নজরুল একাডেমী

ধরন: শিক্ষাবিষয়ক
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

কবি নজরুলকে বলা যেতে পারে বাংলা সাহিত্যে নবযুগের সূচনাকারীদের একজন। আমাদের জাতির সাহিত্য, সঙ্গীত এবং সংস্কৃতির সাথে মহান এই কবি জড়িয়ে আছেন ওতপ্রোতভাবে এবং তাঁকে বলা যেতে পারে আমাদের জাতীয় চেতনার বাহক। কবি নজরুলের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি তাঁর অমর কীর্তিগুলোকে সংরক্ষণ করা, তাঁর জীবন, সাহিত্য, সঙ্গীত এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের ওপর গবেষণা করা, তাঁর লেখাগুলোকে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি ছাপানো এবং দেশ বিদেশে তাঁর ভাবমূর্তিকে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৪ সালের ১২ই জুনের নজরুল ইন্সটিটিউট অর্ডিন্যান্স এর অধীনে ঢাকার ধানমণ্ডির ২৮ নং সড়কের ৩৩০-বি নং বাড়িতে অবস্থিত ‘কবিভবনে’ নজরুল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।

বিচারপতি আব্দুল মওদুদ এবং তালিম হোসেন যথাক্রমে নজরুল একাডেমীর সভাপতি এবং সচিব নির্বাচিত হন। খান ই সবুর এক সময় এই একাডেমীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। নজরুল একাডেমী প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নজরুল ইসলামকে একজন ইসলামিক কবি এবং কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। ১৯৬৮ সালের ২৪শে মে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী কাজী আনোয়ারুল হক এক অনুষ্ঠানে নজরুল একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। একাডেমীর চেয়ারম্যান বিচারপতি আব্দুল মওদুদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছিলেন। যে প্রধান উদ্দেশ্যগুলো নিয়ে নজরুল একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেগুলো হলঃ পাকিস্তানের মতাদর্শের সাথে সঙ্গতি রেখে নজরুলের আধুনিক এবং প্রগতিশীল আদর্শকে তুলে ধরা, পাকিস্তানের সংস্কৃতির সাথে সংহতি প্রকাশ করা এবং এই সংস্কৃতিকে মুসলিম ঐতিহ্য অনুযায়ী গড়ে তোলা।

১৯৬৭ সালের আগস্ট মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল একাডেমীর নির্বাহী কমিটি গঠনের পর ১১৭, আউটার সার্কুলার রোডে একটি দোতলা ভবন একাডেমীর জন্য ভাড়া নেওয়া হয়। দান হিসেবে পাওয়া প্রায় পনেরো হাজার রুপি পুঁজি নিয়ে নজরুল একাডেমী এটির লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করে। পাকিস্তানের তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী খান ই সবুর বিভিন্ন ব্যাক্তি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একাডেমীর পুঁজি বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করেন। কয়েক মাসের মধ্যেই সরকার বার্ষিক অনুদান হিসেবে নজরুল একাডেমীকে পঁচিশ হাজার রুপি অনুদান দেন। ১৯৬৮ সালের মে মাসে নজরুল জয়ন্তী পালনের মাধ্যমে একাডেমীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। একাডেমীর তত্ত্বাবধানে দরিরামপুরে নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যেখানে অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খান সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া ১৯৬৮ সালের ১লা জুলাই একাডেমীর উদ্যোগে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে একটি হামদ-নাতের জলসার আয়োজন করা হয়।নজরুল জয়ন্তী পালনের পাশাপাশি এই একাডেমী অন্যান্য জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোও পালন করে যেমনঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ও মৃত্যুদিবস। এছাড়া নজরুল একাডেমী কবির গান সংগ্রহ করা ছাড়াও তাঁর বিভিন্ন স্বরলিপি লেখা ও ছাপানোর কাজ শুরু করে।

১৯৬৭ সালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর এই একাডেমীর অধীনে একটি কিণ্ডারগার্ডেন স্কুল এবং একটি সঙ্গীতের স্কুল যাত্রা শুরু করে। সকল নজরুল সঙ্গীত শিল্পীরা এই সঙ্গীত স্কুলটির সাথে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠার পরপরই এই একাডেমী থেকে ‘নজরুল একাডেমী পত্রিকা’ নামে একটি জার্নাল ছাপানোর কাজ শুরু করা হয়। ১৯৭১ সালে এই পত্রিকার ১২ টি ভলিউম প্রকাশ করা হয়। কবি নজরুলের উপর গবেষণা পত্রের পাশাপাশি এই পত্রিকায় জাতীয় সাহিত্য এবং সংস্কৃতির উপরও গবেষণাভিত্তিক লেখা প্রকাশ করা হত। অনিয়মিতভাবে হলেও এখনও এই পত্রিকাটি প্রকাশ করা হয়। নজরুল একাডেমীর সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে সঙ্গীত শেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে, মূল্যবান কাগজপত্রের পাশাপাশি গ্রামোফোনের রেকর্ড, গান ও স্বরলিপি সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এসব সংগ্রহের কিছু কিছু মাঝে মাঝে প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

(মোহাম্মদ আব্দুল হাই)


কিভাবে যাবেন

ঢাকা শহরের যেকোন স্থান থেকে বাস অথবা সিএনজি অটোরিকশায় করে আপনি এখানে আসতে পারবেন।

কিভাবে পৌঁছাবেন: ঢাকা শহর

কোথায় থাকবেন

খাবার সুবিধা

ঢাকায় খাওয়ার জন্য প্রচুর হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

ভ্রমণ টিপস

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন