বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বচ্চ পাহাড় হল কেওক্রাডং। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,০৩৫ ফুট (১,২৩০) মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই পাহাড়টি বান্দরবান জেলার রুমা সদর উপজেলায় বাংলদেশ ও মায়ানমারের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। ছোট বড় পাহাড়, ঘন জঙ্গল, এবং নানা ধরনের পশুপাখিতে পরিপূর্ণ এই দুর্গম এলাকাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এই পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আপনি অবাক হবেন। রোমাঞ্চপ্রিয় মানুষদের কাছে কেওক্রাডং এক অন্যরকম আকর্ষণের নাম। শীতকালে অ্যাডভেনচারপ্রেমী বহু পর্যটক এই পাহাড়টি দেখতে আসেন। এখানকার আকর্ষণের মধ্যে রয়েছেঃ সবুজ পাহাড়ের তাক লাগানো সৌন্দর্য, ঝর্ণাধারা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ এবং পাহাড়ের উপর থেকে মেঘের লুকোচুরি।
বান্দরবান থেকে রুমায়ঃ
বান্দরবান থেকে রুমা উপজেলায় চান্দের গাড়ি অথবা ব্যাক্তিগত গাড়িতে করে যেতে পারবেন।
রুমা থেকে বগা লেকেঃ
রুমা বাজার থেকে ২০০০/- টাকা থেকে ২৫০০/- টাকা ভাড়ায় চান্দের গাড়িতে করে বগা লেক পর্যন্ত যেতে পারবেন। বগা লেকে পৌঁছানোর পূর্বে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে আপনাকে নাম, ঠিকানা, এবং অন্যান্য তথ্য দিতে হবে। জাদিপাই ঝর্ণায় পৌঁছানোর জন্য আপনাকে একজন গাইড ভাড়া করতে হবে। প্রথমদিন গাইডের ভাড়া দিতে হবে প্রায় ৬০০/- টাকা এবং এরপর প্রতিদিনের জন্য ভাড়া দিতে হবে প্রায় ৫০০/- টাকা। জাদিপাই ঝর্ণায় যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই গাইডের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।
সন্ধ্যার মধ্যে আপনি বগা লেকে পৌঁছে যাবেন আর তাই আপনাকে সেখানে রাত কাটাতে হবে। বগা লেক এলাকায় বেশকিছু আদিবাসীদের পল্লী রয়েছে। এসব পল্লীতে আপনি রাত্রিযাপন করতে পারেন এবং রাতের খাবার খেতে পারবেন। এছাড়া এখানে থাকার ব্যাপারে গাইড আপনাকে সহায়তা করবে।
জাদিপাই ঝর্ণায় পৌঁছানোঃ
পরদিন আপনাকে খুব সকালে যাত্রা করতে হবে। সকাল ৭ টার মধ্যেই আপনাকে রওনা হতে হবে। প্রথমেই আপনাকে কেওক্রাডঙে যেতে হবে। কেওক্রাডঙে যাওয়ার পথে ‘দার্জিলিংপাড়া’ নামক একটি উপজাতিয় পল্লীতে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিতে পারবেন। কেওক্রাডঙে পৌঁছে আপনাকে জাদিপাই ঝর্ণায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। কেওক্রাডঙ থেকে জাদিপাইয়ে পৌছাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লাগবে। জাদিপাইতে যাওয়ার পথে আপনি পাসিংপাড়া এবং জাদিপাড়া অতিক্রম করবেন। তবে, মনে রাখবেন জাদিপাইতে যাওয়ার পথে শেষ ৩০ মিনিটের যাত্রাপথ খুবই কষ্টকর। তবে, জাদিপাইয়ে পৌঁছে ঝর্ণার সৌন্দর্য দেখে আপনার সকল ভ্রমন ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।
ঢাকা থেকে জাদিপাই ঝর্ণা দেখতে যেতে চাইলে আপনাকে বান্দরবানে পৌছাতে হবে। বান্দরবানে পৌঁছানোর উপায় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন
ঢাকার সাথে বান্দরবানের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে বাসে করে সরাসরি বান্দরবানে যেতে পারবেন।
ঢাকা থেকে বান্দরবানের মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য আপনার সুবিধার্থে নিম্নে প্রদান করা হলঃ
১। এস আলম সার্ভিসেস লিমিটেড
যোগাযোগঃ ০৩৪১-৬২৯০২
২। শ্যামলী পরিবহন
যোগাযোগঃ ০৪৪৩৪৪৯৯৩৪
৩। সাউদিয়া পরিবহন
আরামবাগ কাউণ্টার, যোগাযোগঃ +৮৮-০২-৭১০২৪৬৫
গাবতলি কাউণ্টার, যোগাযোগঃ +৮৮-০২-৮০১৮৪৪৫
ঢাকার সাথে বান্দরবানে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। তবে ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে আকাশপথে গিয়ে সেখান থেকে বাস অথবা ব্যাক্তিগত গাড়িতে করে বান্দরবানে যেতে পারবেন।
ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভো এয়ার, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, রিজেণ্ট এয়ারওয়েজ, ইউইস বাংলা এয়ারওয়েজ।
বান্দরবানে থাকার জন্য হোটেল ও গেস্টহাউজগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। হিলসাইড রিসোর্ট
ঠিকানাঃ চিম্বুক সড়ক, বান্দরবান
যোগাযোগঃ ০১৭৩০০৪৫০৮৩, ০২-৯৮৮৬৯৮৩
২। হোটেল গ্রিনহিল
ঠিকানাঃ প্রধান সড়ক, বান্দরবান-৪৬০০
যোগাযোগঃ +৮৮০১৮৫৬৬৯৯৯১০, +৮৮০১৮৫৬৬৯৯৯১১
৩। হোটেল পূরবী
ঠিকানাঃ ভিআইপি রোড, বান্দরবান সদর, বান্দরবান
যোগাযোগঃ ০১৮২৩-৩৪৬৩৮৩, ০৩৬১-৬২৫৩১
৪। হোটেল পাহাড়িকা
ঠিকানাঃ প্রধান সড়ক, বান্দরবান
যোগাযোগঃ ০৩৬১-৬২১৫৫
কেওক্রাডং এ আবাসিক অথবা অনাবাসিক হোটেল, মোটেল অথবা রেস্টুরেন্ট না থাকায় আপনাকে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছ থেকে খাবার ও পানি সংগ্রহ করতে হবে।
আপনাকে রুমা থেকে অবশ্যই একজন গাইড সাথে করে নিতে হবে। মনে রাখবেন এখানে নেই মোবাইলের কোন নেটওয়ার্ক, খাওয়ার কোনো রেস্টুরেন্ট এবং এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো নয়। এ কারনে জাদিপাই ঝর্ণায় পৌছানো মোটেও সহজ হবে না। সাথে করে অবশ্যই খাবার পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম রাখবেন। রুমায় বেশকিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলে থাকতে চাইলে অবশ্যই আগাম বুকিং করে যাবেন অন্যথায় রাত কাটানো সহজ হবে না। ভাগ্য ভালো হলে আপনি আদিবাসীদের বাড়িতেও রাত কাটাতে পারবেন।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!