হযরত শাহজালাল (রঃ) (আরবীঃ شيخ المشايخ, ইংরেজিঃ Shāh Jalāl ad-Dīn al-Mujarrad al-Turk al Naqshbandi; ১২৭১- ১৫ মার্চ ১৩৪৬) ছিলেন বাংলার অন্যতম খ্যাতনামা ইসলাম প্রচারক। মধ্যপ্রাচ্য, পারস্য, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিন এশিয়া হয়ে উত্তর পূর্ব বাংলায় মুসলমানদের আন্দোলন এবং সুফীবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামের প্রচারের ক্ষেত্রে হযরত শাহজালালের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, একদিন হযরত শাহজালাল (রঃ) এর চাচা শেখ কবির তাঁকে একমুঠ মাটি দিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে বলেছিলেন এবং ভারতের সে স্থানেই স্থায়ী হয়ে ইসলাম প্রচার করতে বলেছিলেন যেখানকার মাটির রঙ ও গন্ধ হযরত শাহজালাল (রঃ) কে দেওয়া মাটির সাথে একদম মিলে যাবে। হযরত শাহজালাল (রঃ) পূর্বদিকে যাত্রা শুরু করেন এবং ১৩০০ সালে ভারতে পৌঁছান যেখানে তিনি অনেক সুফীসাধক ও জ্ঞানী ব্যাক্তিদের সাথে মিলিত হন।
আম্বরখানায় প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, হযরত শাহজালাল মুজাররাদ (রঃ) নামে পরিচিত হযরত শাহজালাল ইয়েমেনী (রঃ) হিজরি ৭০৩ সালে অর্থাৎ ১৩০৩ ইংরেজি সালে কাম্পরুপ নামক স্থানে ইসলাম প্রচারে আগমন করেন যে স্থানটি ছিল তৎকালীন শ্রীহাটটা অর্থাৎ বর্তমান সিলেটের অধীনে । ৩৬০ জন সুফি দরবেশ তাঁকে ইসলাম প্রচারে সহযোগিতা করতে সিলেটে এসেছিলেন। হযরত শাহজালাল (রঃ) যখন ইসলাম প্রচারে এসেছিলেন সেসময় সিলেটের জনসংখ্যার বেশিরভাগই ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। হযরত শাহজালালের মৃত্যুর পর তাঁকে সিলেটের দরগা মহল্লায় দাফন করা হয় যেখানে বর্তমানে হযরত শাহজালালের দরগা অবস্থিত। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর, সিলেটে অবস্থিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি তাঁর নামেই নামকরন করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে সিলেটে কিভাবে পৌছাবেন ইতিমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে। সিলেটে পৌঁছে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশায় করে আপনি দরগা মহল্লায় পৌছাতে পারবেন।
ঢাকা থেকে সিলেটে আপনি সড়কপথে, রেলপথে এবং আকাশপথে পৌছাতে পারেন।
ঢাকা থেকে সিলেটের মধ্যে চলাচলকারি বাসগুলোর মধ্যে আছেঃ
১। গ্রীনলাইন পরিবহনঃ
ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়ঃ সকাল ৮:৩০ মিনিটে, সকাল ১০ টায়, বিকাল ৪:১৫ মিনিটে, বিকাল ৫:৩০ মিনিটে এবং রাত ১২:৩০ মিনিটে; ভাড়াঃ ৮৫০/- টাকা (ভলভো), ১১০০/- টাকা (স্কেনিয়া);
২। শ্যামলী পরিবহনঃ
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ৭১০২২৯১, ০১৯৩৬২৬০২৩;
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৮০৭৫৫৪১, ৭৫১১০১৯, ৭৫৫০০৭১;
৩। হানিফ পরিবহনঃ
পান্থপথকাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ০১৭৩৪০২৬৭০
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭১
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭৩
৪। টি আর ট্র্যাভেলস
৫। সোহাগ পরিবহন
উপরে উল্ল্যেখিত বাসগুলো প্রতিদিন ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে রাত ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকার মালিবাগ রেলগেট, রাজারবাগ এবং সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সিলেটের পথে ছেড়ে যায়। নন এসি এসব বাসের ভাড়া প্রায় ৫০০/- টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া প্রায় ৮০০/- টাকা থেকে ১০০০/- টাকা।
ঢাকা থেকে সিলেটে বাংলাদেশ বিমান, নভো এয়ার, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং রিজেণ্ট এয়ারওয়েজ দ্বিমুখী ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। এসব বিমান সংস্থার একমুখি পথের ভাড়া পড়বে ৩০০০/- টাকা থেকে ৮০০০/- টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০টির অধিক ফ্লাইট ঢাকা থেকে সিলেটে আসা যাওয়া করে।
ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস এবং উপবন এক্সপ্রেস যথাক্রমে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় ছেড়ে যায়। এছাড়া বিকালবেলা নয়া সংযোজিত কালিনী এক্সপ্রেস সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। রেলপথে সিলেটে পৌছাতে ৭ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। এসব ট্রেনের ভাড়া পরবে শোভন শ্রেণীর আসনের জন্য ২৯৫/- টাকা এবং তাপানুকুল প্রথম শ্রেণীর আসনের জন্য ৬৭৯/- টাকা।
ট্রেনের যাত্রার সময়সূচী:
১।কালিনী এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় বিকাল ৪ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ শুক্রবার;
২। পারাবত এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৬:৪০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে দুপুর ১:৩৫ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ৩ টায়; ঢাকায় পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ মঙ্গলবার;
৩। উপবন এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় রাত৯:৫০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় রাত ১০ টায়; ঢাকায় পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেটে বন্ধের দিন নেই তবে ঢাকায় বন্ধের দিনঃ বুধবার;
৪। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ১২ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ৭:৫০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৮:২০ মিনিটে; ঢাকায় পৌঁছে বিকাল ৪ টায়; সিলেট ও ঢাকায় ট্রেনটির কোন বন্ধের দিন নেই;
শ্রেণীভেদে এই ট্রেনগুলোর ভাড়া ৭৫/- টাকা থেকে ১০১৮/- টাকা পর্যন্ত।
সিলেটে থাকার জন্য বেশকিছু ভালমানের হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের বেশীরভাগ মাজার রোড, আম্বরখানা, এবং জিন্দাবাজারে অবস্থিত। এসব হোটেলের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ
১। হোটেল ইস্টার্ন গেইট এন্ড পানাহার রেস্টুরেন্ট।
২। হোটেল গুলশান।
৩। হোটেল দরগা ভিউ।
৪। গ্রিনল্যান্ড হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট।
৫। হোটেল সিটি লিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল।
৬। সুরমা ভ্যালী রেস্ট হাউজ।
৭। হোটেল বাহারাইন রেসিডেনসিয়াল।
৮। হোটেল কুরাইশি রেসিডেন্স।
৯। হোটেল আজমীর।
১০।হোটেল পায়রা।
১১।হোটেল সুপ্রিম।
১২।হোটেল পলাশ।
১৩।হোটেল ওয়েস্টার্ন।
১৪।হোটেল অনুরাগ।
১৫।হোটেল আল-আমীন।
১৬।হোটেল গার্ডেনস ইন।
১৭।হোটেল ফেরদৌস।
১৮।হোটেল পানামা।
১৯।হোটেল গ্রীন।
২০।হোটেল হিলটাউন।
২১।হোটেল রোজভিউ।
২২।হোটেল স্টার প্যাসিফিক।
২৩।হোটেল তাজমহল।
১। সন্ধ্যার পর দরগার ভেতরে যেতে পারেন কারন সেসময় অসংখ্য মোমবাতি প্রজ্বলনের কারনে সেখানকার পরিবেশ অন্যরকম হয়ে যায় ।
২। আপনি দরগা এলাকার ভেতরের বিশাল পুকুরের মাগুর মাছ এবং আলাদা একটি পানির ট্যাংকে রাখা গোল্ড ফিশ দেখতে পারেন।
৩। আপনি দরগা এলাকার ভেতরে উড়ে বেড়ানো জালালি কবুতরদের খাওয়াতে পারেন।
দরগা রোডে বেশকিছু মানসম্পন্ন রেস্টুরেন্ট ও খাওয়ার হোটেল আছে যেখানে আপনি তুলনামূলক কম খরচে খেতে পারবেন।
দরগা শরীফটি সকলের কাছে একটি অত্যন্ত পবিত্র স্থান তাই পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এটি ব্যাবহার করা হয় না। এ কারনে দরগার হেফাজতকারিরাই ঠিক করে থাকেন দরগার অভ্যন্তরে কারা প্রবেশ করতে পারবে। অনেক সময় দর্শনার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় শালীন পোশাক পরিধান না করার জন্য। তাই দরগায় প্রবেশের সময় অবশ্যই আপনার পোশাক পরিচ্ছেদের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!