আতিয়া জামে মসজিদ

ধরন: মসজিদ / ঈদগাহ
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

পুরাতন দশ টাকার নোটের ডানদিকে এই মসজিদটির ছবি রয়েছে। তবে আজকাল দশ টাকার পুরাতন নোটটি ব্যাঙ্কে পাওয়া যায় এবং মাঝে মাঝে মানুষের হাতে দেখা যায়। প্রায় চারশত বছর পুরাতন ঐতিহাসিক আতিয়া মসজিদ টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার থানায় অবস্থিত। আতিয়া গ্রামের সাথে মিল রেখে মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে লৌহজং নামে একটি ছোট নদী মসজিদের কাছ দিয়ে বয়ে গিয়েছে। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১৮ মিটার এবং প্রস্থ ১২ মিটার। আতিয়া মসজিদে চারটি গো্লাকারের গম্বুজ রয়েছে যেগুলোর মধ্যে বড় গম্বুজটি মসজিদের পশ্চিম অংশে অবস্থিত। বাকি তিনটি গম্বুজ আকারে ছোট এবং মসজিদের পূর্বদিকে একই সারিতে অবস্থিত। গম্বুজগুলো দেখে মনে হয় যেনো বড় গম্বুজটি হল ইমাম এবং বাকি গম্বুজগুলো হল মুসল্লি। গম্বুজগুলোর নীচের অংশে নকশার কাজ রয়েছে এবং উপরে ছোট মিনারের মত বস্তু রয়েছে। মসজিদের চারকোণায় চারটি চমৎকার নকশা করা পিলার রয়েছে।

আতিয়া মসজিদের পূর্ব এবং উত্তর দিকের বাইরের দেয়ালে টেরাকোটার উপর চমৎকার বৃত্তের মাঝে ছোট ফুলের নকশার কাজ রয়েছে। মসজিদের পূর্বদিকে তিনটি, উত্তর ও দক্ষিন দিকে দুটি করে প্রবেশপথ রয়েছে।

১৬১০ সালে বাইজিদ খান পন্নীর পুত্র মুসলিম জমিদার সাইদ খান পন্নী এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। তিনি মসজিদের পশ্চিমদিকে একটি বড় পানির ট্যাংক খনন করেছিলেন। স্থানীয়রা বলে থাকেন সাধক শাহ বাবা কাশ্মীরির সম্মানে এই আতিয়া মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

১৮০০ সালের প্রচণ্ড ভুমিকম্পে আতিয়া মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১৮৩৭ সালে মসজিদটি পুনঃ নির্মাণ করা হয়। এছাড়া ১৯০৯ সালে টাঙ্গাইলের করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ও দেলদুয়ারের জমিদার আবু আহমেদ গজনবী খান যৌথভাবে মসজিদটি পুনঃ নির্মাণ করেন।


কিভাবে যাবেন

(১)প্রথমেই আপনাকে টাঙ্গাইল শহরে পৌছাতে হবে। ঢাকার মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন বাস যেমনঃ ঝটিকা সার্ভিস, ধলেশ্বরি সার্ভিস সরাসরি টাঙ্গাইলে চলাচল করে। এসব বাসে যেতে ভাড়া পরবে প্রায় ১২০/- টাকা এবং সময় লাগবে আড়াই থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। আপনাকে টাঙ্গাইলের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের জিপিএস অবস্থান হল (২৪°১৫’৪.৮৮”উ, ৮৯°৫৫’১১.৪৪”পু);
(২)এখন পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে ১ মিনিট হেঁটে বেবিস্ট্যান্ডে এসে আপনাকে পাথরাইল বটতলা পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করতে হবে। এতে ভাড়া পরবে প্রায় ১৫/- টাকা এবং সময় লাগবে ১৫ মিনিট থেকে ২০ মিনিট। পাথরাইল বটতলার জিপিএস অবস্থান হল (২৪°১১’৫৫.০৯”উ, ৮৯°৫৬’১৯.১৫”পু);
(৩) বট তলা থেকে আবারো সিএনজি অটোরিকশায় করে ১০/- টাকা ভাড়ায় প্রায় ১০ মিনিটে আতিয়া মসজিদে পৌছাতে পারবেন। আতিয়া মসজিদের জিপিএস অবস্থান হল (২৪°১১’২.৬৪”উ, ৮৯°৫৪’৮০.৮০”পু);
এছাড়া আপনি ব্যাক্তিগত গাড়িতেও যেতে পারেন অথবা সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে যেতে পারবেন।

কিভাবে পৌঁছাবেন: টাঙ্গাইল জেলা

বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে লৌহজং নদীর তীরে অবস্থিত একটি জেলার নাম টাঙ্গাইল। ঢাকা বিভাগে অবস্থিত টাঙ্গাইল জেলার উত্তরে জামালপুর জেলা, দক্ষিনে ঢাকা ও মানিকগঞ্জ জেলা, পূর্বে ময়মনসিংহ এবং গাজীপুর জেলা এবং পশ্চিমে সিরাজগঞ্জ জেলা অবস্থিত। ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল প্রায় ৮৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঢাকা থেকে কালিয়াকৈর এবং টঙ্গী হয়ে টাঙ্গাইলে পৌছাতে প্রায় ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট সময় লাগবে।

১। নিরালা পরিবহন ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে উভয়পথে নন-এসি চেয়ার কোচ পরিচালনা করছে।
নিরালা পরিবহনের ঢাকা কাউণ্টার:
আব্দুল্লাহপুর বোর্ড বাজার বাস কাউণ্টার
মোবাইলঃ০১৭১১৫৯৫৭৭৬
ঢাকা থেকে বাস ছাড়ার স্থান সমূহ:
• মহাখালি
• আজমপুর
• আবদুল্লাহপুর
ঢাকা থেকে পরিবহনের ভাড়াঃ
ঢাকা থেকে বাসে করে টাঙ্গাইলে যেতে প্রায় ১৫০/- টাকা খরচ হবে।
২। ধলেশ্বরী সিটিং সার্ভিস
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে চলাচল করে
ভোর ৫:৩০ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাস ছেড়ে যায়।
ভাড়াঃ ৯০/- টাকা
ধরনঃ চেয়ার কোচ
ঠিকানাঃ মহাখালি কাউণ্টার, মহাখালি ঢাকা

৩। আল-রাফি পরিবহন
ঠিকানাঃ সায়েদাবাদ কাউণ্টার
ফোনঃ ০১১৯৫৩৭৪৩৬১, ০১৭১১৩৫৭১৮২
বিবিধ:
• আপনাকে অবশ্যই যাত্রার অন্তত ১৫ মিনিট পূর্বে বাসস্ট্যান্ডে পৌছাতে হবে।
• যাত্রীরা কোনভাবেই তাঁদের সাথে কোনরকম অবৈধ জিনিস বহন করতে পারবেন না।
• বাসে ধূমপান করা নিষেধ।
• বাসস্ট্যান্ডে দেরিতে আসার কারনে বাস ছেড়ে দিলে টিকেটের দাম ফেরত দেওয়া হবে না।

কোথায় থাকবেন

টাঙ্গাইলে থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। এসবের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ
১। পলাশ হাউজ/ নাইট গন্ধা রেসিডেনসিয়াল হোটেল
মসজিদ রোড, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৫৩১৫৪
২। আল ফয়সাল হোটেল রেসিডেনসিয়াল
মসজিদ রোড, টাঙ্গাইল

ফোনঃ ০৯২১-৫৩৯১৮
৩। হোটেল সাগর রেসিডেনসিয়াল
নিউ মার্কেট রোড, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৫৪৩০৮
৪। আফরিন হোটেল
মসজিদ রোড, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৯১৬৭৮২৩৮৯
৫। এস এস রেস্ট হাউজ
আকুরাতাকুর পাড়া, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৫৫১৮০
৬।পল্লী বিদ্যুৎ রেস্ট হাউজ
টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৫৩৩৯০
৭।এলজিইডি রেস্ট হাউজ(সরকারি)
টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৫৪২৬১
৮। সুগন্ধা হোটেল
পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৬৭৪-৩৪৬৮১৫
৯। নিরালা হোটেল
নিরালা মোড়, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৬১৩৬৩
১০। পিয়াসি হোটেল
নিরালা মোড়, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৭১১-৩৫২৪৯৩
১১। হোটেল কিছুক্ষন
নিরালা মোড়, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৫৫২১৯
১২। হোটেল আদিত্য(আবাসিক)
মধুপুর, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৭১৬-৭৯৬০৬৫
১৩। হোটেল ড্রিম টাচ (আবাসিক)
মধুপুর, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৭১৭২১৮৭৯৯
১৪। শালবন রেসিডেনসিয়াল হোটেল
মধুপুর, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৭১৩৪৬২১০৩
১৫। ইসলামিয়া গেস্ট হাউজ
মধুপুর, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৯১৭৫৬৬২৩৪
১৬। ভাই ভাই গেস্ট হাউজ
মধুপুর, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১১৯০৯৭৫৫৩৯
১৭। যমুনা রিসোর্ট লিমিটেড
কালীহাতি, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২৩৯-৭৬০৩২-৪
ফ্যাক্সঃ ০৯২৩৯-৭৬০৩২৫
১৮। এলেঙ্গা রিসোর্ট লিমিটেড রেসিডেনসিয়াল হোটেলস
এলেঙ্গা, কালীহাতি, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০২-৯৮৮৪৩২২
ফ্যাক্সঃ ০২-৯৮৮১২৯০

কি করবেন

আতিয়া মসজিদে আপনি নামাজ পড়তে পারেন, ছবি তুলতে পারেন এবং মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন।

খাবার সুবিধা

আতিয়া মসজিদের কাছে খাওয়ার জন্য কয়েকটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইল শহরে খাওয়ার জন্য বেশকিছু ভাল মানের হোটেল রয়েছে। তাই খাওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। টাঙ্গাইলে আসলে অবশ্যই বাংলাদেশের সেরা চমচম ‘পোড়াবাড়ির চমচমের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। টাঙ্গাইল থেকে ফেরার সময় পরিবার ও বন্ধুদের জন্য অবশ্যই মিষ্টি নিতে ভুলবেন না। টাঙ্গাইলের পাঁচ আনি বাজারে নানা পদের সর্বোৎকৃষ্ট মানের মিষ্টি পাওয়া যায়। পাঁচ আনি বাজারের জিপিএস অবস্থান হল (২৪°১৪’৫৬.১৭”উ, ৮৯°৫৪’৫১.৯৪”পু)

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন