পরিকুণ্ড ঝর্ণা মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের নিকটে অবস্থিত। যারা ইতিমধ্যেই মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাত দেখতে গিয়েছেন তাদের অনেকেরই জানা নেই যে মাধবকুণ্ড ইকো পার্কের অভ্যন্তরে আরেকটি ঝর্ণা রয়েছে। মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের ঠিক আগেই অবস্থিত পরিকুণ্ড ঝর্ণাটি তাই অনেকের কাছেই অচেনা। বর্ষাকাল ছাড়া অন্যান্য মৌসুমে এই ঝর্ণাটি শুকিয়ে যায়।
পরিকুণ্ড ঝর্ণা খুঁজে পেতে অসুবিধা হলে পার্কের অভ্যন্তরে কাউকে জিজ্ঞেস করুন, তারাই আপনাকে পথ চিনিয়ে দেবে। এই ঝর্ণায় পৌছাতে হলে আপনাকে প্রবাহিত পানির ওপর দিয়ে অমসৃণ পথে হাঁটতে হবে তাই এসময় আপনার জামা কাপড় ভিজতে বাধ্য। এছাড়া পিচ্ছিল পথে চলার সময় আপনাকে সাবধানে পা ফেলতে হবে অন্যথায় যেকোন মুহূর্তে পিছলে পড়ে আপনি আঘাত পেতে পারেন।
অনেকে মনে করেন যে এখানকার নীরবতার কারনে এই ঝর্ণাটি মাধবকুণ্ডের মূল জলপ্রপাতের চেয়ে বেশি সুন্দর। অজ্ঞতার কারনে এখানে মানুষজন খুব একটা না আশায় এই নীরবতা বজায় থাকে (মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাতটি পর্যটকদের ভিড়ে পরিপূর্ণ থাকে)। প্রায় ১৫০ মিটার উঁচু এই ঝর্ণাটি নীচ থেকে উপরে বেশ খাড়া হওয়ায় এটিকে মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাতের চাইতে উঁচু মনে হয়। এই ঝর্ণায় পানির পরিমান ও গভীরতা কম হলেও পাথরের ওপর পানি পরার পর অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় আর এ কারনেই এই ঝর্ণার সৌন্দর্য বহুগুন বেড়ে যায়।
এই ঝর্ণাটি মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাতের কাছে অবস্থিত হওয়ায় মাধবকুণ্ড ইকো পার্ক ও জলপ্রপাতে কিভাবে যাবেন দেখে নিন। তবে মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাত দেখতে যাওয়ার পূর্বে পরিকুণ্ড ঝর্ণা দেখে নিতে পারেন। মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাতের যাবার পথে বামদিকে একটি শিব মন্দির পরবে। এই পথের ঠিক উল্টো দিকে একটি সিঁড়ি গিয়ে মিলেছে মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাত থেকে সৃষ্ট একটি খালে। পরিকুণ্ড ঝর্ণায় যেতে হলে আপনাকে এই খালের রাস্তা দিয়ে ১০ মিনিট থেকে ১৫ মিনিট হাঁটতে হবে।
তবে, পরিকুণ্ড ঝর্ণা খুঁজে পেতে অসুবিধা হলে আপনি ইকো পার্কের অভ্যন্তরে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই ঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তা পেয়ে যাবেন। পরিকুণ্ড ঝর্ণায় পৌছানোর পথটি পাথরের হওয়াতে বেশ পিচ্ছিল তাই আপনাকে সাবধানে পা ফেলতে হবে।
ঢাকা থেকে সরাসরি মৌলভীবাজারে যেতে হলে আপনাকে বাসে চড়তে হবে। তবে ট্রেনে চড়ে যেতে চাইলে শ্রীমঙ্গলে নেমে যেতে হবে আপনাকে। শ্রীমঙ্গল থেকে লোকাল বাস অথবা সিএনজি অটোরিকশায় চড়ে আপনি মৌলভীবাজারে যেতে পারবেন। আকাশপথে যেতে চাইলে আপনাকে ঢাকা থেকে সিলেটে যেতে হবে এবং সেখান থেকে সরাসরি বাসযোগে আপনি মৌলভীবাজারে পৌছাতে পারবেন।
ঢাকা থেকে মৌলভীবাজারে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে আছেঃ
১। হানিফ পরিবহন
আরামবাগ কাউণ্টারের ফোন নং:০১৭১৩৪০২৬৭১
সায়েদাবাদ কাউণ্টারের ফোন নং:০১৭১৩৪০২৬৭৩
২। শ্যামলী পরিবহন
আরামবাগ কাউণ্টারের ফোন নং: ৭১০২২৯১, ০১৯৩৬২৬০২৩
সায়েদাবাদ কাউণ্টারের ফোন নং: ০১৭১৮০৭৫৫৪১, ৭৫১১০১৯, ৭৫৫০০৭১
৩। মামুন এণ্টারপ্রাইজ
সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে রাত ১২:৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় বাস ছেড়ে যায়;
সায়েদাবাদ কাউণ্টারের ফোন নং: ০১৭১৮৪৩৮৭৩২
জনপদ মোড়ের কাউণ্টারের ফোন নং: ০১৯১৭৭৭০৬১
ফকিরাপুল কাউণ্টারের ফোন নং: ০১৯১২৮৭৪৬৭
এছাড়াও প্রতিদিন সকাল ৬:৩০ মিনিট থেকে রাত ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকার মালিবাগ রেলগেট, রাজারবাগ এবং সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে মৌলভীবাজার এক্সপ্রেস ও সোহাগ পরিবহন মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়। এসব বাসের এসি কোচের টিকেটের দাম ৭৫০/- টাকা থেকে ৯০০/- টাকার মধ্যে এবং নন এসি কোচের টিকেটের দাম প্রায় ৪৫০/- টাকা।
ঢাকা থেকে সিলেটে চারটি ট্রেন যাতায়াত করে। মৌলভীবাজার যাওয়ার জন্য আপনি এসব ট্রেনে শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত যেতে পারেন। প্রতিদিন সকালে, দুপুরে, বিকালে সন্ধ্যায় যথাক্রমে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, কালিনী এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেস সিলেটের উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়। ট্রেনযোগে সিলেট পৌছাতে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। শ্রীমঙ্গলে যেতে শোভন চেয়ারের ভাড়া পরবে প্রায় ২২৫/- টাকা এবং প্রথম শ্রেণীর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসনের ভাড়া পরবে ৫১২/- টাকা পর্যন্ত।
মৌলভীবাজার শহরে থাকার জন্য রিসোর্টের পাশাপাশি বেশকিছু মানসম্মত হোটেলও রয়েছে। এছাড়া শহর থেকে কাছে শ্রীমঙ্গল উপজেলাতেও কয়েকটি পাঁচতারকা মানের রিসোর্ট রয়েছে। মৌলভীবাজারের হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। হোটেল সোনারগাঁ, ফোনঃ ০৮৬১-৬৪৬০৭
২। পর্যটন রেস্ট হাউজ, ফোনঃ ০৮৬১-৫২৩৫০
৩। শেরাটন প্লাজা, ফোনঃ ০৮৬১-৫২০২০
৪। হোটেল হেলাল, সাইফুর রহমান সড়ক, মৌলভীবাজার
১। ঝর্ণার কাছে বসে এটির সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি পাথরের উপর ঝর্ণার পানি পরার মন্ত্রমুগ্ধকর শব্দে হারিয়ে যেতে পারেন কল্পনার রাজ্যে।
২। এই অপরূপ মনোরম দৃশ্যের ছবি তুলতে পারেন।
৩। প্রস্তুতি থাকলে অবশ্যই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঝর্ণার পানিতে গোসল করতে পারেন।
মাধবকুণ্ড ইকো পার্কে উল্ল্যেখিত খাওয়ার ব্যবস্থা দেখে নিন। এখানকার খাবার খেয়ে আপনার ক্ষুধা নিবৃত হলেও খাবারের মান আশানুরুপ নাও হতে পারে।
বর্ষাকাল পরিকুণ্ড ঝর্ণা দেখতে যাবার সবচেয়ে ভাল সময় কারন অন্যান্য মৌসুমে এখানে কোন পানি নাও থাকতে পারে।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!