রাইখং লেক

ধরন: হ্রদ
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

বাংলাদেশে খুব কম লেক রয়েছে যেগুলোকে নামকরা পর্যটন স্পট হিসেবে বলা যায়। সারাদেশে পর্যটকদের তীর্থস্থান বলা যায় এমন লেকের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় ১১৬৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত রাইখং লেককে বলা চলে তেমনই একটি তীর্থস্থান। স্থানীয়রা অনেকে লেকটির নাম রাইচং বলে উচ্চারিত করে। তবে লেকটির নামের উচ্চারণ যাই হোক না কেন এতে করে লেকের সৌন্দর্য কোন অংশেই কমবে না।

রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত হলেও ভৌগলিক অবস্থানের কারনে এই লেকে আপনাকে বান্দরবানের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। রাঙ্গামাটি জেলার শেষপ্রান্তে অবস্থিত এই লেকে রাঙ্গামাটি দিয়ে পৌছাতে হলে আপনাকে জলপথ পাড়ি দিতে হবে তাই বান্দরবান দিয়ে যাওয়াই হবে সবচেয়ে সহজ। তবে আপনি যেভাবেই যান না কেন সাথে করে অবশ্যই একজন গাইড রাখবেন।

লেকের পূর্বতীরে এবং পশ্চিমতীরে দুটি গ্রাম দেখতে পাবেন যেগুলো পুকুরপাড়া নামে পরিচিত। হয়তোবা চারপাশে লেকের উপস্থিতির কারনেই গ্রামের এমন নামকরণ। দুটি গ্রামের অধিবাসীরাই ত্রিপুরা গোত্রের এবং তাঁরা খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারী। লেকের পশ্চিম তীরের গ্রামবাসীদের পাহাড় বেয়ে উঠা নামা করে এই লেকে আসতে হয় তবে খুব কাছে সমতল ভুমিতে অবস্থিত হওয়ায় পূর্বপ্রান্তের গ্রামবাসীরা সহজেই লেকে আসতে পারেন।

বিশাল রাইখং লেক থেকে মাছ ধরতে নিষেধ না থাকায় স্থানীয়রা এখান থেকে মাছ ধরে থাকে। লেকের বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে তেলাপিয়া মাছ সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে। লেকের পূর্ব প্রান্তে লেকের পানি থেকে সৃষ্ট একটি ছোট ঝিরি রয়েছে। সম্ভবত লেকের পানির স্তর নিয়ন্ত্রনে রাখতে ঝিরিটি সৃষ্টি হয়। বর্ষাকালে লেক থেকে প্রচুর পানি এই ঝিরিটি দিয়ে রাইখং খালে যেয়ে পড়ে।
লেকের চারপাশে অনেক পাহাড় থাকাতে এবং আকাশের রহস্যময় আচরণের কারনে লেকের পানি বিভিন্ন বর্ণ ধারন করে। প্রায় অর্ধেক লেকের পানি মানুষ ব্যবহার করে না কারন লেকের সেই অংশে মানুষ যাতায়াত করে না। একারনে লেকের ঐ অংশ আপনার কাছে চারপাশের তুলনায় অনেক সুন্দর মনে হবে। পুকুরপাড়া সেনাক্যাম্পে একটি হেলিপ্যাড রয়েছে। এখানকার উঁচু স্থান থেকে আপনি পাখির চোখে ছবির মত সুন্দর এই লেকটিকে দেখতে পাবেন।


কিভাবে যাবেন

কিভাবে পৌঁছাবেন: রাঙ্গামাটি জেলা

চট্রগ্রাম বিভাগের এগারো জেলার অন্যতম রাঙ্গামাটির উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিনে বান্দরবান জেলা, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, এবং পশ্চিমে খাগড়াছড়ি জেলা ও চট্রগ্রাম জেলা অবস্থিত।

ঢাকার সাথে রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ থাকায় আপনি বাসে করে এখানে পৌছাতে পারবেন। আপনার সুবিধার্থে ঢাকা ও রাঙ্গামাটির মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য নিম্নে প্রদান করা হলোঃ
১। শ্যামলী পরিবহন
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ফোনঃ ০২-৭৫৪১০১৯
আরামবাগ কাউণ্টার, ফোনঃ ০২-৭১৯৩৯১০
ফকিরাপুল কাউণ্টার, ফোনঃ ০২-৯৩৩৩৬৪
বাস ছাড়ে সকাল ৯:৩০ মিনিটে
২। এস আলম সার্ভিস
ফকিরাপুল কাউণ্টার, ফোনঃ ০২-৯৩৩১৮৬৪
সকাল ৮টা থেকে ১০:১৫ মিনিট পর্যন্ত বাস ছেড়ে যায়
৩। হানিফ সার্ভিস
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ফোনঃ০১১৯১১২৫০৪৮; বাস ছাড়ে সকাল ৯:৩০ মিনিটে
গাবতলি কাউণ্টার, ফোনঃ০১১৯০৮০৬৪৪৭; বাস ছাড়ে সকাল ৮:৩০ মিনিটে

কোথায় থাকবেন

আপনার সুবিধার্থে রাঙ্গামাটিতে থাকার হোটেল, মোটেল ও রেস্টহাউজগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য নিম্নে প্রদান করা হলোঃ
১। হোটেল গোল্ডেন হিল
ঠিকানাঃ রিজার্ভ বাজার, রাঙ্গামাটি, ফোনঃ ০১৮২০৩০৪৭১৪
২। হোটেল গ্রিন ক্যাসেল
ঠিকানাঃ রিজার্ভ বাজার, রাঙ্গামাটি, ফোনঃ ৬১২০০
৩। হোটেল লেক ভিউ
ঠিকানাঃ রিজার্ভ বাজার, রাঙ্গামাটি, ফোনঃ ৬২০৬৩
৪। হোটেল সুফিয়া
ঠিকানাঃ কাঁঠালতলী, রাঙ্গামাটি, ফোনঃ ৬২১৪৫
৫। পেদা টিংটিং, ফোনঃ ৬২০৮২

কি করবেন

নয়নাভিরাম এই লেকে সাঁতার কেটে আপনি অন্যরকম অনুভুতি অর্জন করবেন। তাই সাঁতার জানা থাকলে সাঁতার কাটার সুযোগ হারাবেন না। সারাদিনের পরিশ্রমের শেষে লেকের পানিতে সাঁতার কেটে আপনি সহজেই সতেজ হতে পারবেন। বগা লেকের মত এই লেকে কোন জলজ উদ্ভিদ না থাকায় আপনি সহজে সাঁতার কাটতে পারবেন। তবে, সাঁতার কাটার পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নিন যে লেকের পানিতে কোন জাল বিছানো নেই। ঢাকা থেকে সাপ্তাহিক ছুটিতে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা সপরিবারে এই লেকে হেলিকপটারে করে বেড়াতে আসেন এবং সেনা ক্যাম্পে অবস্থান করেন।

খাবার সুবিধা

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন

  • চারদিক সবুজ অরণ্য ঘেঁষে পাহাড় চূড়ার উপর প্রাকৃতিক হ্রদের এমন দৃষ্টিনন্দন রূপ যে কোন সৌন্দর্য্য পিপাসু মানুষকে মুগ্ধ করে। অতি দুর্গম হওয়ায় দেশ-বিদেশের পর্যটকরা প্রাকৃতিক হ্রদটির সৌন্দর্য্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত

অন্যদের ওয়েবসাইট থেকে

  • রাইংখ্যং পুকুর মূলত একটি গভীর প্রা্কৃতিক হ্রদ। এটি সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ২,৫০০ ফুঁট উঁচুতে অবস্থিত এবং আয়তনে ৩০ একর প্রায়

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন