম মেলা:
এটি পল্লিকবি জসীমউদ্দীন স্মরণোৎসব মেলা। ফরিদপুর শহরের কাছেই কবির জন্মভিটা অম্বিকাপুরে প্রতিবছর এ মেলা বসে থাকে।
এ মেলার প্রধান আকর্ষণ থাকে পল্লিগীতি ও বিচারগানের আসর।
এছাড়াও এ মেলাতে থাকে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি, মাটির হাড়ি, মাটির পুতুল, লোহার সামগ্রী ও বাঁশ-বেতের গৃহসামগ্রী। আর খাদ্যবস্ত্তর মধ্যে থাকে বৈচিত্র্যময় মিষ্টির সমাহার ও ঝালযুক্ত পিয়াজু, মোগলাই, সিঙাড়া, পুরি আরও কত কি!
অন্যদিকে বিচিত্র রকমের দর্শক রুচির দিকে মেলা কমিটির লোকদের থাকে সতর্কচোখ, তাই তারা সার্কাস, পুতুলনাচ ও মৃত্যুকূপ সার্কাসের আয়োজন মেলা প্রাঙ্গণে রেখে থাকেন।
ফরিদপুর শহরে খাওয়ার জন্য বেশকিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট পাবেন। ফরিদপুর জেলায় কোথায় খাবেন সেটি জানতে এখানে ক্লিক করুন ।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!