মেঘনা সেতু

ধরন: সেতু
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

মেঘনা সেতু নামে বহুল পরিচিত এই সেতুটির দাপ্তরিক নাম হল জাপান-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-১। ক্যাণ্টিলিভার ব্রিজের নকশায় নির্মিত এই সেতুতে যানবাহন এবং পথচারি চলাচলের ব্যবস্থা আছে। জাপানের সহায়তায় নির্মিত সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য ৯০০ মিটার (২৯৫২ ফুট ৯ ইঞ্চি) এবং প্রস্থ ৯.২ মিটার (৩০ ফুট ২ ইঞ্চি। ১৯৯১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেতুটির জিপিএস অবস্থান হল ২৩°৩৬.১৬২′উ ৯০°৩৬.৯৯১′পু।

২০০৪ সালে জাপান দূতাবাস পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা যায় সেতুটি নির্মাণের ফলে সেতুর আশেপাশে বসবাসকারীদের জীবন মান বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সেতুর আশেপাশের এলাকারও শহরিকরন হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহনকারীরা জানিয়েছেন যে খারাপ আবহাওয়ার কারনে সেতুর উপর যান চলাচল বাধাগ্রস্থ হওয়ার ঘটনা পূর্বের চেয়ে লোপ পেয়েছে। জরিপ থেকে এও জানা যায় যে, সেতুতে চলাচলকারী ৪২% ট্রাক ঢাকা ও চট্রগ্রামের মধ্যে পণ্য পরিবহন করে থাকে।

যথাযথ রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে এবং অধিক ওজনের যানবাহন চলাচলের জন্য সেতুটির বেশকিছু অংশে এক্সপেনশন জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় ২০০৫ সালে সেতুটিতে বড় ধরনের মেরামত কাজ পরিচালনা করা হয়।

স্থাপত্যঃ ক্যাণ্টিলিভার এবং গার্ডারে নির্মিত এই সেতুতে উভয় দিকে যান চলাচল করতে পারে। সেতুটির ১৩টি স্প্যানের মধ্যে দুটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ২৪.২৫ মিটার (৭৯ ফুট ৭ ইঞ্চি), একটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ৪৮.৩ মিটার (১৫৮ ফুট ৬ ইঞ্চি), নয়টি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ৮৭ মিটার (২৮৫ ফুট ৫ ইঞ্চি) এবং বাকি একটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৮.২ মিটার (৫৯ ফুট ৯ ইঞ্চি)। মেঘনা সেতুর মূল সড়কপথের দৈর্ঘ্য ৭.২ মিটার (২৩ ফুট ৭ ইঞ্চি)। সেতুটির ফাউণ্ডেশন নদীতলে গেঁথে দেওয়া আরসিসি প্রকোষ্ঠ এবং পাইলের উপর করা হয়েছে। সেতুটির পিলার এবং ভারবাহী স্তম্ভগুলো আরসিসি দিয়ে নির্মিত। ষড়ভুজ আকৃতির সেতুটির একেকটি ভারবাহী বস্তুর দৈর্ঘ্য ১১ মিটার (৩৬ ফুট ১ ইঞ্চি) এবং প্রস্থ ৩.২ মিটার (১০ ফুট ৬ ইঞ্চি)। পিলারের সাথে যুক্ত সেতুটির পার্শ্ব দেয়াল আরসিসি দিয়ে তৈরি। আরসিসি পোস্ট প্রকৃতির মেঘনা সেতুর রেলিং স্টিলের তৈরি । পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সহ সেতুটির উভয়দিকে হাঁটার জন্য ০.৮০ মিটার (২ ফুট ৭ ইঞ্চি) প্রস্থ ফুটপাথ রয়েছে।

অর্থনীতির উপর প্রভাবঃ মেঘনা সেতু উদ্বোধনের পর এই সেতুতে এবং ১ নং জাতীয় মহাসড়কে যান চলাচল উল্ল্যেখযোগ্য পরিমানে বৃদ্ধি পায়। তবে ২০০২ সালে সেতুটিতে চলার জন্য টোলের পরিমান বৃদ্ধির পর যান চলাচল কমে আসে। উদাহরন হিসেবে বলা যায় যে ১৯৯৭ সালের এপ্রিলে ২৪ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ১০১৪৯ টি সব ধরনের যানবাহন সেতুটি অতিক্রম করে। অন্যদিকে ২০০৪ সালের মার্চে ৯৭০৪ টি যানবাহন গড়ে প্রতিদিন এই সেতুটি অতিক্রম করে।


কিভাবে যাবেন

কিভাবে পৌঁছাবেন: মুন্সীগঞ্জ জেলা

ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জে বেশকিছু বাস চলাচল করে। এসব বাসের মধ্যে সবচেয়ে ভালমানের হল ঢাকার গুলিস্তান থেকে ছেড়ে যাওয়া ‘নয়ন পরিবহন’ এবং ‘ঢাকা ট্রান্সপোর্ট’। ৩০/- টাকা থেকে ৪০/- টাকা ভাড়ায় দুই ঘণ্টার মধ্যে আপনি মুন্সীগঞ্জে পৌছাতে পারবেন। এছাড়া ঢাকার পোস্তগোলা থেকে ‘গাংচিল’ নামে একটি বাস মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
এছাড়া পোস্তগোলা থেকে সিএনজি অটোরিকশায় ২৫০/- টাকা থেকে ৩৫০/- টাকা ভাড়ায় আপনি মুক্তারপুর সেতুতে পৌছাতে পারবেন। তবে, সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করলে সেতুর টোল ২০/- টাকা কে পরিশোধ করবে এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

কোথায় থাকবেন

ঢাকার পাশেই অবস্থিত হওয়ার পরও মুন্সীগঞ্জ জেলায় থাকার জন্য ভালমানের হোটেল খুঁজে পাওয়া কঠিন। ঢাকা থেকে এখানে এসে মানুষ ঐদিনই ফিরে যেতো। তবে মুন্সীগঞ্জ শহরে থাকতে হলে আপনি ‘হোটেল কমফোরটে উঠতে পারেন। এছাড়া হোটেল থ্রি স্টার ইন্টারন্যাশনালেও উঠতে পারেন তবে এই হোটেলের কক্ষের মান তেমন উন্নত নয়। উভয় হোটেলেই কক্ষের মানভেদে ভাড়া পরবে ১০০/- টাকা থেকে ৭০০/- টাকা। মুন্সীগঞ্জ ও এই জেলার আশেপাশে অবস্থিত কিছু হোটেল, গেস্ট হাউজ ও রিসোর্ট সম্পর্কে তথ্য নিম্নে প্রদান করা হলঃ
১। মাওয়া রিসোর্ট
যোগাযোগঃ মোঃ আলী
ফোনঃ ০১৭১১৬৭৬০৫৮

২। পদ্মা রিসোর্ট
যোগাযোগঃ মোঃ আলী
ফোনঃ ০১৭১৩০৩৩০৪৯

৩। পদ্মা রেস্ট হাউজ
যোগাযোগঃ নির্বাহী প্রকৌশলী
সেতু বিভাগ, সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রনালয়
ফোনঃ ০১৭১৫৫৬১৯৩৩

খাবার সুবিধা

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন