চিনামাটির পুকুর

ধরন: হ্রদ
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

বিরিসিরির নীল পানির লেকটিকে স্থানীয়রা চিনামাটির লেক, চুনাপাথরের লেক, নীল পুকুর প্রভৃতি নামে সম্বোধন করে থাকে। শীতকালে এই লেকের নীল পানি হল সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।ছোট এই লেকটিকে আপনি পুকুরও বলতে পারেন। সাধারণত শীতকালে পুকুরের পানি কাদাটে সবুজ রঙের হয়ে থাকে। কিন্তু এই লেকের পানি চিনামাটির জন্য নীল রঙ ধারন করে। চিনা মাটি খনন করার পর পুকুরের পানি নীল রঙ ধারন করে। স্থানীয়দের মতে পুকুরটির গভীরতা প্রায় ৬০ ফুট থেকে ৮০ ফুট।

চিনামাটিতে বিভিন্ন রকমের রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এই পুকুরের পানির স্বাদ তেতো। সম্ভবত প্রচুর পরিমানে কপার সালফেট থাকার কারনে এখানকার পানি নীল রঙ ধারন করেছে।

নীল এই লেকটিতে যাওয়ার পথে আশেপাশের ছবির মত দৃশ্যের পাশাপাশি সমেশ্বরী নদীর অপার সৌন্দর্যে আপনি বিমোহিত হবেন। পুরো যাত্রাপথটি এতটাই আনন্দদায়ক যে আপনার বারবার যেতে মন চাইবে। আপনি যদি একজন আত্মবিশ্বাসী সাঁতারু হয়ে থাকেন তবে লেকের পানিতে শরীরকে ঠাণ্ডা করতে সাথে করে শর্টস আনতে পারেন। তবে সাঁতার না জানলে ভুলেও লেকের পানিতে নামবেন না।

সম্ভবত এটি বাংলাদেশের একমাত্র নীল পানির চিনামাটির লেক। ময়মনসিংহে আরো একটি চিনা মাটির লেক থাকলেও সেটি এই লেকের মত এত সুন্দর নয়। তাই কোনকিছু ফেলে লেকের পানিকে দুষিত করবেন না।


কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে নেত্রকোনা অথবা দুর্গাপুরে কিভাবে পৌছাবেন জানতে এখানে ক্লিক করুন

দুর্গাপুরে পৌঁছে রিকশায় করে আপনি চিনামাটির পাহাড় ও লেক দেখতে আসতে পারবেন। এখানে পৌছাতে প্রায় ৩০০/- টাকা রিকশা ভাড়া দিতে হবে তবে রিকশাওয়ালাকে খুব সকালে আসতে বলাই ভাল। চিনামাটির পাহাড়ের জিপিএস অবস্থান হলো (২৫°৯’৩১.২৯”উ, ৯০°৩৮’২২.২১”পু). চিনামাটির পাহাড়ে পৌছানোর পথটি আপনার সুবিধার্থে নিম্নে প্রদান করা হলঃ

১। ঢাকার মহাখালি থেকে বাসে করে নেত্রকোনার বিরিসিরিতে পৌছাবেন।

২। প্রায় ২৫০/- টাকা  থেকে ৩০০/- টাকায় রিকশা ভাড়া করতে হবে। সবচেয়ে ভাল হবে যদি আগের রাতে রিকশাভাড়া করে রাখেন এবং পরদিন খুব সকালে রিকশাওয়ালাকে আসতে বলেন।

৩। রিকশাওয়ালা আপনার গাইড হিসেবে কাজ করবে।

৪। চিনামাটির পাহাড়ে চড়তে এবং আশেপাশের এলাকা দেখতে প্রায় ৪ ঘণ্টা থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগবে।

৫। হাতে সময় কম থাকলে আপনি মোটরসাইকেল ভাড়া করতে পারেন। তবে, দ্রুত চললে আপনি  প্রকৃতিকে উপভোগ করতে পারবেন না।

কিভাবে পৌঁছাবেন: নেত্রকোনা জেলা

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নেত্রকোনায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে সড়কপথে নেত্রকোনার দূরত্ব প্রায় ১৭৮ কিলোমিটার (ঢাকা-ময়মনসিংহ ১২০ কিলোমিটার, ময়মনসিংহ-নেত্রকোনাঃ ৬৮ কিলোমিটার)।

ঢাকা থেকে নেত্রকোনায় চলাচলকারী ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। ট্রেন নং ৭৭৭ (আন্তঃনগর হাওড় এক্সপ্রেস)
ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জে চলাচল করে
যাত্রার সময়ঃ রাত ১১:৫০ মিনিট

২। ট্রেন নং ৪৩ (মহুয়া এক্সপ্রেস)
ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জে চলাচল করে
যাত্রার সময়ঃ দুপর ১২: ২০ মিনিট

কোথায় থাকবেন

নেত্রকোনায় থাকার জন্য বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টহাউজগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। ওয়াই এম সি এ রেস্টহাউজ
যোগাযোগঃ বিপ্লব রাংসা
বিরিসিরি, দুর্গাপুর
ফোনঃ ০১৭৪৩৩০৬২৩০

২। স্বর্ণা গেস্টহাউজ
যোগাযোগঃ মিসেস বিনিতা দাওয়া
বিরিসিরি, দুর্গাপুর
ফোনঃ ০১৭১২২৮৪৬৯৮

৩। সুশং রেসিডেণ্ট হোটেল
যোগাযোগঃ মোঃ আব্দুল গনি
দুর্গাপুর, নেত্রকোনা
ফোনঃ ০১৯১৪৭৯১২৫৪

৪। হোটেল মদিনা
যোগাযোগঃ সোরওয়ারদি সুরুজ
দুর্গাপুর, নেত্রকোনা
ফোনঃ ০১৯২৪১৮১৪৫৫

কি করবেন

১। ছবি তুলতে পারেন।
২। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
৩। পাহাড়ে ওঠার পাশাপাশি পুরো এলাকাটি ঘুরে দেখতে পারেন।

খাবার সুবিধা

দুর্গাপুরে খাওয়ার জন্য বেশকিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

ভ্রমণ টিপস

১। সবসময় সাথে বিশুদ্ধ পানি রাখুন।
২। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র শহর এলাকা থেকে কিনুন।
৩। কোনকিছু ফেলার মাধ্যমে লেকের পানি ময়লা করবেন না।

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন

  • বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার সর্ব উত্তরে ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের কোল ঘেসে নিরব দাড়ীয়ে ছোট্ট জনপদ দুর্গাপুর

অন্যদের ওয়েবসাইট থেকে

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন