রাতারগুল জলাভুমির বন

ধরন: বন
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

রাতারগুল জলাভুমির বন সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। গোয়াইন নদীর নিকটে চেঙ্গির খালের সাথে সংযুক্ত একটি মিঠাপানির জলাভুমির বন হল রাতারগুল। এই বনটিসারাবছর প্রায় ১০ ফুট পানির নীচে থাকে এবং বর্ষাকালে চিরসবুজ এই বনটি ২০ ফুট থেকে ৩০ ফুট পানির নীচে প্লাবিত হয়। এই বনে করচ গাছ (পঙ্গামিয়া পিন্নাটা) বেশী জন্মায়। বিভিন্ন প্রকারের দেশী মাছ ছাড়াও এই বনে রয়েছে সাপ, বানর, পাখি, টিকটিকি, পোকামাকড় সহ নানা প্রজাতির প্রাণী। এখানে আপনি শকুন এবং ঈগলেরও দেখা পেতে পারেন। বনটির কিছু অংশ বেশ ছোট হওয়ায় এখানে নৌকা ভ্রমন করা কঠিন।

বাংলাদেশের একমাত্র জলাভুমির এই বনটি পৃথিবীর সামান্য কয়েকটি জলাভুমির বনগুলোর একটি যেখানে মিঠা পানি পাওয়া যায়। বাংলাদেশ সরকারের বনবিভাগ এই বনটি সংরক্ষণ করছে।


কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সিলেটে কিভাবে পৌছাবেন ইতিমধ্যেই উল্ল্যেখ করা হয়েছে। সিলেট থেকে প্রায় ১৮.৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বনে আপনি বাস অথবা সিএনজি অটোরিকশায় করে সাকুলটিকর সড়ক ধরে পৌছাতে পারবেন।

কিভাবে পৌঁছাবেন: সিলেট জেলা

ঢাকা থেকে সিলেটে আপনি সড়কপথে, রেলপথে এবং আকাশপথে পৌছাতে পারেন।

ঢাকা থেকে সিলেটের মধ্যে চলাচলকারি বাসগুলোর মধ্যে আছেঃ
১। গ্রীনলাইন পরিবহনঃ
ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়ঃ সকাল ৮:৩০ মিনিটে, সকাল ১০ টায়, বিকাল ৪:১৫ মিনিটে, বিকাল ৫:৩০ মিনিটে এবং রাত ১২:৩০ মিনিটে; ভাড়াঃ ৮৫০/- টাকা (ভলভো), ১১০০/- টাকা (স্কেনিয়া);
২। শ্যামলী পরিবহনঃ
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ৭১০২২৯১, ০১৯৩৬২৬০২৩;
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৮০৭৫৫৪১, ৭৫১১০১৯, ৭৫৫০০৭১;

৩। হানিফ পরিবহনঃ
পান্থপথকাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ০১৭৩৪০২৬৭০
আরামবাগ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭১
সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ঢাকা, ফোনঃ ০১৭১৩৪০২৬৭৩

৪। টি আর ট্র্যাভেলস
৫। সোহাগ পরিবহন

উপরে উল্ল্যেখিত বাসগুলো প্রতিদিন ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে রাত ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকার মালিবাগ রেলগেট, রাজারবাগ এবং সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সিলেটের পথে ছেড়ে যায়। নন এসি এসব বাসের ভাড়া প্রায় ৫০০/- টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া প্রায় ৮০০/- টাকা থেকে ১০০০/- টাকা।

ঢাকা থেকে সিলেটে বাংলাদেশ বিমান, নভো এয়ার, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং রিজেণ্ট এয়ারওয়েজ দ্বিমুখী ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। এসব বিমান সংস্থার একমুখি পথের ভাড়া পড়বে ৩০০০/- টাকা থেকে ৮০০০/- টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০টির অধিক ফ্লাইট ঢাকা থেকে সিলেটে আসা যাওয়া করে।

ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস এবং উপবন এক্সপ্রেস যথাক্রমে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় ছেড়ে যায়। এছাড়া বিকালবেলা নয়া সংযোজিত কালিনী এক্সপ্রেস সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। রেলপথে সিলেটে পৌছাতে ৭ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। এসব ট্রেনের ভাড়া পরবে শোভন শ্রেণীর আসনের জন্য ২৯৫/- টাকা এবং তাপানুকুল প্রথম শ্রেণীর আসনের জন্য ৬৭৯/- টাকা।
ট্রেনের যাত্রার সময়সূচী:
১।কালিনী এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় বিকাল ৪ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ শুক্রবার;
২। পারাবত এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৬:৪০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে দুপুর ১:৩৫ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ৩ টায়; ঢাকায় পৌঁছে রাত ১০:৩০ মিনিটে; বন্ধের দিনঃ মঙ্গলবার;
৩। উপবন এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় রাত৯:৫০ মিনিটে; সিলেটে পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় রাত ১০ টায়; ঢাকায় পৌঁছে ভোর ৫:৩০ মিনিটে; সিলেটে বন্ধের দিন নেই তবে ঢাকায় বন্ধের দিনঃ বুধবার;
৪। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ১২ টায়; সিলেটে পৌঁছে রাত ৭:৫০ মিনিটে; সিলেট থেকে ছেড়ে যায় সকাল ৮:২০ মিনিটে; ঢাকায় পৌঁছে বিকাল ৪ টায়; সিলেট ও ঢাকায় ট্রেনটির কোন বন্ধের দিন নেই;
শ্রেণীভেদে এই ট্রেনগুলোর ভাড়া ৭৫/- টাকা থেকে ১০১৮/- টাকা পর্যন্ত।

কোথায় থাকবেন

সিলেটে থাকার জন্য বেশকিছু ভালমানের হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের বেশীরভাগ মাজার রোড, আম্বরখানা, এবং জিন্দাবাজারে অবস্থিত। এসব হোটেলের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ
১। হোটেল ইস্টার্ন গেইট এন্ড পানাহার রেস্টুরেন্ট।
২। হোটেল গুলশান।
৩। হোটেল দরগা ভিউ।
৪। গ্রিনল্যান্ড হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট।
৫। হোটেল সিটি লিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল।
৬। সুরমা ভ্যালী রেস্ট হাউজ।
৭। হোটেল বাহারাইন রেসিডেনসিয়াল।
৮। হোটেল কুরাইশি রেসিডেন্স।
৯। হোটেল আজমীর।
১০।হোটেল পায়রা।
১১।হোটেল সুপ্রিম।
১২।হোটেল পলাশ।
১৩।হোটেল ওয়েস্টার্ন।
১৪।হোটেল অনুরাগ।
১৫।হোটেল আল-আমীন।
১৬।হোটেল গার্ডেনস ইন।
১৭।হোটেল ফেরদৌস।
১৮।হোটেল পানামা।
১৯।হোটেল গ্রীন।
২০।হোটেল হিলটাউন।
২১।হোটেল রোজভিউ।
২২।হোটেল স্টার প্যাসিফিক।
২৩।হোটেল তাজমহল।

কি করবেন

১। নৌকাভ্রমন করতে পারেন।
২। এখানকার বিভিন্ন প্রাণীদের প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
৩। ছবি তুলতে পারেন।
৪। বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করুন। কে জানে, হতে পারে এখানেই আপনি অ্যামাজনের জঙ্গলের স্বাদ পেয়ে যাবেন।

খাবার সুবিধা

এখানে আপনি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে খেতে পারেন। এছাড়াও গোয়াইনঘাটে আপনি সব ধরনের খাবার পেয়ে যাবেন। আপনি নাজিমগড় রিসোর্টের রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্ন ভোজ করতে পারেন অথবা স্ন্যাক্স খেতে পারেন।

ভ্রমণ টিপস

এই বনে প্রবেশের পূর্বে আপনাকে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে একটি নৌকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে হবে। বাইরের কারো নৌকা ভাড়া না করাই শ্রেয় কেননা এতে করে আপনার ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন