জৈন্তা রাজ্য বিস্তৃত ছিল উত্তরপূর্ব ভারতের শিলং মালভূমির (বর্তমান মেঘালয়) পূর্বপ্রান্ত থেকে আসামের বারাক নদীর উপত্যকার দক্ষিন ও উত্তরপ্রান্ত পর্যন্ত। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮৩৫ সালে এই রাজ্যটি দখল করে নেয়। বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত এই রাজ্যের রাজধানী জৈন্তিয়াপুরের অবস্থান ছিল জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে। ধারনা করা হয়ে থাকে যে জৈন্তা পাহাড়ের নারটিয়াং এ ছিল এই রাজ্যের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী। তবে এখানে একটি দুর্গা মন্দির এবং কিছু মধ্যযুগীয় স্থাপনা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। বর্তমান বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের বেশীরভাগ এলাকাই একসময় জৈন্তা রাজার অধীনে ছিল।
জৈন্তা রাজ্যের উৎপত্তি সম্পর্কে জানা না গেলেও এখানকার মানুষেরা শিলং মালভূমির খাসিয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের সাথে মধ্যযুগীয় সংস্কৃতি পালন করত। তবে, ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায় যে এসব মানুষেরা এই অঞ্চলে অনেক আগেই বসত গড়েছিল। ১৭শ শতাব্দীর পর কাচারির রাজা শত্রু দমনের অভিযানের পর জৈন্তা রাজ্যে কাচারি এবং আহম দের রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়।
১৭৬৫ সালে (গুরদন ১৯১৪:xiv) বাংলার শাসনভার গ্রহনের পর ইংরেজরা জৈন্তা রাজ্যের প্রতি মনোনিবেশ করে এবং বর্তমান বাংলাদেশের জৈন্তাপুরকে এ রাজ্যের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এই রাজ্যটি পাহাড় থেকে বারাক নদীর উত্তরে সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। (গাইট ১৯০৬:২৫৩)। এখানকার খনিগুলো থেকে বাংলায় চুনাপাথর সরবরাহ করা হলেও ১৭৭৪ সালে ইংরেজরা আক্রমনের শিকার হলে এই সরবরাহ ব্যবস্থা কঠিন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দুর্গের মাধ্যমে এবং ১৭৯৯ সালে প্রণীত একটি রেগুলেশনের মাধ্যমে মূল ভূমি থেকে জৈন্তাদের পৃথক করে রাখা হয় (গুরদন ১৯১৪: xiv-xv)।
প্রথম অ্যাংলো-বার্মিজ যুদ্ধের সমাপ্তির পর ইংরেজরা জৈন্তা রাজাকে সুরমা নদীর উত্তর প্রান্ত শাসন করার অনুমতি প্রদান করে(গাইট ১৯০৬:২৮৪)। ১৮৩৫ সালের ১৫ই মার্চ ইংরেজরা এই রাজ্যটি পুরোপুরি দখল করে নেয় (গাইট ১৯০৬:৩০২)। জৈন্তা রাজাকে সিলেটে তাঁর সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং মাসিক ৫০০ রুপি বেতনের ব্যবস্থা করা হয়। পনেরোজন দলই এবং চারজন সর্দারের মাধ্যমে ইংরেজরা এখানকার সমভূমি সরাসরি শাসন করলেও পাহাড়ি এলাকায় ইংরেজ শাসন ছিল পরোক্ষ। এই পনেরো জন প্রশাসক বড় ধরনের অপরাধ ব্যাতিত সব অপরাধের বিচার করত।
জৈন্তা বাজারের কাছে অবস্থিত জৈন্তা রাজবাড়িতে জৈন্তা রাজারা বাস করতেন। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই রাজবাড়িতে অনেক পর্যটক আসেন জৈন্তা রাজাদের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে। চা বাগানে ঘেরা চমৎকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জৈন্তাপুর জাফলং থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ঢাকা থেকে কিভাবে সিলেটে এবং সিলেট থেকে জাফলং এ পৌছাবেন ইতিমধ্যেই উল্ল্যেখ করা হয়েছে। এই রাজবাড়িতে আসতে হলে সিলেট থেকে বাস অথবা সিএনজি অটোরিকশায় করে আপনাকে জাফলং এ পৌছাতে হবে।
ঢাকা থেকে সিলেটে আপনি সড়কপথে, রেলপথে এবং আকাশপথে পৌছাতে পারেন।
ঢাকা থেকে সিলেটের মধ্যে চলাচলকারি বাসগুলোর মধ্যে আছেঃ
১। গ্রীনলাইন পরিবহনঃ
ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়ঃ সকাল ৮:৩০ মিনিটে, সকাল ১০ টায়, বিকাল ৪:১৫ মিনিটে, বিকাল ৫:৩০ মিনিটে এবং রাত ১২:৩০ মিনিটে; ভাড়াঃ ৮৫০/- টাকা (ভলভো), ১১০০/- টাকা (স্কেনিয়া);
২। শ্যামলী পরিবহনঃ
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ৭১০২২৯১, ০১৯৩৬২৬০২৩;
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৮০৭৫৫৪১, ৭৫১১০১৯, ৭৫৫০০৭১;
৩। হানিফ পরিবহনঃ
পান্থপথকাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ০১৭৩৪০২৬৭০
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭১
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭৩
৪। টি আর ট্র্যাভেলস
৫। সোহাগ পরিবহন
উপরে উল্ল্যেখিত বাসগুলো প্রতিদিন ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে রাত ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকার মালিবাগ রেলগেট, রাজারবাগ এবং সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সিলেটের পথে ছেড়ে যায়। নন এসি এসব বাসের ভাড়া প্রায় ৫০০/- টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া প্রায় ৮০০/- টাকা থেকে ১০০০/- টাকা।
ঢাকা থেকে সিলেটে বাংলাদেশ বিমান, নভো এয়ার, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং রিজেণ্ট এয়ারওয়েজ দ্বিমুখী ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। এসব বিমান সংস্থার একমুখি পথের ভাড়া পড়বে ৩০০০/- টাকা থেকে ৮০০০/- টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০টির অধিক ফ্লাইট ঢাকা থেকে সিলেটে আসা যাওয়া করে।
ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস এবং উপবন এক্সপ্রেস যথাক্রমে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় ছেড়ে যায়। এছাড়া বিকালবেলা নয়া সংযোজিত কালিনী এক্সপ্রেস সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। রেলপথে সিলেটে পৌছাতে ৭ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। এসব ট্রেনের ভাড়া পরবে শোভন শ্রেণীর আসনের জন্য ২৯৫/- টাকা এবং তাপানুকুল প্রথম শ্রেণীর আসনের জন্য ৬৭৯/- টাকা।
ট্রেনের যাত্রার সময়সূচী:
১।কালিনী এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় বিকাল ৪ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ শুক্রবার;
২। পারাবত এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৬:৪০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে দুপুর ১:৩৫ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ৩ টায়; ঢাকায় পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ মঙ্গলবার;
৩। উপবন এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় রাত৯:৫০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় রাত ১০ টায়; ঢাকায় পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেটে বন্ধের দিন নেই তবে ঢাকায় বন্ধের দিনঃ বুধবার;
৪। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ১২ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ৭:৫০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৮:২০ মিনিটে; ঢাকায় পৌঁছে বিকাল ৪ টায়; সিলেট ও ঢাকায় ট্রেনটির কোন বন্ধের দিন নেই;
শ্রেণীভেদে এই ট্রেনগুলোর ভাড়া ৭৫/- টাকা থেকে ১০১৮/- টাকা পর্যন্ত।
সিলেটে থাকার জন্য বেশকিছু ভালমানের হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের বেশীরভাগ মাজার রোড, আম্বরখানা, এবং জিন্দাবাজারে অবস্থিত। এসব হোটেলের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ
১। হোটেল ইস্টার্ন গেইট এন্ড পানাহার রেস্টুরেন্ট।
২। হোটেল গুলশান।
৩। হোটেল দরগা ভিউ।
৪। গ্রিনল্যান্ড হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট।
৫। হোটেল সিটি লিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল।
৬। সুরমা ভ্যালী রেস্ট হাউজ।
৭। হোটেল বাহারাইন রেসিডেনসিয়াল।
৮। হোটেল কুরাইশি রেসিডেন্স।
৯। হোটেল আজমীর।
১০।হোটেল পায়রা।
১১।হোটেল সুপ্রিম।
১২।হোটেল পলাশ।
১৩।হোটেল ওয়েস্টার্ন।
১৪।হোটেল অনুরাগ।
১৫।হোটেল আল-আমীন।
১৬।হোটেল গার্ডেনস ইন।
১৭।হোটেল ফেরদৌস।
১৮।হোটেল পানামা।
১৯।হোটেল গ্রীন।
২০।হোটেল হিলটাউন।
২১।হোটেল রোজভিউ।
২২।হোটেল স্টার প্যাসিফিক।
২৩।হোটেল তাজমহল।
১। জাফলং, শ্রীপুর, তামাবিল এবং জৈন্তাপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পিকনিক করতে পারেন।
২। ছবি তুলতে পারেন।
৩। নৌকা ভ্রমন করতে পারেন।
এখানে স্থানীয় রেস্টুরেন্টের সংখ্যা খুব কম তাই আপনাকে সিলেট শহরে অথবা জাফলং এ খাওয়াদাওয়া করতে হবে। এছাড়া আপনি সাথে করে খাবার নিয়েও যেতে পারেন।
পাহাড়ি ঝর্ণাসহ এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য শীতকাল হল শ্রেষ্ঠ সময়।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!