বাংলা ১৩০৬ সালের আষাঢ় মাসে রথযাত্রা উৎসবের সময় জগদবন্ধু সুন্দর এই অঙ্গনটি প্রতিষ্ঠা করেন। শ্রীরাম সুন্দর এবং শ্রীরাম কুমারমুদি অঙ্গনের জন্য জমি দান করেন। প্রতিদিন প্রচুর ভক্ত (পুন্যারথী) এখানে আসেন যাদের জন্য অঙ্গনে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। অঙ্গনের ৩০টি কক্ষে প্রায় ১৫০ জন ভক্ত থাকতে পারেন। এই অঙ্গনে প্রার্থনার জন্য বেশকিছু কক্ষ রয়েছে যেখানে আপনাকে খালি পায়ে প্রবেশ করতে হবে। অঙ্গনের অভ্যন্তরে একটি নৌকা মন্দির রয়েছে। এই মন্দিরের অভ্যন্তরে একটি নৌকা রাখা আছে। অঙ্গনের প্রতিষ্ঠাতা জগদবন্ধু ভক্তদের নিয়ে পদ্মা নদীতে প্রমোদবিহারে যেতেন এবং রাতের শেষভাগে ফিরে আসতেন। এই কারনেই নৌকা মন্দিরের এমন নামকরণ করা হয়েছে। নৌকা মন্দির ছাড়াও অঙ্গনে সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি মাঝারি আকারের একটি রথ রাখা আছে। বাংলা আষাঢ় মাসে রথ যাত্রার সময় এই রথটি প্রদর্শন করা হয়। অঙ্গনের কোলাহলমুক্ত শান্ত পরিবেশে কিছু সময় কাটালে আপনি মানসিক প্রশান্তি অর্জন করবেন।
ঢাকার গাবতলি বাসস্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন বাস সার্ভিস ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে চলাচল করে থাকে। এসব বাস সার্ভিসের মধ্যে রয়েছেঃ আজমেরি এণ্টারপ্রাইজ, আনন্দ পরিবহন, সূর্যমুখী পরিবহন ইত্যাদি। এসব বাসে ভ্রমন করতে কমবেশি ১৪০/- টাকা থেকে ১৫০/- টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হবে আপনাকে। তবে আজমেরি এণ্টারপ্রাইজে ভ্রমন করলে আপনাকে লঞ্চে করে পদ্মানদী পার হতে হবে যার মানে হল নদীর ওপারে গিয়ে আপনাকে বাস বদলাতে হবে।
এই অঙ্গনটি ফরিদপুর শহরের পুরাতন এবং নতুন বাসস্ট্যান্ডের মধ্যবর্তী গোয়ালছামোটে অবস্থিত। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে নতুন বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার পথে অঙ্গনটি আপনার বাদিকে পরবে। তবে, নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে আসলে অঙ্গনটি আপনার ডানে পরবে।
বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে ঢাকা বিভাগের অধীনে অবস্থিত একটি জেলার নাম ফরিদপুর। ২০৭২.৭২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলার উত্তর ও পূর্বে পদ্মা নদী এবং নদীর ওপারে মানিকগঞ্জ, ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ জেলা অবস্থিত। এছাড়া, ফরিদপুর জেলার পূর্বে মাদারীপুর জেলা, দক্ষিনে গোপালগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে রাজবাড়ি, নড়াইল এবং মাগুরা জেলা অবস্থিত। ঢাকা থেকে টঙ্গী এবং বাইপাইল হয়ে নদী অতিক্রম করে সড়কপথে ফরিদপুরে পৌছাতে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লাগবে। সড়কপথে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের দূরত্ব ১৩৮ কিলোমিটার।
ঢাকা থেকে ফরিদপুরে এবং ফরিদপুর থেকে ঢাকায় চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। নাবিল পরিবহন
ঠিকানাঃ ১৫/১, পুরাতন গাবতলি, মিরপুর, ঢাকা-১২১৮
ফোনঃ ০২-৯০০৭০৩৬, ০২-৯০১১১৪৩
২। গোল্ডলাইন এবং আজমিরি এন্টারপ্রাইজ (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত; ফরিদপুর-ঢাকা)
ফোনঃ ০৬৩১-৬৬৯৮৮
মোবাইলঃ ০১৭৫৫৫২২২০০, ০১৭৩৩২০৮৮৭
৩। জাকের এন্টারপ্রাইজ (নন এসি বাস সার্ভিস; ফরিদপুর-ঢাকা)
ফোনঃ ০১৭১২৪২৪১৩৪
৪। সাউদিয়া পরিবহন( ফরিদপুর-ঢাকা)
ফোনঃ ০৬৩১-৬৩৬৪৪
মোবাইলঃ ০১৯১৬১৩৬৫৩১, ০১৭১৭৬০৫৫৭৬
ফরিদপুরে থাকার জন্য হোটেল ও গেস্ট হাউজগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। হোটেল র্যাফেলস ইন
বেসরকারি এই হোটেলে ৩২টি কক্ষ রয়েছে
গোয়ালচামট, ফরিদপুর
ফোনঃ ০৬৩১-৬১১০৬
২। হোটেল লাক্সারি (আবাসিক)
বেসরকারি এই হোটেলে ৬৫টি কক্ষ রয়েছে
গোয়ালচামট, ফরিদপুর
ফোনঃ ০৬৩১-৬২৬২৩
৩। হোটেল পদ্মা (আবাসিক)
বেসরকারি এই হোটেলে ৪৫টি কক্ষ রয়েছে
মুজিব সড়ক, ফরিদপুর
ফোনঃ ০৬৩১-৬২৬৮৫
৪। হোটেল পার্ক প্যালেস (আবাসিক)
বেসরকারি এই হোটেলে ৩৮টি কক্ষ রয়েছে
ফোনঃ ০১৫৫৬৩২৭০৬৭
৫। হোটেল শ্যামলী (আবাসিক)
বেসরকারি এই হোটেলে ১৩টি কক্ষ রয়েছে
মুজিব সড়ক, ফরিদপুর
ফোনঃ ০৬৩১-৬৪৫৩৮
৬। হোটেল জোনাকি (আবাসিক)
বেসরকারি এই হোটেলে ৪৪টি কক্ষ রয়েছে
গোয়ালচামট, ফরিদপুর
ফোনঃ ০৬৩১-৬৪১৬৮
৭। আঞ্চলিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট গেস্ট হাউজ
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট
ভাঙ্গা, ফরিদপুর
সরকারি এই গেস্ট হাউজে নন এসি কক্ষের ভাড়া ১০০/- টাকা
ফোনঃ ০৬৩২৩৫৬৩২৯
ফরিদপুর শহরে খাওয়ার জন্য বেশকিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট পাবেন। ফরিদপুর জেলায় কোথায় খাবেন সেটি জানতে এখানে ক্লিক করুন ।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!