দারাসবাড়ি মসজিদ

ধরন: মসজিদ / ঈদগাহ
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

দারাসবাড়ি মসজিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় অবস্থিত। সোনা মসজিদ এবং কোতয়ালি দরগার মধ্যবর্তী অমপুর নামক স্থানের নিকটে অবস্থিত। স্থানীয়রা স্থানটিকে দারাসবাড়ি নামেই সম্বোধন করে। স্থানটি বর্তমানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় আছে। শিলালিপি থেকে জানা যায় যে মসজিদটি সুলতান শামসুদ্দিন ইউসুফের শাসনকালে ১৪৯৭ সালে নির্মিত হয়। মসজিদটির নামকরনের ব্যাপারে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতের চামচিকা মসজিদের সাথে মিল রেখে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

দারাসবাড়ি মসজিদটি টেরাকোটা ইট দিয়ে তৈরি এবং ইটগুলো এতটাই পুরু যে চৈত্র মাসে যখন বাইরে প্রচণ্ড গরম থাকে তখন মসজিদের অভ্যন্তর থাকে ঠাণ্ডা। মসজিদটির মূল গম্বুজটি বেশ আকর্ষণীয়। মসজিদটির উত্তরে ৬০ বিঘা আয়তনের একটি দীঘি আছে।

ছোট সোনামসজিদ ও কোতোয়ালী দরজার মধ্যবর্তী স্থানে ওমরপুরের সন্নিকটে দারসবাড়ী অবস্থিত। পুরুষানুক্রমে স্থানীয় জনসাধারণ এই স্থানকে ‘দারসবাড়ী’ বলে থাকেন। বর্তমানে এই স্থান পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। দর্স অর্থ পাঠ। সম্ভবতঃ একসময় মসজিদ সংলগ্ন একটি মাদ্রাসা ছিল এখানে। ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের সময় মুনশী এলাহী বখশ কর্তৃক আবিস্কৃত একটি আরবী শিলালিপি অনুযায়ী (লিপি-দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ৩ ইঞ্চি, প্রস্থ ২ফুট ১ ইঞ্চি) ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে (হিজরী ৮৮৪) সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের রাজত্বকালে তাঁরই আদেশক্রমে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইট নির্মিত এই মসজিদের অভ্যন্তরের আয়তক্ষেত্র দুই অংশে বিভক্ত। এর আয়তন ৯৯ ফুট ৫ ইঞ্চি, ৩৪ ফুট ৯ ইঞ্চি। পূর্ব পার্শ্বে একটি বারান্দা, যা ১০ ফুট ৭ ইঞ্চি।

বারান্দার খিলানে ৭টি প্রস্ত্তর স্তম্ভের উপরের ৬টি ক্ষুদ্রাকৃতি গম্বুজ এবং মধ্যবর্তীটি অপেক্ষাকৃত বড় ছিল। উপরে ৯টি গম্বুজের চিহ্নাবশেষ রয়েছে উত্তর দক্ষিণে ৩টি করে জানালা ছিল। উত্তর পশ্চিম কোণে মহিলাদের নামাজের জন্য প্রস্তরস্তম্ভের উপরে একটি ছাদ ছিল। এর পরিচয় স্বরূপ এখনও একটি মেহরাব রয়েছে। এতদ্ব্যতীত পশ্চিম দেয়ালে পাশাপাশি ৩টি করে ৯টি কারুকার্য খচিত মেহরাব বর্তমান রয়েছে। এই মসজিদের চারপার্শ্বে দেয়াল ও কয়েকটি প্রস্তর স্তম্ভের মূলদেশ ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এ মসজিদটিও বাংলার প্রথম যুগের মুসলিম স্থাপত্যের কীর্তির একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। এখানে প্রাপ্ত তোগরা অক্ষরে উৎকীর্ণ ইউসুফি শাহী লিপিটি এখন কোলকাতা যাদুঘরে রক্ষিত আছে। জেনারেল ক্যানিংহাম তার নিজের ভাষাতে একে দারসবাড়ী বা কলেজ বলেছেন। এ ঐতিহাসিক কীর্তির মাত্র কয়েকগজ দূরে ভারতীয় সীমান্ত।


কিভাবে যাবেন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌঁছে আপনি এখানে বাস অথবা সিএনজি অটোরিকশায় আসতে পারেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি.। বাস অথবা সিএনজি-তে যাওয়া যায়। প্রায় ৪৫ মি. থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে।

কিভাবে পৌঁছাবেন: চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দূরত্ব ৩১৯.৪ কিলোমিটার (ভায়া রাজশাহী)। আপনি সড়কপথ এবং রেলপথে সেখানে পৌছাতে পারেন।

ঢাকা থেকে বিভিন্ন বাস যেমনঃ হানিফ এন্টারপ্রাইজ, মডার্ন এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিভিন্ন জেলা ও শহরে বাস ছেড়ে যায়। মূলত এখান থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যই মূলত তিন ধরনের বাস ছেড়ে যায়, যেসব হলঃ গেইট লক, সরাসরি ও লোকাল সার্ভিস। এখান থেকে অন্যান্য রুটে চলাচলকারী বাস সার্ভিসগুলোর মধ্যে আছেঃ নবাবগঞ্জ-শিবগঞ্জ, নবাবগঞ্জ-নওগাঁ, নবাবগঞ্জ-নাচোল, নবাবগঞ্জ-রহানপুর। সোনা মসজিদ থেকে রাজশাহী প্রতিদিন সকাল ৭.১৫ মিনিট থেকে বিকাল ৫.১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রতিদিন এক ঘণ্টা পর পর চলাচল করে। এছাড়া বিআরটিসি বাস নবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় চলাচল করে। এখানে দুইটি বাস টার্মিনালের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাস টার্মিনাল এবং অপরটি ঢাকা বাস টার্মিনাল।

অতীতে নদী পথই ছিল পরিবহনের প্রধান মধ্যম। এখান থেকে বিভিন্ন জেলায় পরিবহনের জন্য পদ্মা নদী, মহানন্দা নদী, পাগলা নদী, মরাগঙ্গা নদী ও কিছু বিল ব্যাবহার করা হত। ফারাক্কা বাঁধের কারনে পদ্মা নদীর পানি কমে যাওয়াতে নদীপথের জনপ্রিয়তা কমে যায়। তবে এখনও এই জেলার বিভিন্ন অংশ থেকে নদী পথে মাল পরিবহন করা হয় যেমন এই জেলার পশ্চিম এবং পূর্ব অংশ থেকে নদী পথই মাল পরিবহনের একমাত্র ভরসা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রোহানপুর এবং রাজশাহীর সাথে রেল যোগাযোগ ব্যাবস্থা খুবই সীমিত। এই জেলার ভেতর দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক রেল লাইন ভারতের পশিমবঙ্গের মালদায় চলে গেছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্টেশন যেমনঃ নবাবগঞ্জ সদর, আমনুরা, নাচোল, নিজামপুর, রোহানপুর থেকে লোকাল ট্রেন রাজশাহী ও দেশের অন্যান্য অংশে যাতায়াত করে। তাছাড়া নবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী পর্যন্ত একটি শাটল সার্ভিস চলাচল করে। আপনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী পৌঁছে দেশের যেকোনো প্রান্তে আন্ত নগর ট্রেনে যাতায়াত করতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে থাকার জন্য শহরে অনেক হোটেল আছে। যেমনঃ
১। হোটেল রোজ
আনোয়ার হোসেন আনু,
স্টেশন রোড, (মহনন্দা বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন) ,লাখেরাজপাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর।
ফোনঃ ০১৭৬১৮৫৫৪৭১

২। লাল বোডিং
মো: সেনটু মিঞা, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ফোনঃ ০১৭১৮২৭৯৮৪১

৩। হোটেল আল নাহিদ
আলহাজ রফিকুল ইসলাম
শান্তিমোড়, আরামবাগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ফোনঃ ০১৭১৩৩৭৬৯০২

৪। হোটেল স্বপ্নপুরী
মো: বাবুল হাসনাত দুরুল,
আরামবাগ মোড়, বিশ্ব রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ফোনঃ ০১৭১১৪১৬০৪১

৫। নবাবগঞ্জ বোডিং
এ্যড: কাশেম মিঞা
হাসপাতাল রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ফোনঃ ০১৭১৫১৬৭৬৪৬

৬। হোটেল রংধনু
মোসারফ হোসেন
লাখেরাজ পাড়া, মহনন্দা বাসষ্ট্যান্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ফোনঃ ০১৭১২৩৩৯৬৮৭

কি করবেন

  1. মসজিদের প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী দেখতে পারেন।
  2. ছবি তুলতে পারেন।

খাবার সুবিধা

আপনাকে আশে পাশে খাবার হোটেল অথবা ফাস্ট ফুডের দোকান খুঁজতে হবে। আপনি সাথে করে খাবার নিয়েও যেতে পারেন।

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন