হিজলির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ালেও শাহ সুজা আগ্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন না। বাংলার দক্ষিন পশ্চিমে অবস্থিত হিজলি (পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলা) শাসন করতেন বাহাদুর খান নামক একজন স্বভাবজাত বিদ্রোহী। শাহ সুজার শাসনকালে বাহাদুর খান খাজনা পরিশোধে বিলম্ব করেন আর তাই শাহ সুজা বাহাদুর খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করেন।
বাহাদুর খান পরাজয় মেনে নেন এবং আগের তুলনায় অধিক খাজনা পরিশোধের প্রস্তাব দেন। টিপ্পেরাদের বিরুদ্ধে সুজার যুদ্ধের কথা টিপ্পেরা রাজাদের ঐতিহ্যবাহী কাহিনী রাজমালায় উল্লেখিত রয়েছে। বাহাদুর খান পরাজয়ের পর আধুনিক কুমিল্লার সীমান্তবর্তী তাঁর এলাকার একটি অংশ সমর্পণের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। শাহ সুজা তাঁর বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে এই স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। শাহ সুজার নামে নামকরণ করা মসজিদটি কুমিল্লার শহরের কাছে গোমতী নদীর তীরে আজও বেশ ভাল অবস্থায় টিকে আছে।
কুমিল্লায় পৌছানোর একাধিক উপায় রয়েছে। কুমিল্লায় চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ এশিয়া লাইন, প্রিন্স, তিশা, রয়্যাল, প্রাইম ইত্যাদি। এসব বাসে প্রায় ২৫০/- টাকা ভাড়ায় ঢাকা থেকে ২ ঘণ্টা থেকে ৩ ঘণ্টায় কুমিল্লা শহরে পৌছাতে পারবেন। এছাড়া ঢাকা থেকে ট্রেনে করেও কুমিল্লায় পৌছাতে পারবেন। কুমিল্লা থেকে রিকশায় করে শাহ সুজা মসজিদে পৌছাতে পারবেন।
কুমিল্লার সাথে সারাদেশের রয়েছে চমৎকার পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে কুমিল্লায় যাওয়া যায়। কুমিল্লায় একটি বিমানবন্দর থাকলেও বর্তমানে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে না।
ঢাকা থেকে কুমিল্লার দূরত্ব ৯৭ কিলোমিটার। আপনি বাসে করে সড়কপথে কুমিল্লায় পৌছাতে পারবেন। আপনার সুবিধার্থে কুমিল্লায় চলাচলকারী বাসগুলো সম্পর্কে নিম্নে তথ্য প্রদান করা হলঃ
১। উপকুল রয়্যাল
কমলাপুর বাসস্ট্যান্ড
যোগাযোগঃ ০১৯৮১-০০২৯৩২, ০১৯৮১-০০২৯৪২
২। তিশা
সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড
যোগাযোগঃ ০১৭৩১-২১৭৩২২
৩। বিআরটিসি
কমলাপুর বাসস্ট্যান্ড
যোগাযোগঃ ০১৭৭০-৪৯৩৭৭৫
৪। প্রাইম সার্ভিস
হ্যাচেল রোড
যোগাযোগঃ ০২-৯৫৫৪৪৯৬
সকাল ৬:১৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিটে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়।
বাস ভাড়াঃ প্রায় ২২০/-টাকা
ঢাকা থেকে চট্রগ্রামগামী ট্রেনে করে কুমিল্লায় পৌছাতে পারবেন। ঢাকা থেকে প্রতিদিন একাধিক ট্রেন কুমিল্লা হয়ে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কুমিল্লায় যাওয়ার জন্য ট্রেনের মধ্যে রয়েছেঃ
মহানগর প্রভাতি
ছাড়ার সময়: সকাল ৭:৪০ মিনিট
পৌঁছানোর সময়ঃ দুপুর ২৩০ মিনিট
ট্রেনে করে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় কুমিল্লায় পৌঁছে যাবেন।
আপনার সুবিধার্থে কুমিল্লায় থাকার জন্য কিছু হোটেল ও গেস্টহাউজ সম্পর্কে নিম্নে তথ্য প্রদান করা হলঃ
১। আশিক রেসিডেনসিয়াল রেস্ট হাউজ
ঠিকানাঃ ১৮৬, নজরুল এভিনিউ কুমিল্লা
যোগাযোগঃ ৬৮৭৮১
২। হোটেল আবেদিন
ঠিকানাঃ স্টেশন রোড কুমিল্লা
যোগাযোগঃ ৭৬০১৪
৩।হোটেল নুরজাহান
ঠিকানাঃ ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক, কুমিল্লা
যোগাযোগঃ ৬৮৭৩৭
৪। হোটেল সোনালি
ঠিকানাঃ কান্দিরপাড় চত্বর, কুমিল্লা
যোগাযোগঃ ৬৩১৮৮
১। মসজিদে নামাজ পড়তে পারেন।
২। মসজিদের স্থাপত্যশৈলী প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
৩। ছবি তুলতে পারেন।
আপনি কুমিল্লার বিখ্যাত মিষ্টি রস মঞ্জুরির স্বাদ গ্রহন করতে পারেন। সারাদেশে অতুলনীয় স্বাদের জন্য এই মিষ্টির বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!