কবি চন্দ্রাবতী শিব মন্দির

ধরন: মন্দির
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

কবি চন্দ্রাবতীকে বাংলা সাহিত্যর প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। তিনি জন্মেছিলেন ১৫৫০ সালে। কবি চন্দ্রাবতীর বাবার নাম বংশীদাস ভট্টাচার্য যাকে মনে করা হয়ে থাকে মনসা মঙ্গলের অন্যতম রচয়িতা। ১৫৭৫ সালে কবি চন্দ্রাবতী তাঁর বাবাকে সাথে নিয়ে মনসা দেবীর ভাসান রচনা করেন। কবি চন্দ্রাবতী রামের সমালোচনার মাধ্যমে সীতার দৃষ্টিকোন থেকে রামায়ন বর্ণনা করা শুরু করেছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি এই কাজটি শেষ করতে পারেননি।

কিশোরগঞ্জ শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে চন্দ্রাবতী গ্রামে দুটি শিবমন্দির রয়েছে। এই দুটি মন্দিরের মধ্যে একটি অপেক্ষাকৃত ছোট। কবি চন্দ্রাবতী এবং তাঁর জীবনের অনেক ঘটনার সাথে এই মন্দিরগুলোর সম্পৃক্ততা রয়েছে। ধারনা করা হয়ে থাকে যে এই মন্দিরগুলো ১৬শ শতকে নির্মাণ করা হয়েছিল যেসময়টিতে কবি জন্ম নিয়েছিলেন। মন্দিরগুলোর কাছে দর্শনার্থীদের জন্য বসার ব্যবস্থা রয়েছে। বিকালবেলা অথবা ছুটির দিনে এখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়ে থাকে।

ছবির জন্য ক্লিক করুন: http://www.panoramio.com/photo/92398981
http://www.panoramio.com/photo/92398990
http://www.panoramio.com/photo/92399001


কিভাবে যাবেন

যদিও কিশোরগঞ্জ শহরের বেশীরভাগ শিক্ষিত মানুষ এই মন্দিরগুলো এবং কবি চন্দ্রাবতী সম্পর্কে জানেন তারপরও মন্দিরগুলো খুঁজে পেতে আপনার সমস্যা হতে পারে। আপনি শহরের শহিদী মসজিদ স্ট্যান্ড থেকে কোন ইজিবাইক চালককে গাইড হিসেবে নিতে পারেন যিনি আপনাকে চন্দ্রাবতী গ্রামে প্রবেশের রাস্তার পাশে নামিয়ে দেবে। এখান থেকে মন্দিরে পৌছাতে হলে নরসুন্দা নদীর উপরে স্থাপিত সেতু অতিক্রম করে আপনাকে প্রায় সাত থেকে আট মিনিট হাঁটতে হবে। মন্দিরে পৌছাতে আপনি নীচের নির্দেশিকা অনুসরণ করতে পারেন।

১। শহিদী মসজিদ স্ট্যান্ড থেকে ১৫/- টাকা ভাড়ায় একটি ইজিবাইকে উঠুন এবং চালককে বলুন আপনাকে চন্দ্রাবতী গ্রামের কাছে (অর্থাৎ জালালগঞ্জ স্টেশন অতিক্রম করে ২ মিনিট থেকে ৩ মিনিট পর) নামিয়ে দিতে। জিপিএস নেমে যাওয়ার স্থানটির অবস্থান হলঃ (২৪°২৯’৪৬.৮৫”উ, ৯০°৪৭’৪২.৬১”পু).

২। এখান থেকে নদীর উপরে স্থাপিত সেতু অতিক্রম করে আপনাকে কিছুদুর হাঁটতে হবে।

কিভাবে পৌঁছাবেন: কিশোরগঞ্জ জেলা

কিশোরগঞ্জ সদরের অবস্থান ২৪.৪৩৩৩°উ ৯০.৭৮৩৩°পূর্বে। ১৯৩.৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কিশোরগঞ্জ সদরে প্রায় ৫৫৮২৮টি বসতবাড়ি রয়েছে। এই জেলায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্ব জন্মগ্রহন করেছেন। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার (কিশোরগঞ্জ জেলা) উত্তরে নান্দাইল উপজেলা, দক্ষিনে পাকুন্দিয়া এবং কাটিয়াদি উপজেলা, পূর্বে করিমগঞ্জ এবং তাড়াইল উপজেলা পশ্চিমে হোসাইনপুর ও নান্দাইল উপজেলা অবস্থিত। কিশোরগঞ্জ জেলার প্রধান নদী হল নরসুন্দা নদী।

ঢাকা ও কিশোরগঞ্জের মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। জলসিরি
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে চলাচল করে
প্রথম বাস ছাড়ে ভোর ৫টায় এবং শেষ বাস ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৭টায়
ভাড়াঃ ১৩০/- টাকা (পরিবর্তনশীল)

২। নাবিল পরিবহন
ঠিকানাঃ ১৫/১, পুরাতন গাবতলি, মিরপুর, ঢাকা-১২১৮
ফোনঃ ০২-৯০০৭০৩৬, ০২-৯০১১১৪৩

৩। ড্রিম লাইন
ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে কিশোরগঞ্জ চলাচল করে
ফোনঃ ০১৭১১৩৭৭৫৮৬

৪। কিশোরগঞ্জের বোটরিশ বাসস্ট্যান্ড থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
একতা সার্ভিস (লোকাল)
কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরব হয়ে ঢাকার সায়েদাবাদে চলাচল করে
ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ছেড়ে যায়।

৫। ঈশা খাঁ সুপার গেইট লক
কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার সায়েদাবাদে চলাচল করে
ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ছেড়ে যায়

৬। এম কে সুপার
কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের মধ্যে চলাচল করে
ভোর ৬:৫০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬:১০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ছেড়ে যায়

৭। অতিথি
কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের মধ্যে চলাচল করে
ভোর ৬:৪৫ মিনিটে এবং সকাল ৭:২০ মিনিটে দুটি বাস ছেড়ে যায়
আপনাকে আগাম এই বাসের আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
মোবাইলঃ ০১৭১৮৪৮১১৯২ (কিশোরগঞ্জ কাউণ্টার)
০১৯১৯০১৯১৯৭ (টাঙ্গাইল কাউণ্টার)

৮। এশা এন্টারপ্রাইজ
কিশোরগঞ্জ ও চট্রগ্রামের মধ্যে চলাচল করে
দুপুর ১:২০ মিনিটে এবং দুপর ২:২০ মিনিটে দুটি বাস ছেড়ে যায়
আপনাকে আগাম এই বাসের আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
মোবাইলঃ ০১৭১৩৫৭৭৩০৪

কোথায় থাকবেন

কিশোরগঞ্জে থাকার জন্য হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। হোটেল তেপান্তর প্রিন্সেস
জামিরদিয়া মাস্টার বাড়ি, ভালুকা
ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ

২। হোটেল রিভার ভিউ
স্টেশন রোড, কিশোরগঞ্জ

৩। হোটেল শাহিনা (আবাসিক)
স্টেশনরোড, কিশোরগঞ্জ
3. Hotel shahina (Resident)
৪। বাংলাদেশ গেস্ট হাউজ
স্টেশন রোড, কিশোরগঞ্জ

৫। হোটেল গাংচিল (আবাসিক)
স্টেশন রোড, কিশোরগঞ্জ

কি করবেন

হিন্দু ধর্মের অনুসারী হলে মন্দিরে প্রার্থনা করতে পারেন এবং ছবি তুলতে পারেন।

খাবার সুবিধা

এখানে খাওয়ার জন্য কিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে। কিশোরগঞ্জ শহরে থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন