চলনবিল বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল। অনেক ছোট বিল নিয়ে গঠিত হয়েছে এই চলনবিল। ৩৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিলে ৪৭টি নদী এসে মিলেছে। যমুনা নদী যতক্ষণ প্লাবিত থাকে চলন বিলও পরিপূর্ণ থাকে। শীতকালে এটি শুকিয়ে যায়, তখন শুধু মাঝের অংশে সামান্য পানি থাকে। বিলটি ৩ টি জেলা নাটোর, পাবনা এবং সিরাজগঞ্জের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।
জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ সমৃদ্ধ বাংলাদেশের একটি বিশাল জলভূমি হল চলনবিল। চলনবিলে সাতচল্লিশটি নদী ও অন্যান্য জলপথ মিলিত হয়েছে। পলি মাটি জমে যাওয়াতে চলন বিলের আকার দিন দিন কমে আসছে।
নদীর সাথে প্রচুর পরিমানে বয়ে আসা পলিমাটি এদেশের নদী ব্যাবস্থাপনায় সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে চলেছে। শতাব্দীজুড়ে এই পলিমাটি ভুমির জন্ম দিয়েছে এবং এটিকে করেছে বাসযোগ্য। প্রকৃতির আশীর্বাদ এই পলিমাটি জমির উর্বরতা বাড়ালেও পাশাপাশি আবার নদীর অনেক সমস্যার জন্ম দিয়েছে বাংলার জনগন এখন যার মোকাবেলা করছে। পলিমাটি জমার ফলে নদীর গতিপথ বদলে যায় এতে করে নতুন চরের সৃষ্টি হয় এবং পরিত্যাক্ত এলাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়।
পনেরো শতকে গঙ্গা নদী থেকে পদ্মা চ্যানেল দিয়ে পানি প্রবাহ শুরু হয়। পদ্মার পলিমাটি উত্তরবঙ্গের দক্ষিন অংশ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। চলন বিলের চারপাশে পানির নিম্নমুখী চাপ থাকার এটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা। ১৭৮৭ সালে গতিপথ পরিবরতনের আগ পর্যন্ত তিস্তা নদী সক্রিয় ছিল। এই এলাকাটি অবস্থিত উত্তরে একদা সক্রিয় তিস্তার কারনে সৃষ্ট ভুমি এবং দক্ষিনে পদ্মার কারনে সৃষ্ট ভুমির মধ্যবর্তী স্থানে।
অবশ্য পানির এই নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টির পেছনে আরেকটি ব্যাখ্যা আছে। শত বছর ধরেই পদ্মা নদী তার গতিপথ বদল করছে। ১৬৬০ সালে তৈরি ভেন ডেন ব্রুক্স এর মানচিত্রে পদ্মার মূল চ্যানেলকে ফরিদপুর-বাকেরগঞ্জের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা যায় অবশ্য এটি পুরাতন চ্যানেলটিও হতে পারে। এই পুরাতন চ্যানেলটি মেঘনার সাথে মিলিত হবার আগে রাজশাহীর রামপুর বোয়ালিয়া, চলন বিল, ধলেশ্বরী এবং বুড়িগঙ্গা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সেসময় যমুনা নদীর একরকম কোন অস্তিত্ব ছিল না এবং ব্রহ্মপুত্র নদী তার পুরাতন চ্যানেল দিয়ে প্রবাহিত হত।
নাটোরে নেমে সিএনজি বা অটো নিয়ে এই বিলে যেতে পারেন
৮৯৬.০৫ কিলোমিটার আয়তনের নাটোর জেলার উত্তরে নওগাঁ এবং বগুড়া জেলা, দক্ষিনে পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা, পূর্বে সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে রাজশাহী জেলা অবস্থিত। ঢাকা থেকে নাটোর প্রায় ১৯৬.২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সড়কপথ ও রেলপথ দুভাবেই আপনি নাটোরে পৌছাতে পারেন।
১। শ্যামলী পরিবহন:
১২, দক্ষিন কল্যাণপুর, মিরপুর রোড, ঢাকা
ফোনঃ ০২-৯০০৩৩১, ৮০৩৪২৭৫
২। হানিফ এন্টারপ্রাইজ
ঢাকা কার্যালয়: পান্থপথ: ০১৭৩-৪০২৬৭০
আরামবাগ: ০১৭১৩-৪০২৬৭১, সায়েদাবাদ: ০১৭১৩-৪০২৬৭৩
৩। গ্রিনলাইন পরিবহন:
কল্যাণপুর শাখা: ৩/২, দক্ষিন কল্যাণপুর, ঢাকা
মোবাইল:০১৭৩০-০৬০০৮০
৪। মডার্ন এন্টারপ্রাইজ (এসি চেয়ার কোচ)
প্রধান কার্যালয়: লেকসার্কাস, পান্থপথ, কলাবাগান, ঢাকা
ফোনঃ ৯১২৩৪৩, ৩২৭২৯৩
শাখা অফিস: গাবতলি বুকিং অফিস, আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল,
(কাউন্টার নং ১৯), মিরপুর, ঢাকা, ফোনঃ ৮০৬০৯৯
নাটোরে থাকার জন্য হোটেল ও গেস্টহাউজের মধ্যে রয়েছেঃ
১। হোটেল ভিআইপি
ঠিকানা: বড় হরিষপুর, নাটোর
দিকনির্দেশিকা: এই হোটেলটি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ১ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং মাদ্রাসা মোড়ের পূর্বে অবস্থিত।
ফোনঃ ০৭৭১-৬৬০৯৭, +৮৮০১৭১৮৬৭৩৭৩৫
২। হোটেল মিল্লাত
ঠিকানা: মাদ্রাসা মোড়, নাটোর সদর, নাটোর
৩। হোটেল প্রিন্স
ঠিকানাঃ রেলওয়ে স্টেশন বাজার, নাটোর সদর, নাটোর
ফোনঃ ০৭৭১-৬১৩৫৬
মোবাইলঃ ০১৭৪৬০২৯৪২৯
৪। হোটেল রাজ
ঠিকানা: মাদ্রাসা মোড়, নাটোর সদর, নাটোর
ফোনঃ ০৭৭১-৬৬৬৬০
মোবাইলঃ ০১৭২৭৩৭১৫০০
৫। হোটেল রুখসানা
ঠিকানা: কানাইখালী, পুরান বাসস্ট্যান্ড, নাটোর সদর, নাটোর
ফোনঃ ০৭৭১-৬২৪৩১
মোবাইলঃ ০১৭৩৯৯৮৭০১৭
৬। নাটোর বোর্ডিং
ঠিকানা: নিচাবাজার, হাসপাতাল সড়ক, নাটোর সদর, নাটোর
ফোনঃ ০৭৭১-৬২০০১
৭। নাটোর সুগার মিলস গেস্টহাউজ
ঠিকানাঃ নাটোর সুগার মিলস এলাকা, নাটোর সদর, নাটোর
1. পর্যাপ্ত পানি থাকলে নৌকা ভ্রমন করতে পারেন।
2. প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি তার ছবিও তুলতে পারেন।
আপনি খাবার নিয়ে যেতে পারেন, যেহেতু ওখানে খাবার ব্যবস্থা নেই। নাটোরে কোথায় খাবেন জানতে এখানে ক্লিক করুন।
বর্ষাকাল বিলে বেড়াতে যাবার আদর্শ সময় কেননা তখন চারপাশে প্রচুর পানি থাকে।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!