ধনবাড়ি নবাব মনজিল

ধরন: প্রাসাদ
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিল স্থানীয়ভাবে নবাববাড়ি নামে পরিচিত। বর্তমানে নবাব আলী চৌধুরীর উত্তরসূরিরা এই রাজবাড়ির দেখাভাল করছেন এবং পর্যটকদের অবস্থানের জন্য তারা এখানে কয়েকটি কটেজও নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী রিসোর্ট এটি। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এই রাজবাড়িতে বেশ কয়েকজন কর্মচারী সবকিছুর দেখাশোনা করছে।

বাংলাদেশের বেশীরভাগ জমিদারবাড়ির মালিক ছিলেন হিন্দু জমিদারেরা। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর এদের মাঝে বেশীরভাগ প্রভাবশালী জমিদারেরাই দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন অথবা ধর্মীয় গোঁড়ামির কারনে তাঁদের একঘরে করে দেওয়া হয়। এর ফলে এসব জমিদারবাড়ি অরক্ষিত অবস্থায় থেকে যায়। পরবর্তীতে কিছু জমিদারবাড়ি সরকার অধিগ্রহন করে তাঁদের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করলেও বাদবাকি জমিদারবাড়িগুলো অযত্ন এবং অবহেলায় ধ্বংসের মুখে রয়েছে।

ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিল অন্যান্য জমিদারবাড়ির চেয়ে ভিন্ন। মুসলিম জমিদার এই বাড়িটির মালিক হওয়াতে তাঁদের দেশত্যাগ করতে হয়নি। তাঁরা তাঁদের শাসনকালে যেমন ক্ষমতাধর ছিল তেমনি এখনও নিজ নিজ অঞ্চলে তাঁদের প্রভাব বিদ্যমান। আর এ কারনেই তাঁদের মালিকানার জমিদারবাড়িগুলোর অবস্থা এখনও বেশ ভাল এবং এসব জমিদারবাড়ির যথাযথ যত্ন ও রক্ষনাবেক্ষন করা হচ্ছে।

১৯১৯ সালে ইংরেজ লর্ড রোনাল্ডশ্যকে আমন্ত্রন জানাতে নবাব আলী চৌধুরী এই জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করেন। লর্ড রোনাল্ডশ্য স্টিমারে করে কয়ড়ার কাছে এসেছিলেন এবং তাঁকে ৩০টি হাতির মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল। [সূত্র: www.dctangail.gov.bd];

নবাব পরিবারের একজন উত্তরসূরী নবাব হাসান আলী চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া ১৯৭৮ সালে তিনি একজন সংসদ সদস্যও ছিলেন। নবাব হাসান আলী চৌধুরীর মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে তাঁর কন্যা সৈয়দা আশেক আকবর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উপরোক্ত তথ্য আপনাকে এই নবাব পরিবারের প্রভাব ও ক্ষমতা সম্পর্কে ধারনা দেবে এবং আপনি বুঝতে পারবেন আজও কিভাবে এই নবাবমঞ্জিল এতোটা ভাল অবস্থায় রয়েছে।

ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিলে প্রবেশ করতে আপনাকে ৩০/- টাকা দামের টিকেট কাটতে হবে। প্রতিটি টিকেট নবাব মঞ্জিলে প্রবেশ করার দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নবাব মঞ্জিলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ কঠোর এবং এখানকার কর্মচারীরা বেশ সাহায্যপরায়ন। এখানে বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না তাই আপনি নির্বিঘ্নে নবাব মঞ্জিল ঘুরে দেখতে পারবেন।


কিভাবে যাবেন

ব্যাক্তিগত অথবা ভাড়া গাড়িতে করে নবাবমঞ্জিলে আসাই ভাল কারন এখানে আসার জন্য যে বাসগুলো রয়েছে সেসব মোটেই আরামদায়ক নয়। ঢাকা থেকে ব্যাক্তিগত অথবা ভাড়া গাড়িতে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টায় আপনি এখানে এসে যাবেন।

বাসে করে যেতে চাইলে আপনি বিনিময় পরিবহনে যেতে পারেন। এই বাসটি ঢাকার মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায় এবং ধনবাড়িতে ঠিক রাজবাড়ির সামনেই থামে। লোকাল সার্ভিস হওয়াতে এই বাসটিকে অনেক থামতে হয় তাই আপনার পৌছাতে প্রায় ৬ ঘণ্টা থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগবে। আপনার জেনে রাখা ভাল যে অতিরিক্ত ভিড়ের কারনে এই বাসে যাত্রীদের দাঁড়ান অবস্থায়ও ভ্রমন করতে হয়।

এছাড়া নিরালা পরিবহন নামক বাসেও চড়তে পারেন আপনি। এই বাসটি মহাখালি থেকে ছেড়ে যায় এবং আপনি প্রায় ৩ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে পৌছাতে পারবেন। সরাসরি টাঙ্গাইল যাওয়াতে এই বাসটিকে থামতে হয়না। টাঙ্গাইল থেকে প্রায় ২ ঘণ্টায় সিএনজি অটোরিকশায় করে আপনি রাজবাড়িতে পৌছাতে পারবেন।

কিভাবে পৌঁছাবেন: টাঙ্গাইল জেলা

বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে লৌহজং নদীর তীরে অবস্থিত একটি জেলার নাম টাঙ্গাইল। ঢাকা বিভাগে অবস্থিত টাঙ্গাইল জেলার উত্তরে জামালপুর জেলা, দক্ষিনে ঢাকা ও মানিকগঞ্জ জেলা, পূর্বে ময়মনসিংহ এবং গাজীপুর জেলা এবং পশ্চিমে সিরাজগঞ্জ জেলা অবস্থিত। ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল প্রায় ৮৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঢাকা থেকে কালিয়াকৈর এবং টঙ্গী হয়ে টাঙ্গাইলে পৌছাতে প্রায় ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট সময় লাগবে।

১। নিরালা পরিবহন ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে উভয়পথে নন-এসি চেয়ার কোচ পরিচালনা করছে।
নিরালা পরিবহনের ঢাকা কাউণ্টার:
আব্দুল্লাহপুর বোর্ড বাজার বাস কাউণ্টার
মোবাইলঃ০১৭১১৫৯৫৭৭৬
ঢাকা থেকে বাস ছাড়ার স্থান সমূহ:
• মহাখালি
• আজমপুর
• আবদুল্লাহপুর
ঢাকা থেকে পরিবহনের ভাড়াঃ
ঢাকা থেকে বাসে করে টাঙ্গাইলে যেতে প্রায় ১৫০/- টাকা খরচ হবে।
২। ধলেশ্বরী সিটিং সার্ভিস
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে চলাচল করে
ভোর ৫:৩০ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাস ছেড়ে যায়।
ভাড়াঃ ৯০/- টাকা
ধরনঃ চেয়ার কোচ
ঠিকানাঃ মহাখালি কাউণ্টার, মহাখালি ঢাকা

৩। আল-রাফি পরিবহন
ঠিকানাঃ সায়েদাবাদ কাউণ্টার
ফোনঃ ০১১৯৫৩৭৪৩৬১, ০১৭১১৩৫৭১৮২
বিবিধ:
• আপনাকে অবশ্যই যাত্রার অন্তত ১৫ মিনিট পূর্বে বাসস্ট্যান্ডে পৌছাতে হবে।
• যাত্রীরা কোনভাবেই তাঁদের সাথে কোনরকম অবৈধ জিনিস বহন করতে পারবেন না।
• বাসে ধূমপান করা নিষেধ।
• বাসস্ট্যান্ডে দেরিতে আসার কারনে বাস ছেড়ে দিলে টিকেটের দাম ফেরত দেওয়া হবে না।

কোথায় থাকবেন

টাঙ্গাইলে থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। এসবের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ
১। পলাশ হাউজ/ নাইট গন্ধা রেসিডেনসিয়াল হোটেল
মসজিদ রোড, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৫৩১৫৪
২। আল ফয়সাল হোটেল রেসিডেনসিয়াল
মসজিদ রোড, টাঙ্গাইল

ফোনঃ ০৯২১-৫৩৯১৮
৩। হোটেল সাগর রেসিডেনসিয়াল
নিউ মার্কেট রোড, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৫৪৩০৮
৪। আফরিন হোটেল
মসজিদ রোড, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৯১৬৭৮২৩৮৯
৫। এস এস রেস্ট হাউজ
আকুরাতাকুর পাড়া, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৫৫১৮০
৬।পল্লী বিদ্যুৎ রেস্ট হাউজ
টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৫৩৩৯০
৭।এলজিইডি রেস্ট হাউজ(সরকারি)
টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৫৪২৬১
৮। সুগন্ধা হোটেল
পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৬৭৪-৩৪৬৮১৫
৯। নিরালা হোটেল
নিরালা মোড়, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৬১৩৬৩
১০। পিয়াসি হোটেল
নিরালা মোড়, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৭১১-৩৫২৪৯৩
১১। হোটেল কিছুক্ষন
নিরালা মোড়, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২১-৫৫২১৯
১২। হোটেল আদিত্য(আবাসিক)
মধুপুর, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৭১৬-৭৯৬০৬৫
১৩। হোটেল ড্রিম টাচ (আবাসিক)
মধুপুর, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৭১৭২১৮৭৯৯
১৪। শালবন রেসিডেনসিয়াল হোটেল
মধুপুর, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৭১৩৪৬২১০৩
১৫। ইসলামিয়া গেস্ট হাউজ
মধুপুর, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১৯১৭৫৬৬২৩৪
১৬। ভাই ভাই গেস্ট হাউজ
মধুপুর, টাঙ্গাইল
মোবাইলঃ ০১১৯০৯৭৫৫৩৯
১৭। যমুনা রিসোর্ট লিমিটেড
কালীহাতি, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০৯২৩৯-৭৬০৩২-৪
ফ্যাক্সঃ ০৯২৩৯-৭৬০৩২৫
১৮। এলেঙ্গা রিসোর্ট লিমিটেড রেসিডেনসিয়াল হোটেলস
এলেঙ্গা, কালীহাতি, টাঙ্গাইল
ফোনঃ ০২-৯৮৮৪৩২২
ফ্যাক্সঃ ০২-৯৮৮১২৯০

কি করবেন

রাজপ্রাসাদের ছবি তুলতে পারেন।

খাবার সুবিধা

এখানে খাওয়ার জন্য বেশকিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট পেয়ে যাবেন। খাওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে আরও জানতে এখানে ক্লিক করুন

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন