বিছানাকান্দি

ধরন: জলপ্রপাত / ঝর্ণা
সহযোগিতায়: Nayeem ,Ariful Islam
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তম ইউনিয়নে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত একটি গ্রামের নাম বিছানাকান্দি। বাগান এবং পাহাড়ের নজরকাড়া সৌন্দর্যের মাঝে অবস্থিত প্রকৃতির এই অপরূপ লীলাভূমির উভয় প্রান্ত থেকে খাসি পাহাড় এসে যুক্ত হয়েছে। এখানে ঝর্ণার পাশাপাশি বর্ষাকালে কালো মেঘ পাহাড়গুলোকে আচ্ছাদিত করে ফেলে। এছাড়া এখানে ভোলাগঞ্জ অভিমুখে বয়ে গিয়েছে পিইয়াইন নদীর একটি শাখা। পাহাড়ি ঢলের সাথে বয়ে আসা বিশাল পাথরখণ্ডগুলো বিছানাকান্দিতে এসে পড়ে এবং পরবর্তীতে এই পাথরখণ্ডগুলোকে এখানেই ভাঙ্গা হয়।

জাফলং এর মত বিছানাকান্দিও একটি খনি এলাকা। পাথর বোঝাই নৌকা, ট্রাকের আনাগোনা এবং পাথর উত্তোলনের কারনে শীতকাল বিছানাকান্দিতে আসার জন্য একেবারেই উপযুক্ত সময় নয়। তবে, বর্ষাকালে এখানে পাথর উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট দূষণ না থাকায় আপনি এখানে এসে উঁচু পাহাড়, শান্ত নদী, মায়াবি ঝর্ণার সৌন্দর্যের পাশাপাশি রোদ ও মেঘের লুকোচুরি উপভোগ করতে পারবেন।


কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বিছানাকান্দির দূরত্ব প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার এবং সিলেট থেকে বিছানাকান্দি প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিছানাকান্দিতে যেতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে সিলেটে পৌছাতে হবে। বিছানাকান্দিতে আপনি একাধিক পথে যেতে পারবেন। বাস অথবা সিএনজি অটো রিকশায় করে বিমানবন্দর হয়ে সিলেট-গোয়াইনঘাট সড়ক ধরে যেতে পারেন। হাদারপুরে পৌঁছে নৌকা ভাড়া করে বিছানাকান্দিতে পৌছাতে পারবেন। সিলেটের আম্বরখানা থেকে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে হাদারপারে যেতে পারবেন।

এছাড়া আপনি প্রথমে পাংথুমাইয়ে যেতে পারেন এবং সেখানে বরহিল ঝর্ণার কাছে নৌকা ভাড়া করে এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে পিয়াইন নদী অতিক্রম করে বিছানাকান্দিতে পৌছাতে পারবেন। বিছানাকান্দিতে যাওয়ার পথে নৌকা ভ্রমনের অভিজ্ঞতা আপনি কখনোই ভুলবেন না কারন নৌকায় করে যাওয়ার পথে শান্ত নদীর দু ধারে ঘন সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করবে।

কিভাবে পৌঁছাবেন: সিলেট জেলা

ঢাকা থেকে সিলেটে আপনি সড়কপথে, রেলপথে এবং আকাশপথে পৌছাতে পারেন।

ঢাকা থেকে সিলেটের মধ্যে চলাচলকারি বাসগুলোর মধ্যে আছেঃ
১। গ্রীনলাইন পরিবহনঃ
ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়ঃ সকাল ৮:৩০ মিনিটে, সকাল ১০ টায়, বিকাল ৪:১৫ মিনিটে, বিকাল ৫:৩০ মিনিটে এবং রাত ১২:৩০ মিনিটে; ভাড়াঃ ৮৫০/- টাকা (ভলভো), ১১০০/- টাকা (স্কেনিয়া);
২। শ্যামলী পরিবহনঃ
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ৭১০২২৯১, ০১৯৩৬২৬০২৩;
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৮০৭৫৫৪১, ৭৫১১০১৯, ৭৫৫০০৭১;

৩। হানিফ পরিবহনঃ
পান্থপথকাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ০১৭৩৪০২৬৭০
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭১
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭৩

৪। টি আর ট্র্যাভেলস
৫। সোহাগ পরিবহন

উপরে উল্ল্যেখিত বাসগুলো প্রতিদিন ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে রাত ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকার মালিবাগ রেলগেট, রাজারবাগ এবং সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সিলেটের পথে ছেড়ে যায়। নন এসি এসব বাসের ভাড়া প্রায় ৫০০/- টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া প্রায় ৮০০/- টাকা থেকে ১০০০/- টাকা।

ঢাকা থেকে সিলেটে বাংলাদেশ বিমান, নভো এয়ার, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং রিজেণ্ট এয়ারওয়েজ দ্বিমুখী ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। এসব বিমান সংস্থার একমুখি পথের ভাড়া পড়বে ৩০০০/- টাকা থেকে ৮০০০/- টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০টির অধিক ফ্লাইট ঢাকা থেকে সিলেটে আসা যাওয়া করে।

ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস এবং উপবন এক্সপ্রেস যথাক্রমে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় ছেড়ে যায়। এছাড়া বিকালবেলা নয়া সংযোজিত কালিনী এক্সপ্রেস সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। রেলপথে সিলেটে পৌছাতে ৭ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। এসব ট্রেনের ভাড়া পরবে শোভন শ্রেণীর আসনের জন্য ২৯৫/- টাকা এবং তাপানুকুল প্রথম শ্রেণীর আসনের জন্য ৬৭৯/- টাকা।
ট্রেনের যাত্রার সময়সূচী:
১।কালিনী এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় বিকাল ৪ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ শুক্রবার;
২। পারাবত এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৬:৪০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে দুপুর ১:৩৫ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ৩ টায়; ঢাকায় পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ মঙ্গলবার;
৩। উপবন এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় রাত৯:৫০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় রাত ১০ টায়; ঢাকায় পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেটে বন্ধের দিন নেই তবে ঢাকায় বন্ধের দিনঃ বুধবার;
৪। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ১২ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ৭:৫০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৮:২০ মিনিটে; ঢাকায় পৌঁছে বিকাল ৪ টায়; সিলেট ও ঢাকায় ট্রেনটির কোন বন্ধের দিন নেই;
শ্রেণীভেদে এই ট্রেনগুলোর ভাড়া ৭৫/- টাকা থেকে ১০১৮/- টাকা পর্যন্ত।

কোথায় থাকবেন

সিলেটে থাকার জন্য বেশকিছু ভালমানের হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের বেশীরভাগ মাজার রোড, আম্বরখানা, এবং জিন্দাবাজারে অবস্থিত। এসব হোটেলের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ
১। হোটেল ইস্টার্ন গেইট এন্ড পানাহার রেস্টুরেন্ট।
২। হোটেল গুলশান।
৩। হোটেল দরগা ভিউ।
৪। গ্রিনল্যান্ড হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট।
৫। হোটেল সিটি লিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল।
৬। সুরমা ভ্যালী রেস্ট হাউজ।
৭। হোটেল বাহারাইন রেসিডেনসিয়াল।
৮। হোটেল কুরাইশি রেসিডেন্স।
৯। হোটেল আজমীর।
১০।হোটেল পায়রা।
১১।হোটেল সুপ্রিম।
১২।হোটেল পলাশ।
১৩।হোটেল ওয়েস্টার্ন।
১৪।হোটেল অনুরাগ।
১৫।হোটেল আল-আমীন।
১৬।হোটেল গার্ডেনস ইন।
১৭।হোটেল ফেরদৌস।
১৮।হোটেল পানামা।
১৯।হোটেল গ্রীন।
২০।হোটেল হিলটাউন।
২১।হোটেল রোজভিউ।
২২।হোটেল স্টার প্যাসিফিক।
২৩।হোটেল তাজমহল।

কি করবেন

১। পাহাড়ি ঢলের সাথে বয়ে আসা পাথর সংগ্রহ করতে পারেন।
২। বিছানাকান্দি ঝর্ণার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
৩। আদিবাসীদের বর্ণিল জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
৪। নৌকা ভ্রমন করতে পারেন।
৫। ছবি তুলতে পারেন।

খাবার সুবিধা

বিছানাকান্দিতে খাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। আপনাকে সিলেট থেকে সাথে করে খাবার নিয়ে যেতে হবে। সিলেটে অল্প খরচে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানকার খাওয়ার হোটেল ও রেস্টুরেন্টে নানা পদের মজাদার খাবার ও পানীয় পাওয়া যায়।

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন