মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এবং জলপ্রপাত

ধরন: উদ্যান
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক জলপ্রপাত হল সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত মাধবকুণ্ড ঝর্ণাটি। বড় পাথরখণ্ড, চারপাশের বনভুমি এবং অঝোর ধারায় বয়ে চলা জলধারার কারনে এই স্থানটি বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান যেখানে প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক বেড়াতে ও পিকনিক করতে আসেন।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এবং তৎসংলগ্ন জীব বৈচিত্র্যকে রক্ষার জন্য ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ২৬৭ একর আয়তনের মাধবকুণ্ড ইকো পার্কটি মৌলভীবাজার জেলার অধীন মাধবকুণ্ডে অবস্থিত। প্রায় ২০০ ফুট (৬১) মিটার উঁচু জলপ্রপাতটি এই ইকো পার্কের মূল আকর্ষণ। এখানকার গ্রামে খাসিয়া সম্প্রদায়ের আদিবাসীরা বসবাস করে এবং বনভুমিতে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত করে।


কিভাবে যাবেন

সিলেট থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে মাধবকুণ্ডতে আপনি ট্রেন, বাস অথবা ব্যাক্তিগত গাড়িতে চড়ে যেতে পারেন। ট্রেনে করে মাধবকুণ্ডতে আসলে আপনাকে কুলাউড়া স্টেশনে নামতে হবে। ট্রেনে ভ্রমন করলে বিভিন্ন শ্রেণী অনুযায়ী আপনার ১৫০/- টাকা থেকে ৫০০/- টাকা পর্যন্ত খরচ পরবে। কুলাউড়া পৌঁছে বড়লেখা উপজেলার ৬-৭ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মাধবকুণ্ডে যাওয়ার জন্য আপনি ৪০০/- টাকা থেকে ১০০০/- টাকার মধ্যে সিএনজি অটোরিকশা অথবা গাড়ি ভাড়া করতে পারেন। বাসে চড়ে গেলে আপনাকে মৌলভীবাজার অথবা বড়লেখা পর্যন্ত গিয়ে তারপর সিএনজি অটোরিকশা অথবা গাড়িতে করে মাধবকুণ্ডে পৌছাতে হবে। ইকো পার্কে ঢোকার জন্য আপনাকে প্রবেশ মূল্য দিতে হবে।

সড়কপথে কুলাউড়া থেকে মাধবকুণ্ডে যেতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগবে। যাত্রাপথে চারপাশের সবুজ চা বাগান, পাহাড়, পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে চলে যাওয়া আকা বাঁকা পথ আপনার ভ্রমনের আগ্রহকে বাড়িয়ে দেবে বহুগুন। এছাড়া বর্ষাকালে ভ্রমন করলে রাস্তার দুপাশের জমিগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার কারনে আপনার মনে হবে যেন আপনি নদীর মাঝখান দিয়ে পথ চলছেন। মাধবকুণ্ডে পৌঁছে ২০০ ফুট উঁচু থেকে নেমে আসা পানির অঝোর ধারা আর বিশাল পাথর খণ্ডগুলো আপনাকে নিঃসন্দেহে মোহিত করবে।

কিভাবে পৌঁছাবেন: মৌলভীবাজার জেলা

ঢাকা থেকে সরাসরি মৌলভীবাজারে যেতে হলে আপনাকে বাসে চড়তে হবে। তবে ট্রেনে চড়ে যেতে চাইলে শ্রীমঙ্গলে নেমে যেতে হবে আপনাকে। শ্রীমঙ্গল থেকে লোকাল বাস অথবা সিএনজি অটোরিকশায় চড়ে আপনি মৌলভীবাজারে যেতে পারবেন। আকাশপথে যেতে চাইলে আপনাকে ঢাকা থেকে সিলেটে যেতে হবে এবং সেখান থেকে সরাসরি বাসযোগে আপনি মৌলভীবাজারে পৌছাতে পারবেন।

ঢাকা থেকে মৌলভীবাজারে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে আছেঃ
১। হানিফ পরিবহন
আরামবাগ কাউণ্টারের ফোন নং:০১৭১৩৪০২৬৭১
সায়েদাবাদ কাউণ্টারের ফোন নং:০১৭১৩৪০২৬৭৩
২। শ্যামলী পরিবহন
আরামবাগ কাউণ্টারের ফোন নং: ৭১০২২৯১, ০১৯৩৬২৬০২৩
সায়েদাবাদ কাউণ্টারের ফোন নং: ০১৭১৮০৭৫৫৪১, ৭৫১১০১৯, ৭৫৫০০৭১

৩। মামুন এণ্টারপ্রাইজ
সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে রাত ১২:৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় বাস ছেড়ে যায়;
সায়েদাবাদ কাউণ্টারের ফোন নং: ০১৭১৮৪৩৮৭৩২
জনপদ মোড়ের কাউণ্টারের ফোন নং: ০১৯১৭৭৭০৬১
ফকিরাপুল কাউণ্টারের ফোন নং: ০১৯১২৮৭৪৬৭

এছাড়াও প্রতিদিন সকাল ৬:৩০ মিনিট থেকে রাত ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকার মালিবাগ রেলগেট, রাজারবাগ এবং সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে মৌলভীবাজার এক্সপ্রেস ও সোহাগ পরিবহন মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়। এসব বাসের এসি কোচের টিকেটের দাম ৭৫০/- টাকা থেকে ৯০০/- টাকার মধ্যে এবং নন এসি কোচের টিকেটের দাম প্রায় ৪৫০/- টাকা।

ঢাকা থেকে সিলেটে চারটি ট্রেন যাতায়াত করে। মৌলভীবাজার যাওয়ার জন্য আপনি এসব ট্রেনে শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত যেতে পারেন। প্রতিদিন সকালে, দুপুরে, বিকালে সন্ধ্যায় যথাক্রমে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, কালিনী এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেস সিলেটের উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়। ট্রেনযোগে সিলেট পৌছাতে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। শ্রীমঙ্গলে যেতে শোভন চেয়ারের ভাড়া পরবে প্রায় ২২৫/- টাকা এবং প্রথম শ্রেণীর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসনের ভাড়া পরবে ৫১২/- টাকা পর্যন্ত।

কোথায় থাকবেন

মৌলভীবাজার শহরে থাকার জন্য রিসোর্টের পাশাপাশি বেশকিছু মানসম্মত হোটেলও রয়েছে। এছাড়া শহর থেকে কাছে শ্রীমঙ্গল উপজেলাতেও কয়েকটি পাঁচতারকা মানের রিসোর্ট রয়েছে। মৌলভীবাজারের হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। হোটেল সোনারগাঁ, ফোনঃ ০৮৬১-৬৪৬০৭
২। পর্যটন রেস্ট হাউজ, ফোনঃ ০৮৬১-৫২৩৫০
৩। শেরাটন প্লাজা, ফোনঃ ০৮৬১-৫২০২০
৪। হোটেল হেলাল, সাইফুর রহমান সড়ক, মৌলভীবাজার

কি করবেন

মাধবকুণ্ড পরিপূর্ণতা পেয়েছে ঘন সবুজ চা বাগানে, পরিপূর্ণ পদ্মফুলে এবং বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাতে। প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক বিশেষ করে শীতকালে (নভেম্বর-ডিসেম্বরে)এখানে আসেন বেড়াতে এবং পিকনিক করতে। শীতকালে এখানে আসলে আপনি জলপ্রপাতের চূড়ায় উঠতে পারবেন। তবে বর্ষাকালে জলপ্রপাতে পানির পরিমান বহুগুনে বেড়ে যায় যা কিনা পানির প্রবাহমান ধারা দেখে বোঝা যায়। জলপ্রপাতের কাছাকাছি চলে যাওয়া বিপদজনক তাই এখানকার পানিতে গোসল করা নিষেধ।
১। ইকো পার্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এখানকার প্রাণীদের উপস্থিতি উপভোগ করতে পারেন।
২। ইকো পার্কের অভ্যন্তরে খাসিয়া পুঞ্জিতে ঘুরে আসতে পারেন।
৩। আপনি এখানকার খাসিয়া পানের বাগানও দেখে আসতে পারেন।

খাবার সুবিধা

ইকো পার্কের অভ্যন্তরে এবং বাইরে অবস্থিত রেস্টুরেন্টে আপনি ২৫০/–৩০০/- টাকার মধ্যে খাওয়া দাওয়া করতে পারবেন। এছাড়া কাঁঠালতলী বাজার, বড়লেখা এবং মৌলভীবাজারের রেস্টুরেন্ট ও খাওয়ার হোটেলগুলোতে আপনি অল্প খরচে খেতে পারবেন। এছাড়াও, এখানকার পর্যটন মোটেলে আপনি থাকতেও পারবেন এবং মোটেলের নিজস্ব রেস্টুরেন্টে খেতেও পারবেন।

ভ্রমণ টিপস

১। বর্ষাকালে বেড়াতে গেলে সাথে অবশ্যই ছাতা রাখবেন।
২। জলপ্রপাতের কাছে যাবেন না এবং জলপ্রপাতের পানিতে নির্ধারিত সীমানার বাইরে সাঁতার কাটার অথবা গোসল করার চেষ্টা করবেন না।

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন

অন্যদের ওয়েবসাইট থেকে

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন