সাদী মসজিদকে বলা যায় দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংরক্ষিত স্থাপনার একটি। মসজিদের কেন্দ্রস্থলের মিহরাবের উপর স্থাপিত শিলালিপি থেকে জানা যায় যে ১০৬২ হিজরী (১৬৫২ সালে) সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে জনৈক শাইখ শিরুর পুত্র সাদী এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।
একটি গোলাকার গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাক্ষেত্রাকার এই মসজিদটি উঁচু জমির উপর নির্মাণ করা হয়। প্রতি বাহু ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যর এই মসজিদটির পূর্বে তিনটি, উত্তরদিকে মাঝ বরাবর একটি এবং দক্ষিন দিকে একটি ধনুকআকারের ফটক রয়েছে। মসজিদের মাঝখানের বড় ফটকটি একটি আয়াতক্ষেত্রাকার কাঠামোর উপর নির্মাণ করা হলেও অন্যান্য ফটকগুলো সামান্য নিচু আয়াতক্ষেত্রাকার কাঠামোর উপর নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের কিবলার দেয়ালে পূর্বদিকের দরজা ফটকগুলো বরাবর তিনটি অর্ধ অষ্টভুজাকার মিহরাব রয়েছে। মসজিদের নির্মাণশৈলীতে মুঘল এবং সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর চমৎকার মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায় আর এজন্যই অন্যান্য স্থাপত্য থেকে খুব সহজেই এই মসজিদটিকে আলাদা করা যায়। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে টেরাকোটার কাজ রয়েছে।
প্রথমেই আপনাকে কিশোরগঞ্জে পৌছাতে হবে।
ঢাকা অথবা কিশোরগঞ্জ থেকে সাদী মসজিদে পৌছানোর নির্দেশনা নিম্নে দেওয়া হলঃ
১। প্রথমেই আপনাকে এগারোসিন্দুরে অবস্থিত গোয়ালঘাটে পৌছাতে হবে। গোয়ালঘাটের জিপিএস অবস্থান হল (২৪°১৫’৪৫.৬৪”উ, ৯০°৩৯’২৩.৮৫”পু)। ঢাকার মহাখালি থেকে আপনি এখানে বিভিন্ন বাসে করে আসতে পারেন যেমনঃ কিশোরগঞ্জের জলসিঁড়ি, অনন্যা এবং নান্দাইলের বন্যা পরিবহন। এসব বাসে ভাড়া পড়বে প্রায় ১৩০/- টাকা। তবে, বাসের হেলপারকে আগে থেকে জানিয়ে রাখতে হবে যে আপনি গোয়ালঘাটে নামতে চান।
২। কিশোরগঞ্জ থেকে আসলে আপনি সিএনজি অটোরিকশায় করে প্রায় ৩০/- টাকা ভাড়ায় পাকুন্দিয়ায় পৌছাতে পারবেন। পাকুন্দিয়া থেকে সিএনজি অটোরিকশা অথবা ব্যাটারিচালিত বাহনে করে প্রায় ২৫/- টাকা ভাড়ায় গোয়ালঘাটে যেতে পারবেন। গোয়ালঘাট থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বে সাদী মসজিদ অবস্থিত। সাদী মসজিদের জিপিএস অবস্থান হল (২৪°১৫’৪৪৭৮”উ, ৯০°৩৯’৩৪.৮৬”পু)।
কিশোরগঞ্জ সদরের অবস্থান ২৪.৪৩৩৩°উ ৯০.৭৮৩৩°পূর্বে। ১৯৩.৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কিশোরগঞ্জ সদরে প্রায় ৫৫৮২৮টি বসতবাড়ি রয়েছে। এই জেলায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্ব জন্মগ্রহন করেছেন। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার (কিশোরগঞ্জ জেলা) উত্তরে নান্দাইল উপজেলা, দক্ষিনে পাকুন্দিয়া এবং কাটিয়াদি উপজেলা, পূর্বে করিমগঞ্জ এবং তাড়াইল উপজেলা পশ্চিমে হোসাইনপুর ও নান্দাইল উপজেলা অবস্থিত। কিশোরগঞ্জ জেলার প্রধান নদী হল নরসুন্দা নদী।
ঢাকা ও কিশোরগঞ্জের মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। জলসিরি
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে চলাচল করে
প্রথম বাস ছাড়ে ভোর ৫টায় এবং শেষ বাস ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৭টায়
ভাড়াঃ ১৩০/- টাকা (পরিবর্তনশীল)
২। নাবিল পরিবহন
ঠিকানাঃ ১৫/১, পুরাতন গাবতলি, মিরপুর, ঢাকা-১২১৮
ফোনঃ ০২-৯০০৭০৩৬, ০২-৯০১১১৪৩
৩। ড্রিম লাইন
ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে কিশোরগঞ্জ চলাচল করে
ফোনঃ ০১৭১১৩৭৭৫৮৬
৪। কিশোরগঞ্জের বোটরিশ বাসস্ট্যান্ড থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
একতা সার্ভিস (লোকাল)
কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরব হয়ে ঢাকার সায়েদাবাদে চলাচল করে
ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ছেড়ে যায়।
৫। ঈশা খাঁ সুপার গেইট লক
কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার সায়েদাবাদে চলাচল করে
ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ছেড়ে যায়
৬। এম কে সুপার
কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের মধ্যে চলাচল করে
ভোর ৬:৫০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬:১০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ছেড়ে যায়
৭। অতিথি
কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের মধ্যে চলাচল করে
ভোর ৬:৪৫ মিনিটে এবং সকাল ৭:২০ মিনিটে দুটি বাস ছেড়ে যায়
আপনাকে আগাম এই বাসের আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
মোবাইলঃ ০১৭১৮৪৮১১৯২ (কিশোরগঞ্জ কাউণ্টার)
০১৯১৯০১৯১৯৭ (টাঙ্গাইল কাউণ্টার)
৮। এশা এন্টারপ্রাইজ
কিশোরগঞ্জ ও চট্রগ্রামের মধ্যে চলাচল করে
দুপুর ১:২০ মিনিটে এবং দুপর ২:২০ মিনিটে দুটি বাস ছেড়ে যায়
আপনাকে আগাম এই বাসের আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
মোবাইলঃ ০১৭১৩৫৭৭৩০৪
কিশোরগঞ্জে থাকার জন্য হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। হোটেল তেপান্তর প্রিন্সেস
জামিরদিয়া মাস্টার বাড়ি, ভালুকা
ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ
২। হোটেল রিভার ভিউ
স্টেশন রোড, কিশোরগঞ্জ
৩। হোটেল শাহিনা (আবাসিক)
স্টেশনরোড, কিশোরগঞ্জ
3. Hotel shahina (Resident)
৪। বাংলাদেশ গেস্ট হাউজ
স্টেশন রোড, কিশোরগঞ্জ
৫। হোটেল গাংচিল (আবাসিক)
স্টেশন রোড, কিশোরগঞ্জ
মসজিদটি ঘুরে দেখতে পারেন এবং মসজিদের ছবি তুলতে পারেন।
খাওয়ার জন্য আশেপাশে বেশকিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট পেয়ে যাবেন। এছাড়া কিশোরগঞ্জ জেলায় খাওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!