কুষ্টিয়া শহরের প্রধান আকর্ষণসমুহ:
১। লালন ফকিরের আখড়া
২। ঠাকুর লজ
৩। মোহিনী মিল
৪। শিয়ালদহ কুঠিবাড়ি
৫। মীর মোশাররফ হোসাইন স্মৃতিসৌধ
৬। রিনউইক ব্রিজ (গড়াই নদীর তীরে)
৭। গোপীনাথ জিউ মন্দির (ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ধাতব নির্মিত রথ)
৮। পৌর জাদুঘর
আগের দিন রাত্রিযাপনের পর কুষ্টিয়া সদরে দিনব্যাপী ভ্রমন:
প্রথম দিন
সকাল ৭টা: ঢাকা থেকে যাত্রা।
দুপুর ২টা-৩টাঃ কুষ্টিয়ার মোজমপুরের স্থানীয় রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্ন ভোজের পর হোটেলে গমন।
দুপুর ৩টা-বিকাল ৪টাঃ মিলপাড়া, মোহিনী মিল এলাকা এবং ঠাকুর লজ (খোলা থাকা সাপেক্ষে) পরিদর্শন।
বিকাল ৪টা-বিকাল ৫টাঃ লালন ফকিরের আখড়া পরিদর্শন।
বিকাল ৫টা-সন্ধ্যা ৬টাঃ রিনউইক নদী তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন।
সন্ধ্যা ৬টা-সন্ধ্যা ৭টাঃ হোটেলে প্রত্যাবর্তন অতঃপর বিশ্রাম।
সন্ধ্যা ৭টা-রাত ৮টাঃ লালন ফকিরের আখড়ায় পুনরায় গমন ( সন্ধ্যায় কোন উপলক্ষ অথবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন সাপেক্ষে)।
দ্বিতীয় দিন
সকাল ৮টা – সকাল ৯টাঃ প্রাতঃরাসের পর নদীর তীরে প্রাতঃভ্রমন।
সকাল ১০টা-সকাল ১০:৩০ মিনিটঃ পৌর জাদুঘর পরিদর্শন (শুক্রবার-শনিবার না হলে)
সকাল ১০:৩০ মিনিট-সকাল ১১:৩০ মিনিটঃ কুষ্টিয়া জেলা স্কুল এলাকায় খ্রিষ্টান কবরস্থান পরিদর্শন।
সকাল ১১:৩০ মিনিট-দুপুর ১:৩০ মিনিটঃ শিয়ালদহ কুঠিবাড়ি পরিদর্শন এবং কুলফি মালাইয়ের স্বাদ গ্রহন।
দুপুর ১:৩০ মিনিট-দুপুর ২:৩০ মিনিটঃ মীর মোশাররফ হোসাইনের জাদুঘর পরিদর্শন।
দুপুর ২:৩০ মিনিট-দুপুর ৩:৩০ মিনিটঃ মোজমপুর বাসস্ট্যান্ডের নিকটে অবস্থিত স্থানীয় রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্ন ভোজ।
দুপুর ৩:৩০ মিনিট-বিকাল ৪টাঃ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা এবং ভ্রমনের সমাপ্তি।
=============================ভ্রমনের বিস্তারিত বিবরণ============================
প্রথম দিন:
দুপুর ৩টা-বিকাল ৪টাঃ মিলপাড়া, মোহিনী মিল এলাকা এবং ঠাকুর লজ | ঘুরে দেখতে আনুমানিক সময় লাগবেঃ ১ ঘণ্টা
১৮৯৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসেছিলেন কুষ্টিয়া শহরে তাঁর ব্যবসা স্থাপন করতে। সে সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বেশীরভাগ হিন্দু পরিবার ব্যবসা পরিচালনা করতো। ঠাকুর তাঁর পারিবারিক ব্যবসার দেখাশোনা করায় “ঠাকুর এন্ড কোম্পানি” নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এই ভবনটি বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার কতৃক মেরামত করা হয়েছে এবং রঙ করা হয়েছে। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ধাতু নির্মিত ভাস্কর্য রয়েছে।
বিকাল ৪টা-বিকাল ৫টাঃ লালন ফকিরের আখড়া | ঘুরে দেখতে আনুমানিক সময় লাগবেঃ ১ ঘণ্টা
খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া জেলার রেলওয়ে স্টেশন থেকে ২ কিলোমিটার দূরে লালন ফকিরের আখড়া অবস্থিত। লালন ফকির ১৭৭৪ সালে জন্মগ্রহন করেন এবং ১৮৯০ সালে মৃত্যুবরন করেন। লালনের প্রারম্ভিক জীবন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং এই বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। লালনের ছিলেন বহুগুণে গুণান্বিত। তিনি ছিলেন একজন আধ্যাত্মিক নেতা, কবি, সংস্কারবাদী এবং বাউল গানের রচয়িতা।
দ্বিতীয় দিন: (গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমুহ)
সকাল ১১:৩০ মিনিট-দুপুর ১:৩০ মিনিটঃ শিয়ালদহ কুঠিবাড়ি পরিদর্শন | ঘুরে দেখতে আনুমানিক সময় লাগবেঃ ২ ঘণ্টা
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) প্রায়ই এখানে আসতেন এবং তিনি তাঁর জমিদারি তদারকি করার জন্য অবস্থান করতেন। এখানে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর লেখনীর মাধ্যমে সাহিত্য চর্চা করতেন। এখানে অবস্থানকালে তিনি অনেক স্মরণীয় কবিতা রচনা করেন। জমিদার হিসেবে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের জন্য তিনি কুঠিবাড়িকে তাঁর আবাস/দফতর হিসেবে ব্যবহার করতেন। বর্তমানে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে কুঠিবাড়িকে একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
দুপুর ১:৩০ মিনিট-দুপুর ২:৩০ মিনিটঃ মীর মোশাররফ হোসাইনের জাদুঘর | ঘুরে দেখতে আনুমানিক সময় লাগবেঃ ১ ঘণ্টা (পরিবহনসহ)
মীর মোশাররফ হোসাইন ছিলেন ১৯ শতকে বাংলা সাহিত্যের একজন জনপ্রিয় উপন্যাসিক, লেখক এবং রচয়িতা। তিনি তাঁর প্রখ্যাত উপন্যাস বিষাদ সিন্ধুর কারনে মানুষের মাঝে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। বাংলার মুসলমান সমাজ থেকে উঠে আসা প্রথম সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচনা করা হয় মীর মোশাররফ হোসাইনকে। কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহন করেন এবং বেড়ে উঠেন। এই স্থানটি বর্তমানে মীর মোশাররফ হোসাইন স্মৃতি জাদুঘর নামে পরিচিত। জাদুঘরের অভ্যন্তরে উল্ল্যেখ করার মত কোন সংগ্রহ না থাকলেও কিছু দুর্লভ ও ঐতিহাসিক আলোকচিত্র রয়েছে।




