খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া জেলার রেলস্টেশনের কাছে লালন ফকিরের আখড়া অবস্থিত। তিনি ছিলেন বহু গুনের অধিকারী। যেমনঃ তিনি ছিলেন একজন আধ্যাত্মিক নেতা, একজন জাদুকরি কবি, একজন সংস্কারক এবং বাউল গানের রচয়িতা। গবেষকরা বলেন লালন ফকির ১৭৭৪ সালে জন্ম গ্রহন করেন এবং ১৮৯০ সালে মৃত্যুবরন করেন। লালনের জীবনের প্রথম দিকের বর্ণনা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে যা খণ্ডানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা বলেন, কুষ্টিয়ার ভারোরা গ্রামের এক কায়াস্থ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন লালন। প্রতি বছর কুষ্টিয়ার লালনের আখড়ায় লালন উৎসব পালিত হয় যেখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাউল এবং লালনের ভক্তরা জড়ো হন। অনেকেই সেসময় বাউল গান গেয়ে থাকে যা শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
কুষ্টিয়া রেল স্টেশন থেকে লালনের আখড়ার দূরত্ব মাত্র ২ কিলোমিটার। তাই বাস অথবা রিকশায় করে আপনি এখানে আসতে পারবেন।
আপনার সুবিধার্থে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ায় চলাচলকারী বাসগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য নিম্নে প্রদান করা হলঃ
১। এসবি সুপার ডিলাক্স
গাবতলি কাউণ্টার, ফোনঃ ০২-৯০০০৬২৭
ভাড়াঃ ৬০০/- টাকা (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত), ৪৫০/- টাকা নন এসি
২। শ্যামলী পরিবহন
গাবতলি কাউণ্টার, ফোনঃ ০১৭১১-৯৮৭০২৮
আপনার সুবিধার্থে কুষ্টিয়ায় থাকার জন্য কিছু হোটেল ও গেস্টহাউজ সম্পর্কে নিম্নে তথ্য প্রদান করা হলঃ
• আজমিরী হোটেল, ফোনঃ ৫৩০১২
• দেশা গেস্ট হাউজ, ফোনঃ ০১৭২০৫১০২১২
• হোটেল আল আমিন, ফোনঃ ৫৪১৯৩
• হোটেল গোল্ড স্টার, ফোনঃ ০৭১৬১৬৭৫
• হোটেল রিভার ভিউ, ফোনঃ ০৭১৭১৬৬০
প্রতিবছর ফাল্গুন মাসে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে) ঢোল পূর্ণিমায় এবং অক্টোবরে লালন স্মরণ উৎসবে বাউল গায়ক এবং উৎসাহীরা প্রচুর সংখ্যায় লালনের আখড়ায় এসে থাকেন। এই উৎসবগুলোর সময় বাউলেরা তাঁদের আধ্যাত্মিক নেতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মার তৃষ্ণা মেটাতে আবেগের সাথে লালনগীতি গেয়ে থাকেন। এ সময় লালন আখড়ায় আসলে আপনি নিঃসন্দেহে উপভোগ করবেন।
এছাড়া আপনি কুষ্টিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যেতে পারেন। যেমনঃ দেশের অন্যতম প্রাচীনতম পরিমল থিয়েটার, গোপীনাথ জিওর মন্দির ইত্যাদি। আপনি দেব জগন্নাথের স্মরণে কুষ্টিয়ায় পালনকৃত ঐতিহ্যবাহী রথ যাত্রা উপভোগ করতে পারেন।
কুষ্টিয়াতে খাওয়ার জন্য ভালমানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!