হযরত শাহপরাণ ছিলেন সুহরাওয়ারদিয়া এবং জালালীয়া বংশের একজন সূফী সাধক। বলা হয়ে থাকে ইয়েমেনের হাদরামুতে জন্মগ্রহণকারী হযরত শাহপরাণ (রঃ) ছিলেন হযরত শাহজালালের বোনের ছেলে। তিনি তাঁর মামা হযরত শাহজালালের সাথে ভারতে আসেন এবং ১৩০৩ সালে শাহজালালের নেতৃত্বে সিলেট অভিযানে অংশ নেন। সিলেট অধিগ্রহনের পর শাহপরাণ (রঃ) সিলেট শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে দক্ষিনগড় পরগণার খাদিমনগরে খানকাহ স্থাপন করে সূফী মতবাদভিত্তিক আধ্যাত্মিক চর্চা ও কর্মকাণ্ড শুরু করেন। সিলেট অঞ্চলে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা ও ইসলামের প্রচারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।
কিভাবে এবং কখন হযরত শাহপরাণ (রঃ) মৃত্যুবরণ করেন তা জানা যায়নি তবে তাঁকে দাফন করা হয় তাঁরই খানকার পাশে। শতবছর ধরে আজ অবধি অসংখ্য মানুষ তাঁর দরগায় আসেন। প্রতি বছর আরবী রবিউল আউয়াল মাসের ৪, ৫, ও ৬ তারিখে হযরত শাহপরাণের উরশ অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর কবরটি একটি উঁচু পাহাড়ের ওপর ইট দিয়ে বাঁধানো এবং দেয়াল দিয়ে ঘেরা অবস্থায় সুরক্ষিত আছে। কবরটির উত্তরে “আশাগাছ” নামে একটি প্রাচীন বৃক্ষ আছে যেটির ডালপালা পুরো দরগার ওপর ছড়িয়ে রয়েছে। গাছটির পাতা কাছ থেকে দেখলে মনে হয় যে গাছটি আম, ডুমুর এবং অন্য কোন গাছের সমন্বয়ে বেড়ে উঠেছে। মানুষজন এই গাছটির ডুমুর ফলের বীজ রোগমুক্তির আশায় খেয়ে থাকে এবং এই গাছের আমও তবারুক হিসেবে ভক্তির সাথে খেয়ে থাকে। এই দরগার পাশেই একটি প্রাচীন মসজিদ রয়েছে। ১৯৮৯-৯১ সালে মসজিদটির আধুনিকীকরন করা হয় এবং এখানে প্রায় ১৫০০ জন মুসলিম একসাথে নামাজ আদায় করতে পারে।
শাহপরাণের মূল দরগার নিকটেই উত্তর সিলেটে রয়েছে কনিয়া শাহর দরগা। কথায় আছে যে তিনি পুরুষও ছিলেন না আবার নারীও ছিলেন না। কনিয়া শাহর দরগায় তাঁর সময়ের ছবি, চিত্রকর্ম, ও জীবনযাত্রার নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায় যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে তিনি ছিলেন একজন নপুংসক। যদিও ইসলাম প্রচারকারীরা ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নিয়েছে তারপরও মূলধারার ইসলাম ধর্ম সাধু এবং নপুংসকদের অর্চনাকে নিরুৎসাহিত করে।
সুরমা নদীর ওপর একটি সড়ক সেতু, একটি যাত্রীবাহী ফেরী এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরন হযরত শাহ পরাণ (রঃ) এর নামে করা হয়েছে।
হযরত শাহপরান (রঃ) এর দরগা সিলেট শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে মেজর টিলায় অবস্থিত। সিলেটে কিভাবে পৌছাবেন তা ইতিমধ্যেই উল্ল্যেখ করা হয়েছে। সিলেট শহর থেকে সিএনজি অটোরিকশা অথবা লোকাল বাসে আপনি মেজর টিলায় পৌছাতে পারবেন।
ঢাকা থেকে সিলেটে আপনি সড়কপথে, রেলপথে এবং আকাশপথে পৌছাতে পারেন।
ঢাকা থেকে সিলেটের মধ্যে চলাচলকারি বাসগুলোর মধ্যে আছেঃ
১। গ্রীনলাইন পরিবহনঃ
ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়ঃ সকাল ৮:৩০ মিনিটে, সকাল ১০ টায়, বিকাল ৪:১৫ মিনিটে, বিকাল ৫:৩০ মিনিটে এবং রাত ১২:৩০ মিনিটে; ভাড়াঃ ৮৫০/- টাকা (ভলভো), ১১০০/- টাকা (স্কেনিয়া);
২। শ্যামলী পরিবহনঃ
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ৭১০২২৯১, ০১৯৩৬২৬০২৩;
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৮০৭৫৫৪১, ৭৫১১০১৯, ৭৫৫০০৭১;
৩। হানিফ পরিবহনঃ
পান্থপথকাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ০১৭৩৪০২৬৭০
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭১
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭৩
৪। টি আর ট্র্যাভেলস
৫। সোহাগ পরিবহন
উপরে উল্ল্যেখিত বাসগুলো প্রতিদিন ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে রাত ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকার মালিবাগ রেলগেট, রাজারবাগ এবং সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সিলেটের পথে ছেড়ে যায়। নন এসি এসব বাসের ভাড়া প্রায় ৫০০/- টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া প্রায় ৮০০/- টাকা থেকে ১০০০/- টাকা।
ঢাকা থেকে সিলেটে বাংলাদেশ বিমান, নভো এয়ার, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং রিজেণ্ট এয়ারওয়েজ দ্বিমুখী ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। এসব বিমান সংস্থার একমুখি পথের ভাড়া পড়বে ৩০০০/- টাকা থেকে ৮০০০/- টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০টির অধিক ফ্লাইট ঢাকা থেকে সিলেটে আসা যাওয়া করে।
ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস এবং উপবন এক্সপ্রেস যথাক্রমে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় ছেড়ে যায়। এছাড়া বিকালবেলা নয়া সংযোজিত কালিনী এক্সপ্রেস সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। রেলপথে সিলেটে পৌছাতে ৭ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। এসব ট্রেনের ভাড়া পরবে শোভন শ্রেণীর আসনের জন্য ২৯৫/- টাকা এবং তাপানুকুল প্রথম শ্রেণীর আসনের জন্য ৬৭৯/- টাকা।
ট্রেনের যাত্রার সময়সূচী:
১।কালিনী এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় বিকাল ৪ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ শুক্রবার;
২। পারাবত এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৬:৪০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে দুপুর ১:৩৫ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ৩ টায়; ঢাকায় পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ মঙ্গলবার;
৩। উপবন এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় রাত৯:৫০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় রাত ১০ টায়; ঢাকায় পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেটে বন্ধের দিন নেই তবে ঢাকায় বন্ধের দিনঃ বুধবার;
৪। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ১২ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ৭:৫০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৮:২০ মিনিটে; ঢাকায় পৌঁছে বিকাল ৪ টায়; সিলেট ও ঢাকায় ট্রেনটির কোন বন্ধের দিন নেই;
শ্রেণীভেদে এই ট্রেনগুলোর ভাড়া ৭৫/- টাকা থেকে ১০১৮/- টাকা পর্যন্ত।
সিলেটে থাকার জন্য বেশকিছু ভালমানের হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের বেশীরভাগ মাজার রোড, আম্বরখানা, এবং জিন্দাবাজারে অবস্থিত। এসব হোটেলের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ
১। হোটেল ইস্টার্ন গেইট এন্ড পানাহার রেস্টুরেন্ট।
২। হোটেল গুলশান।
৩। হোটেল দরগা ভিউ।
৪। গ্রিনল্যান্ড হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট।
৫। হোটেল সিটি লিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল।
৬। সুরমা ভ্যালী রেস্ট হাউজ।
৭। হোটেল বাহারাইন রেসিডেনসিয়াল।
৮। হোটেল কুরাইশি রেসিডেন্স।
৯। হোটেল আজমীর।
১০।হোটেল পায়রা।
১১।হোটেল সুপ্রিম।
১২।হোটেল পলাশ।
১৩।হোটেল ওয়েস্টার্ন।
১৪।হোটেল অনুরাগ।
১৫।হোটেল আল-আমীন।
১৬।হোটেল গার্ডেনস ইন।
১৭।হোটেল ফেরদৌস।
১৮।হোটেল পানামা।
১৯।হোটেল গ্রীন।
২০।হোটেল হিলটাউন।
২১।হোটেল রোজভিউ।
২২।হোটেল স্টার প্যাসিফিক।
২৩।হোটেল তাজমহল।
শাহ পরাণের দরগার আশেপাশে আপনি বেশকিছু মানসম্পন্ন রেস্টুরেন্ট এবং খাওয়ার হোটেল পাবেন।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!