ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ধরন: বিদ্যালয় / কলেজ / বিশ্ববিদ্যালয়
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

প্রকৌশল বিষয়ে লেখাপড়া করার জন্য গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) হল দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব বিষয়ে ডিগ্রী অর্জন করা যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিকাল এবং ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইণ্ডাসট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ চার বছর মেয়াদী ব্যাচেলর ডিগ্রী এবং স্থাপত্যবিদ্যায় পাঁচবছর মেয়াদী ব্যাচেলর ডিগ্রী। শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রীধারীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল এবং স্থাপত্যবিদ্যার বিভিন্ন শাখায় ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জনের জন্য ভর্তি হতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের নয়টি পিএইচডি ডিগ্রী প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি হল ডুয়েট।

প্রতি বছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫৪০ জন ছাত্রছাত্রী প্রকৌশল এবং স্থাপত্যবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের জন্য ভর্তি হয়ে থাকে। প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ৫০০০ জন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ১০% ছাত্রছাত্রী এখানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষিকার সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। নতুন একাডেমিক ভবন এবং বিভিন্ন ছাত্র ও ছাত্রী হল নির্মাণের মাধ্যমে বিগত তিন দশকে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রসার ঘটেছে।

বাংলাদেশে প্রকৌশলবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকার তেজগাঁওয়ের অস্থায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয়টি কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেসময় এখান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিকাল এবং ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে চার বছর মেয়াদী ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন করা যেতো। কিছুদিন পরই কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (ডিইসি) এবং ১৯৮৩ সালে ডিইসিকে গাজীপুরের স্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় ১৯৮৬ সালে সরকারের অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে ডিইসিকে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি (বিআইটি) ঢাকাতে রুপান্তরিত করা হয়।       ডিইসির সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে পারলেও বিআইটির যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না কারন বিআইটিকেও নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তাই সমস্যার সমাধানকল্পে ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিআইটিকে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) রুপান্তর করা হয়। একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পাশাপাশি ডুয়েট বর্তমানে প্রকৌশলের উপর মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করছে এবং এখান থেকে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের উঁচু মানের কারনে বিশ্বব্যাপী খ্যাতিও অর্জন করেছে।


কিভাবে যাবেন

শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুবিধার্থে ঢাকা থেকে গাজীপুরের ক্যাম্পাসে ডুয়েট নিজস্ব শাটল বাস সার্ভিস পরিচালনা করে থাকে। এছাড়া সপ্তাহের শেষে বিনোদন এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে ডুয়েট বিশেষ শাটল সার্ভিস পরিচালনা করে।

কিভাবে পৌঁছাবেন: গাজীপুর জেলা

ঢাকা থেকে গাজীপুরে দিনের ২৪ ঘণ্টাই বিভিন্ন বাস চলাচল করে। যেমনঃ ঢাকার আজিমপুর থেকে টঙ্গীর হোসাইন মার্কেটে অনিক এবং উইনার বাস সার্ভিস চলাচল করে। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশা অথবা ব্যাক্তিগত গাড়িতেও গাজীপুরে পৌছাতে পারেন।

ঢাকা-টঙ্গী ডাইভারশন সড়ক এবং টঙ্গী-কালীগঞ্জ ডাইভারশন সড়কের মাধ্যমে ঢাকার সাথে গাজীপুরের সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। রেলপথেও গাজীপুরে যাওয়া যায়। গাজীপুরের ৭টি রেলস্টেশন হলঃ রাজেন্দ্রপুর, শ্রীপুর, ধীরাশ্রম, জয়দেবপুর, টঙ্গী, সাতখাঁমাইর এবং পুবাইল।
ঢাকা থেকে গাজীপুরে বিভিন্ন বাস সার্ভিস রয়েছে। যেমনঃ পুবালি পরিবহন মহাখালি থেকে নরসিংদীতে চলাচল করে। এছাড়া কেটিএল সার্ভিস ঢাকা থেকে কালীগঞ্জে চলাচল করে। ঢাকা থেকে গাজীপুরে চলাচলকারী বিভিন্ন রুটের বাস সার্ভিসগুলোর মধ্যে আছেঃ
আজমেরি পরিবহনঃ নন্দন পার্ক- সদরঘাট
প্রভাতি-বনশ্রীঃ
১। গুলিস্তান- কালিয়াকৈর
২। গুলিস্তান –কাপাসিয়া
৩। গুলিস্তান -শ্রীপুর
৪। গুলিস্তান –ত্রিমোহনী
সালসাবিল— যাত্রাবাড়ি –কোনাবাড়ি
রাহবার—লোহারপুল-মৌচাক
আনাবিল-যাত্রাবাড়ি
ট্রান্সসিলভা- যাত্রাবাড়ি-গাজীপুর
গাজীপুর পরিবহন লিমিটেড-ধাকা-গাজীপুর
ঢাকা পরিবহন লিমিটেড-মতিঝিল-গাজীপুর
ভিআইপি ২৭-গাজীপুর চৌরাস্তা-আজিমপুর
বলাকা পরিবহন-শিববাড়ি বাজার-সদরঘাট

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গাজীপুরে ট্রেন চলাচল করে। গাজীপুর জেলায় ৭ টি রেল স্টেশন রয়েছে।

কোথায় থাকবেন

গাজীপুরে থাকার ব্যবস্থা বেশ উন্নত। এখানে বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে থাকার জন্য। এখানকার হোটেলগুলোর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ

হ্যাপি ডে ইন
মোবাইলঃ ০১১৯১০০৪৮০১-৪

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট
ফোনঃ ৫৭৫২৫৭৩

পুষ্পদম রিসোর্ট
মোবাইলঃ ০১৭৫০০২৭৭৭

রাঙ্গামাটি ওয়াটারফ্রন্ট
মোবাইলঃ ০১৭১২৮১৭৭৭০, ০১৮১১৪১৪০৭৪

খাবার সুবিধা

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন