বগুড়া জেলা স্কুল

ধরন: বিদ্যালয় / কলেজ / বিশ্ববিদ্যালয়
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

বাংলাদেশের বগুড়া জেলার সবচেয়ে প্রাচীন হাইস্কুল হচ্ছে বগুড়া জেলা স্কুল। এটি দেশের প্রথম সারির অন্যতম একটি স্কুল। এখানে তৃতীয় শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা প্রদান করা হয়। সরকারি স্কুল হওয়ার পূর্বে এটি একটি বেসরকারি ইংরেজি মধ্যম স্কুল ছিল।

১৮৫৩ সালে বগুড়া জেলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাবু ভগবতি চরণ ঘোষ ছিলেন এটির প্রথম প্রধান শিক্ষক। সরকারি স্কুল হওয়ার পূর্বে এটি একটি বেসরকারি স্কুল ছিল। তৎকালীন ম্যাজিসট্রেট এবং কালেক্টর জনাব রাসেল এবং ডেপুটি কালেকটর বাবু এস মুখারজির প্রচেষ্টায় স্কুলটি সরকারি ব্যাবস্থাপনার অধীনে আসে। ২০০৫ সালে স্কুলটি এটির ১৫০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করে।

ইংরেজ শাসনামলে বগুড়া জেলা স্কুল ছিল বগুড়া জেলায় দ্বিতীয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। বাবু ভগবতি চরণ ঘোষকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয় এবং তিনি এই পদে ছয় বছর স্থায়ী ছিলেন। দর্শন ভিত্তিক অনেক লেখনীর প্রনেতা বগুড়ার সন্তান বাবু কিশোরী লাল রায় এই স্কুলের প্রথমদিকের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বই সত্যের জন্য মুক্ত অনুসন্ধানে তিনি লিখেছিলেন “১৮৫৩ সালে এখানে একটি সরকারি ইংরেজি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়ে যেখান থেকে আমি এনত্ট্রেন্স পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হই।এই স্কুলের প্রথম এবং সর্বকালের সেরা প্রধান শিক্ষকের মতে আমার অগ্রগতি ছিল উল্লেখকরার মত দ্রুত। আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে বলতে চাই যে বাবু ভগবতি চরণ ঘোষের শিক্ষায় আমি সাড়ে চার বছরের মধ্যেই ইংরেজি ভাষা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করি। আমি সবসময় ভগবতি বাবুকে পৃথিবীতে আমার সর্বশ্রেষ্ঠ হিতকারী হিসেবে মনে করি এবং সবসময়ই করে যাবো”।

ভগবতি বাবুর সময়ে এখানে চারজন শিক্ষক ছিল। ন্যাশনাল স্কুল কমিটি অনুযায়ী আদালতের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পুত্র ও আত্মীয় স্বজনরা মূলত স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করে। ১৮৫৯ সালে ভগবতি বাবুর পর এ সি মুখারজি স্কুলটির প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন। তাঁর সময়ে ১৮৬২ সালে দুই জন ছাত্র দ্বিতীয় বিভাগে এবং একজন বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়। এ সময় থেকেই বাংলা ও ইংরেজি স্কুলে ছাত্রদের নৈপুণ্যের কারনে বই পুরস্কার দেওয়ার রীতি চলে আসছে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সময় একশতর অধিক টাকা আতশবাজির জন্য ব্যয় করা হত। ১৮৫৯-৬০ সালে উত্তর পূর্ব এলাকা এবং আসামের স্কুল পরিদর্শক জনাব ডব্লিউ রবিনসন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। তিনি আনন্দ দেওয়ার জন্যে জাদুর লন্ঠনের মাধ্যমে জাদুর আয়োজন করতেন এবং প্রকৃতির অনেক শিক্ষণীয় ঘটনা যেমন গ্রহ এবং নক্ষত্রের ঘূর্ণি, সূর্য এবং চন্দ্রগ্রহন, ঘূর্ণিঝড়, ইত্যাদি প্রদর্শন করতেন। ১৮৮১ থেকে ১৮৮৫ সাল পর্যন্ত ইট দিয়ে একটি স্কুল ভবন নির্মাণ করা হয়।

১৮৭৩-৭৪ সালে স্কুলে ছয়জন শিক্ষক, একজন পণ্ডিত এবং একজন মৌলভি ছিলেন। ১৮৬০-৬১ সালে স্কুলে ৮৫ জন ছাত্র ছিল। ১৯০৭-০৮ সালে ছাত্র সংখ্যা ছিল ৩৬৩ যাদের মধ্যে হিন্দু ছিলেন ২১৮ জন আর মুসলমান ছিলেন ১৪৫ জন।

স্কুলটিতে এখন ৫২জন অনুষদ সদস্য এবং ৪০০০ ছাত্র আছে। অনুষদ সদস্যরা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট এবং ছাত্র হিসেবে ভর্তিচ্ছুকরা দেশের শীর্ষস্থানীয় স্কুল থেকে এসে থাকেন যাদের নির্বাচিত হওয়ার জন্যে রীতিমত প্রতিযোগিতামূলক পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।


কিভাবে যাবেন

কিভাবে পৌঁছাবেন: বগুড়া জেলা

বগুড়া বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি শহর। রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলায় এই শহরটি অবস্থিত। ঢাকা থেকে প্রায় ২২৯ কিলোমিটার দূরে বগুড়া অবস্থিত। আপনি সেখানে বাস এবং ট্রেনে পৌছাতে পারেন।

১। টি আর ট্রাভেলসঃ সকাল ৭টা থেকে শুরু করে রাত ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ৩০ মিনিট পরপর এটি বগুড়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফোনঃ গাবতলি-০১১৯১-৪৯৪৮৬৫, মহাখালি-০১১৯১-৪৯৪৮৬৬
২। শ্যামলী পরিবহনঃ সকাল ৬টা থেকে শুরু করে রাত ১:০০ টা পর্যন্ত প্রতি ১ ঘণ্টা পরপর এটি বগুড়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফোনঃ আসাদ গেইট-০২-৯১২৩৪৭১, কলাবাগান-০১৭১১১৩০৮৬২, সায়েদাবাদ-০১৭১২৫৯৬৯৪০
৩। এস আর ট্রাভেলসঃ সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে শুরু করে রাত ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ৩০ মিনিট পরপর এটি বগুড়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফোনঃ গাবতলি-০২-৮০১১২২৬, উত্তরা-০১৫৫২৩১৫৩১৮
৪। হানিফ এন্টারপ্রাইজঃ ঢাকা বাস স্ট্যান্ড, ফোনঃ ০৫১-৬০৯৪০, ৬০৮০৩, ০১৯১১-৫৬০৮৮২

কোথায় থাকবেন

বগুড়ায় থাকার ব্যাবস্থা বেশ উন্নত। আপনি এখানে চার তারকা হোটেলও পেয়ে যাবেন। বগুড়ায় উন্নত মানের থাকার জায়গার মধ্যে আছেঃ

১। হোটেল নাজ গার্ডেন,
ঠিকানাঃ সিলিমপুর, বগুড়া-৫৮০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ ৮৮-০৫১-৬২৪৬৮, ৬৬৬৫৫, ৬৩২৭২, ৬৪১৯৭, ৭৮০৮৮

২। পর্যটন মোটেল
বনানী মোড়, বগুড়া, ফোনঃ০৫১-৬৬৭৫৩

৩। আকবরিয়া হোটেল
ওয়েব সাইটঃ http://urbita.com/bangladesh/bogra/akboria-hotel
ঠিকানাঃ কাজী নজরুল ইসলাম রোড, থানারোড, বগুড়া, ফোনঃ ০১৭১৬-১৭৯৯৮২

বগুড়া শহরের আরও কিছু হোটেলের নাম:
১। হোটেল আল আমিন, নবাববাড়ি রোড
২। মোটেল নর্থ ওয়ে, শেরপুর রোড
৩। হোটেল রয়াল প্যালেস, উপশহর
৪। হোটেল সান ভিউ,শেরপুর রোড
৫। হোটেল সেফওয়ে, শান্তাহার মোড়
৬। হোটেল রাজমনি, বগুড়া রাজা বাজার
১০। হোটেল হানি ডে, বড় মসজিদ লেইন
১১। হোটেল আজিজ, কবি নজরুল ইসলাম রোড

খাবার সুবিধা

বগুড়াতে কোথায় খাবেন জানতে এখানে ক্লিক করুন

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন