বাংলা ভাষার প্রচার এবং প্রসারে প্রধান দায়িত্ব পালন করে থাকে বাংলা একাডেমী। বাংলা একাডেমীকে বলা যেতে পারে রাষ্ট্রভাষার অভিভাবক। ভাষাবিদ ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার জন্য একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের পর ১৯৫২ সালের ২৭শে এপ্রিল সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কমিটি বাংলা ভাষার প্রচারে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনের সময় যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা মেনিফেসটোতে বলা হয়েছিল যে “যুক্তফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বর্ধমান হাউজে বাংলা ভাষার জন্য একটি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে”। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর শিক্ষামন্ত্রী সৈয়দ আজিজুল হক তাঁর প্রতিশ্রুতি পুরনের জন্য গবেষণা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন।
১৯৫৫ সালে গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করতে সরকার একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিতে ছিলেন ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ডঃ কাজী মোতাহার হোসেন, ডঃ এস এম ভট্টাচার্য, ডঃ ডব্লিউ এইচ শাদানি এবং মুহাম্মদ বরকত উল্লাহর মত প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবিরা। ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আবু হোসাইন বাংলা একাডেমীর উদ্বোধন করেন।
প্রথমে মুহাম্মাদ বরকতউল্লাহ ভারপ্রাপ্ত বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে ডঃ মুহাম্মেদ ১৯৫৭ সালে সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে একাডেমীর আর্থিক সূত্রের সৃষ্টি হয় এবং সরকার এই একাডেমীকে সহযোগিতা করতে আরম্ভ করে। অধ্যাপক আহমেদ শরীফের সম্পাদনায় বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত প্রথম বই হল বিখ্যাত কবি দৌলত উজির বাহরাম খানের রচিত লাইলি মজনু। কবি ফররুখ আহমেদ ছিলেন এই একাডেমীর প্রথম ফেলো।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর একাডেমীর পরিচালকের পদটি মহাপরিচালক পদদ্বারা পরিবর্তিত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম ছিলেন একাডেমীর প্রথম মহাপরিচালক। ২০০৮ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর বাংলা একাডেমীর মূলভবনের সামনে ৫০০ জনের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি মিলনায়তন এবং ১০০ জনের ধারনক্ষমতা সম্পন্ন একটি সেমিনারকক্ষ সহ একটি ৮ তলা নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়।
ঢাকা শহরে কোথায় খাবেন, সে পেইজটি দেখুন। দেখতে ক্লিক করুন
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!