তাজিংডং

ধরন: পাহাড়
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

বাংলাদেশের সর্বচ্চ পাহাড়ের নাম তাজিংডং। স্থানীয় ভাষায় তাজিং অর্থ বিশাল এবং ডং অর্থ পাহাড় একত্রে যার অর্থ দাড়ায় বিশাল পাহাড়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৩০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই পাহাড়ে হাজার হাজার পর্যটক বেড়াতে এসে থাকেন। এখানে তাজিংডং ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায় যাদের সংস্কৃতি এবং জীবন বৈচিত্র্য প্রকৃতির সাথে সম্পৃক্ত। একসময় তাজিংডং এ পৌঁছানো দুরুহ হলেও বর্তমানে প্রচুর পর্যটক প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের জন্য এখানে এসে থাকেন। শুধু তাজিংডং এ নয় প্রকৃতির সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে এর আশেপাশেও। বর্ষাকালে এখানকার সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করা যায় না। তবে, শীতকালে অনেক পর্যটক এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পায়ে হেঁটে এসে থাকেন। তবে, বর্তমানে চান্দের গাড়িতে করে আপনি তাজিংডং এর কাছাকাছি পৌছাতে পারবেন। তবে, বাকি পথ আপনাকে পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হবে। শীতকালে এখানে আসলে আপনাকে গরম কাপড় পরিধান করতে হবে। তাজিংডং এ পৌঁছানোর পথে হাঁটার অনন্য অভিজ্ঞতা আপনার মনে থাকবে বহুদিন।


কিভাবে যাবেন

বান্দরবান থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে রুমা অবস্থিত। উন্নত যোগাযোগ এবং পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় এটি বাংলাদেশের অন্যতম দুর্গম উপজেলা। তাজিংডং এ যেতে হলে আপনাকে প্রথম রুমায় পৌছাতে হবে। রুমায় যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্পে আপনাকে নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হবে। আপনার মনে রাখতে হবে যে বিকাল ৪টার পর কাউকে বগালেক, কেওক্রাডং এবং তাজিংডং এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে দেয়া হয়না। বর্ষাকালে কৈখংঝিরি পর্যন্ত আপনি জিপে করে যেতে পারবেন। সেখান থেকে নৌকায় করে এক ঘণ্টায় রুমায় যেতে পারবেন। শীতকালে জিপে করে আপনি রুমা ব্রিজঘাট পর্যন্ত যেতে পারবেন এবং সেখান থেকে ১৫ মিনিট থেকে ২০ মিনিটে নৌকায় করে রুমায় পৌছাতে পারবেন। রুমা সদর থেকে বগা লেকে যেতে আপনি পিকআপ অথবা জিপ ভাড়া করতে পারবেন। বগালেক থেকে তাজিংডং এ পৌছাতে আপনাকে পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে পায়ে হাঁটতে হবে।

কিভাবে পৌঁছাবেন: বান্দরবান জেলা

ঢাকার সাথে বান্দরবানের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে বাসে করে সরাসরি বান্দরবানে যেতে পারবেন।

ঢাকা থেকে বান্দরবানের মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য আপনার সুবিধার্থে নিম্নে প্রদান করা হলঃ
১। এস আলম সার্ভিসেস লিমিটেড
যোগাযোগঃ ০৩৪১-৬২৯০২
২। শ্যামলী পরিবহন
যোগাযোগঃ ০৪৪৩৪৪৯৯৩৪
৩। সাউদিয়া পরিবহন
আরামবাগ কাউণ্টার, যোগাযোগঃ +৮৮-০২-৭১০২৪৬৫
গাবতলি কাউণ্টার, যোগাযোগঃ +৮৮-০২-৮০১৮৪৪৫

ঢাকার সাথে বান্দরবানে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। তবে ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে আকাশপথে গিয়ে সেখান থেকে বাস অথবা ব্যাক্তিগত গাড়িতে করে বান্দরবানে যেতে পারবেন।
ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভো এয়ার, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, রিজেণ্ট এয়ারওয়েজ, ইউইস বাংলা এয়ারওয়েজ।

কোথায় থাকবেন

বান্দরবানে থাকার জন্য হোটেল ও গেস্টহাউজগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। হিলসাইড রিসোর্ট
ঠিকানাঃ চিম্বুক সড়ক, বান্দরবান
যোগাযোগঃ ০১৭৩০০৪৫০৮৩, ০২-৯৮৮৬৯৮৩
২। হোটেল গ্রিনহিল
ঠিকানাঃ প্রধান সড়ক, বান্দরবান-৪৬০০
যোগাযোগঃ +৮৮০১৮৫৬৬৯৯৯১০, +৮৮০১৮৫৬৬৯৯৯১১
৩। হোটেল পূরবী
ঠিকানাঃ ভিআইপি রোড, বান্দরবান সদর, বান্দরবান
যোগাযোগঃ ০১৮২৩-৩৪৬৩৮৩, ০৩৬১-৬২৫৩১
৪। হোটেল পাহাড়িকা
ঠিকানাঃ প্রধান সড়ক, বান্দরবান
যোগাযোগঃ ০৩৬১-৬২১৫৫

খাবার সুবিধা

তাজিংডং এ যাওয়ার জন্য আপনাকে সাথে করে শুকনা খাবার, পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট, গরম কাপড়, টর্চ লাইট, ওরস্যালাইন, মশা তাড়ানোর লোশন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র রাখতে হবে। তাজিংডং এ পৌছানোর যাত্রাপথ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হওয়ায় সাথে করে মহিলা ও শিশুদের না নেওয়াই ভালো। রুমা বাজারে থাকার জন্য কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলে থাকতে হলে আপনাকে আগাম বুকিং করতে হবে অন্যথায় খোলা আকাশের নীচে রাত কাটানো ছাড়া কোন উপায় থাকবে না আপনার। তবে, ভাগ্য ভালো হলে আদিবাসীদের বাসায় আপনার রাত কাটানোর সৌভাগ্য হতেও পারে।

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন

  • বান্দরবান সদর হতে অথবা রুমা উপজেলা সদর হতে চাঁন্দের গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়, কেবলমাত্র শুষ্ক মৌসুমে গাড়ি করে কাছাকাছি পৌঁছা সম্ভব

অন্যদের ওয়েবসাইট থেকে

  • হাত বাড়ালেই তাজিন ডং। মুল চুড়া খুব কাছে কিন্তু এখান থেকে উঠার রাস্তা না থাকায় পুরোটাকে ঘিরে একটা চক্কর দিতে হয়

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন