নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার পারুলিয়ায় এই মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদের মূল ফটকে রক্ষিত একটি পারস্য শিলালিপি থেকে জানা যায় ১১২৬ হিজরী/১৭১৪ সালে জনৈক নাসির নামক ব্যাক্তির কন্যা এবং দিওয়ান শরীফ নামক ব্যাক্তির স্ত্রী বিবি জয়নাব এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির অভ্যন্তরের দৈর্ঘ্য ১৮.২৯ মিটার, প্রস্থ ৫.১৮ মিটার এবং মসজিদের দেয়ালের ঘনত্ব ১.৫২ মিটার। দুটি ধনুকআকৃতির সমান্তরাল পথের মাধ্যমে মসজিদের অভ্যন্তরকে তিনটি বর্গাকারভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ভাগের উপরেই একটি করে গম্বুজ রয়েছে। প্রতিটি গম্বুজে নকশা ও অলংকার খোদাই করা আছে। ব্যাতিক্রম হিসেবে মসজিদের চারকোণায় অষ্টভুজ টাওয়ার রয়েছে যেগুলোর প্রতিটির উচ্চতা কার্নিশ পর্যন্ত। মুঘল স্থাপত্যশৈলীতে কোনার টাওয়ারগুলোর উচ্চতা সাধারণত কার্নিশকে ছাড়িয়ে যায়। মসজিদটির মোট পাঁচটি ধনুকআকৃতির ফটকের মধ্যে পূর্বদিকের দেয়ালে তিনটি, উত্তর ও দক্ষিন দিকের দেয়ালে একটি ফটক রয়েছে। মসজিদের মাঝখানের ফটকটি অন্যান্য ফটকের চেয়ে বড়। মসজিদের মূল ফটকের বাইরের দিকটি উপরিভাগ অর্ধগম্বুজ আকৃতির ছাদের নীচে অবস্থিত যেটি একটি আয়াতক্ষেত্রাকার কাঠামোর উপর নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যান্য ফটকগুলো সামান্য নিচু আয়াতক্ষেত্রাকার কাঠামোর উপর নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের পশ্চিমদিকের দেয়ালে পূর্বদিকের ফটকগুলো বরাবর তিনটি মিহরাব অবস্থিত। সবকটি মিহরাব এবং ধনুকআকৃতির ফটকগুলো অলংকারখচিত আয়াতক্ষেত্রাকার কাঠামোর উপর নির্মাণ করা হয়েছে। মিহরাব এবং ফটকের উভয়দিকেই ধনুকআকৃতির কোটর রয়েছে। ফটকগুলোর বাইরের অংশে বর্গাক্ষেত্রাকার এবং আয়াতক্ষেত্রাকার নকশা রয়েছে। ১৮৯৭ সালের ভুমিকম্পে মসজিদটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরবর্তীতে মসজিদটি মেরামত করা হয়। মসজিদের সামনের বর্গাক্ষেত্রাকার আঙ্গিনাটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। তবে প্রাচীরের উচ্চতা খুব বেশি নয় তবে প্রাচীরের পূর্বদিকেএকটি চমৎকার ফটক রয়েছে।পারুলিয়া মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণদিকে অবস্থিত দুটি পুকুর মসজিদ অঙ্গনকে ঠাণ্ডা রাখার পাশাপাশি মসজিদের সৌন্দর্য বহুগুনে বৃদ্ধি করেছে।
মসজিদের পশ্চিমে দিওয়ান শরীফ এবং বিবি জয়নাবের এক গম্বুজবিশিষ্ট দরগা অবস্থিত। প্রতিবছর এখানে বছরের একটি নির্দিষ্ট মাসে মেলা (স্থানীয়ভাবে ওরশ বলা হয়) অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষজন অংশ নিয়ে থাকে। এসময় এখানে বিভিন্ন খাবার ও খেলনা পাওয়া যায়। মানুষ এখানে এসে প্রার্থনা করে এবং নিজেদের জীবনের সমৃদ্ধির জন্য কিছু চেয়ে থাকে।
ঢাকার গুলিস্তান ও মহাখালি থেকে বাসে করে নরসিংদীতে পৌছাতে পারবেন। তবে, ভৈরবগামী বাসে উঠলে আপনাকে নরসিংদীর ভেলানগর বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। গুলিস্তান থেকে বাসে উঠলে আপনাকে শাহেপ্রতাপ বাসস্ট্যান্ডে নেমে আবার ভেলানগর বাসস্ট্যান্ডগামী বাসে উঠতে হবে। ৫/- টাকা থেকে ১০/- টাকা ভাড়ায় আপনি ভেলানগরে পৌছাতে পারবেন। ভেলানগর থেকে ২০/- টাকা থেকে ৩০/- টাকা ভাড়ায় সিএনজি অটোরিকশা, মিনিবাসে করে চরনগরদি হয়ে পারুলিয়া বাজারে (পলাশ থানায়) পৌছাতে পারবেন।
নরসিংদী জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই উন্নত। বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এই জেলা দিয়ে অতিক্রম করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে এই জেলায় যেতে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগে। বেশকিছু নদী নরসিংদীর মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই জেলার নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ উন্নত। বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত দুটি রেলপথ (ঢাকা-চট্রগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট) এই জেলার উপর দিয়ে চলে গিয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল থেকে নরসিংদীর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বাস চলাচল করে। যেমনঃ গুলিস্তান থেকে চলাচল করে ন্যাশনাল এক্সপ্রেস (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত)ও বিআরটিসির (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) বাস। এছাড়া সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চলাচল করে মনোহরদী পরিবহন, আনা সুপার সার্ভিস, বিআরটিসির বাস এবং মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে পিপিএল, চলনবিল ট্রান্সপোর্ট, আরাবিয়ান ট্রান্সপোর্ট, বাদশা পরিবহনসহ বিভিন্ন বাস চলাচল করে।
ঢাকা থেকে নরসিংদীতে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। ন্যাশনাল পরিবহন
১৮, খাজা সুপার মার্কেট কাউণ্টার, ফোনঃ ৮০২৩০৯২
কল্যাণপুর কাউণ্টার, ফোনঃ ০১৭১৩২২৮২৮৬
কলাবাগান কাউণ্টার, ফোনঃ ৯১৪৩৩৭২
গাবতলি কাউণ্টার (খ-২২), ফোনঃ ৯০০৫৮৪৪
২। আল-মোবারোকা ট্র্যাভেলস
সেকশন# ১১, লেন# ১৫, ব্লক# এ, বাসা# ১৩, মিরপুর, ঢাকা
ফোনঃ ৯০১০৫২৯, ৮০১০৮১৩,৭৫১৫৮৮৮
৩। বিআরটিসি
বিআরটিসি বাস ডিপো, কমলাপুর, ঢাকা
ফোনঃ ৯৩৩৩৮০৩, ৯০০২৫৩১
৪। ঈগল পরিবহন
ঢাকার কাউণ্টারসমূহঃ
গাবতলি বাস টার্মিনাল, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
আরামবাগ কাউণ্টার (নটরডেম কলেজের বিপরীতে)
ফোনঃ ০২-৮০১৭৬৯৮, ৯০১৩২২৪, ৮৩৫৩২০০, ৮৯৫৯৮২০, ৯১১৬৮৩৭, ৭১০১৫০৪, ০১১৯৯২৪৫৭৩৯
৫। খালেক এন্টারপ্রাইজ
ক-২৫৯/বাগবাড়ি (পুরাতন বিউটি সিনেমা হলের সামনে), এশিয়ান হাইওয়ে, গাবতলি, মিরপুর, ফোনঃ ০২-৮০১৫২৬২
গাবতলি কাউণ্টার, ফোনঃ ০২-৮০১৫২২৪
মৌচাক বুথঃ ২৩৬, মালিবাগ (ফুজি কালারের পেছনে), ফোনঃ ০২-৯৩৪৫৮০৪
ঢাকা থেকে নরসিংদী জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত। ঢাকা থেকে সড়কপথে নরসিংদীর দূরত্ব ৫৯.৪ কিলোমিটার। রেলযোগে ঢাকা থেকে নরসিংদী যেতে সময় লাগবে প্রায় দেড় ঘণ্টা। শুধুমাত্র নরসিংদী জেলাতেই রয়েছে ১০টি রেলস্টেশন। ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম ও সিলেটে চলাচলকারী বিভিন্ন ট্রেন নরসিংদীতে যাত্রা বিরতি করে। এছাড়া তিতাস কমিউটার এবং এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সরাসরি নরসিংদীতে চলাচল করে।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য ক্লিক করুন http://bdallinfo.com/trains-from-narsingdi/
নরসিংদীতে থাকার জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হোটেল, গেস্ট হাউজের মধ্যে রয়েছেঃ
১। নরসিংদী সার্কিট হাউজ (সরকারি)
ফোনঃ ০২৯৪৬২০৮৩, ০১৭৩৫৮৪০২৯৪
২। জেলা পরিষদ পোস্টাল বাংলো (সরকারি)
পোস্টাল বাংলো সড়ক, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬৩৭৬৫
মোবাইলঃ ০১৭১২-৫২১২৭৪
৩। ডাক বাংলো (সরকারি)
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬৩১৮১
৪। রেস্ট হাউজ (সরকারি)
সিভিল সার্জনের কার্যালয়, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬২২৬০
৫। রেস্ট হাউজ (সরকারি)
এলজিইডি কার্যালয়, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬২২৬০
৬। ইউএমসি জুট মিলস (সরকারি)
কাউরিয়াপাড়া, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬৬৫১
৭। হোটেল নিরালা (আবাসিক)
লাইব্রেরি পট্টি, নরসিংদী মার্কেট, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬৩৩৯৩
মোবাইলঃ ০১৭১১১৯৬৬৯৯
৮। হোটেল আল আরাফাত (আবাসিক)
২১৫/১, সিএন দাবি রোড, বাসস্টেশন, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬৩৩৯৩
মোবাইলঃ ০১৭১২১৩০১৩৯
৯। হোটেল মমতাজ
পাতিলবাড়ি সড়ক, নরসিংদী
মোবাইলঃ ০১৭১১৯৫২১২০
১০। হোটেল আজিজ (আবাসিক)
পাতিলবাড়ি সড়ক, নরসিংদী
মোবাইলঃ ০১৭১২০৭০২৩১
১১। হোটেল রিয়াজ (আবাসিক)
পাতিলবাড়ি সড়ক, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬৫১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬০৯০৪৫
১২। হোটেল তানিম (আবাসিক)
পাতিলবাড়ি সড়ক, নরসিংদী
ফোনঃ ৯৪৬৩৯৮২
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৯১৬১৪৩
১৩। হোটেল আল মামুন (আবাসিক)
বাজির মোড়, নরসিংদী
মোবাইলঃ ০১৭১১৩৪১৯৪০
নরসিংদীতে খাওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!