বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউটের ইতিহাসের আরম্ভ হয় ১৮৪০ সালে যখন চট্রগ্রামের পাহাড়ের ঢালে (বর্তমানে যেখানে চট্রগ্রাম ক্লাব অবস্থিত) স্থাপন করা হয়েছিল একটি চা বাগান। ১৮৫৭ সালে সিলেটের মালিনীছড়া চা বাগান প্রতিষ্ঠিত করা হয় বাণিজ্যিকভিত্তিতে প্রথমবারের মত চা উৎপাদন করার জন্য। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের সময় বাংলাদেশে (তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে) চা চাষ করা হত ২৬,৭৩৫ হেক্টর জমিতে ১০৩টি চা বাগানে। সেসময় সারা বছর ১৮.৩৬ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হত যা ছিল প্রতি হেক্টরে ৬৩৯ কেজি । ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত গৃহ্পর্যায়ে চায়ের চাহিদা ছিল ১৩.৬৪ মিলিয়ন কেজি। এরপর চায়ের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেলে ১৯৬১ সালে সরকার প্রতি বছর চা চাষের জন্য ৩% হারে জমি বৃদ্ধি করা বাধ্যতামূলক করে। এরই ফলশ্রুতিতে দশ বছর পর ১৯৭০ সালে চা চাষের জমির পরিমান বেড়ে দাড়ায় ৪২,৬৫৮ হেক্টরে এবং বার্ষিক উৎপাদন বেড়ে দাড়ায় ৩১.৩৮ মিলিয়ন কেজি।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের (বিটিবি)অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হল বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই)। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর এ দেশের চা শিল্পতে প্রযুক্তির ব্যাবহার ছিল সীমিত। চা চাষ এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং বিজ্ঞানভিত্তিক চা শিল্প প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে তৎকালীন পাকিস্তান চা বোর্ড ১৯৫২ সালে তাদের নিজেদের একটি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। সেই ফলশ্রুতিতে ১৯৫৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান চা গবেষণা কেন্দ্র শ্রীমঙ্গলের বর্তমান ঠিকানায় যাত্রা শুরু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে এই কেন্দ্রটিকে একটি বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউটে (বিটিআরআই) রুপান্তর করা হয়। বর্তমানে দেশের ১০টি জাতীয় কৃষি গবেষণা পদ্ধতির (এনএআরএস) একটি হল বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট।
ঢাকা থেকে ১৮৩.২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিটিআরআইতে আপনি সরাসরিও যেতে পারেন। এজন্য আপনাকে শ্রীমঙ্গলে পৌঁছে বাস অথবা সিএনজি অটোরিকশা করে শ্রীমঙ্গল ভানুগাছ সড়কের শেষ প্রান্তে পৌঁছে ডানে মোড় নিতে হবে।
আপনি সড়কপথে এবং রেলপথে ঢাকা থেকে সরাসরি শ্রীমঙ্গলে যেতে পারবেন। তবে, আকাশপথে সিলেটে পৌঁছে সেখান থেকেও আপনি শ্রীমঙ্গলে আসতে পারেন।
ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলের মধ্যে চলাচলকারি বাসগুলোর মধ্যে আছেঃ
১। শ্যামলী পরিবহনঃ
• প্রধান কার্যালয়ঃ ২৫/বি-১, খিলজি রোড, মোহাম্মাদপুর, শ্যামলী, ঢাকা, ফোনঃ ৯১২৪১৩৯;
• কলাবাগান কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ৯১৪১০৪৭, ০১৭১-১১৩০৮৬২;
• উত্তরা কাউণ্টার, আব্দুল্লাহপুর ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১২৮৩৯১১১;
• কল্যাণপুর কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ৯০০৩৩৩১;
২। গ্রীনলাইন পরিবহনঃ
৯/২, আউটার সার্কুলার রোড (মমিনবাগ), রাজারবাগ, ঢাকা, ফোনঃ ৮৩৩১৩০২-৪, ৮৩৫৩০০৪-৫;
৩।হানিফ এণ্টারপ্রাইজঃ
২২/৩, ব্লক-বি, কলেজ গেইট, ঢাকা, ফোনঃ ৯০০৮৪৮০;
প্রতি সপ্তাহে ছাড়া শ্রীমঙ্গল থেকে তিনটি ট্রেন সকাল ৯:৫৬ মিনিটে, বিকাল ৫:০৫ মিনিটে এবং রাত ১২:৩৭ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং মঙ্গলবার ও বুধবার দুটি ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এসব ট্রেনে ঢাকায় পৌছাতে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা সময় লাগবে। এসব ট্রেনের ভাড়া হলঃ প্রথম শ্রেণী-২০০/- টাকা, সূলভ-১১০/- টাকা। বিকালে চলাচলকারী ট্রেনে আপনি ৩০০/- টাকা ভাড়ায় তাপানুকুল বগিতে এবং সন্ধ্যার ট্রেনে ৫০০/- টাকা ভাড়ায় স্লিপারে ভ্রমন করতে পারবেন।
১। শ্রীমঙ্গল টি রিসোর্টঃ
ভাড়াঃ (১৫% ভ্যাট এবং ৭% সার্ভিস চার্জ যোগ করতে হবে)
বাংলোঃ ৩৫০০/- টাকা থেকে ৫৫০০/- টাকা পর্যন্ত; স্যুইটঃ ৩৫০০/- টাকা; আইপি রুমঃ ২৫০০/- টাকা;
ঠিকানাঃ বাংলাদেশ চা বোর্ড, ভানুগাছ সড়ক, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার;
২। হোটেল টি টাউনঃ
ভাড়াঃ (১৫% ভ্যাট এবং ৫% সার্ভিস চার্জ যোগ করতে হবে)
ডিলাক্স নন এসিঃ ১০০০/- টাকা থেকে ১২৫০/- টাকা; দুজনের থাকার জন্য কক্ষঃ ১৩৫০/- টাকা, স্যুইটঃ ১৫৫০/- টাকা থেকে ১৮৫০/- টাকা;
ঠিকানাঃ ধাকা-সিলেট মহাসড়ক, শ্রীমঙ্গল;
৩। গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ ক্লাবঃ
আরমান খান (ভারপ্রাপ্ত প্রধান ব্যবস্থাপক), শ্রীমঙ্গল, ফোনঃ +৮৮০১৭৩০৭৯৩৫৫২-৫৯;
১। চা বাগানটি ঘুরে দেখতে পারেন।
২। চা বাগানের চমৎকার পরিবেশে ছবি তুলতে পারেন।
৩। বাগান থেকে কিভাবে চা পাতা সংগ্রহ করে দেখতে পারেন এবং এ সম্পর্কে জানতে পারেন।
আপনি শ্রীমঙ্গলে খাওয়ার জন্য বেশকিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট পাবেন।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!