বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট

ধরন: গবেষণা কেন্দ্র
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

উন্নত বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন জাতের ধান উদ্ভাবন এবং বিভিন্ন পরিবেশে এসব ধান চাষের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ১৯৭০ সালে গাজীপুরের জয়দেবপুরে বিআরআরআই প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ইন্সটিটিউটের প্রধান একজন মহাপরিচালক। জয়দেবপুরে সদর দফতর এবং প্রধান কেন্দ্র ছাড়াও বরিশাল, ভাঙ্গা, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, রংপুর, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা এবং সোনাগাজীতে এই ইন্সটিটিউটের নয়টি আঞ্চলিক কেন্দ্র আছে। ১৮ টি গবেষণা বিভাগ বিভিন্ন বিষয়ের দেখাশোনা করে থাকে। এগুলো হলঃ গাছের বংশবৃদ্ধি, বীজ এবং জেনেটিক রিসোর্স, ধানের মান এবং পুষ্টি, এগ্রোনোমি, মাটি বিজ্ঞান, সেচ এবং পানি ব্যবস্থাপনা, উদ্ভিদের শারিরবৃত্য, পতঙ্গতত্ত্ব, উদ্ভিদ প্যাথলজি, ধান চাষের ব্যবস্থা, কৃষি পরিসংখ্যান, কৃষি অর্থনীতি, খামার ব্যবস্থাপনা, খামারের যন্ত্রপাতি এবং চাষ পরবর্তী প্রযুক্তি, ওয়ার্কশপের যন্ত্রপাতি এবং রক্ষনাবেক্ষন, এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষন। এছাড়া সাতটি বিভাগে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসবের মধ্যে আছেঃ বৈচিত্র্যময় উদ্ভাবন, শস্য-মাটি-পানির ব্যবস্থাপনা, কিটপতঙ্গের ব্যবস্থাপনা, ধান ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা, খামার যান্ত্রিকীকরন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ, এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিআরআরআই এর প্রধান অর্জনগুলোর মধ্যে আছে ৬৫ টি উন্নত (এমভি ধান) এবং আধুনিক জাতের ধানের সাথে চারটি হাইব্রিড প্রজাতির ধানের উদ্ভাবন যেগুলো বিভিন্ন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম। এসকল প্রজাতির মধ্যে তেরো জাতের ধান বোরো এবং আউশ মৌসুমে, সাত জাতের ধান বোরো মৌসুমে, পাঁচ জাতের ধান আউশ মৌসুমে এবং বারো জাতের ধান চাষ করা যায় আমন মৌসুমে। যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং মাটির সহনীয় অবস্থা বজায় থাকলে এসব জাত থেকে বোরো মৌসুমে প্রতি হেক্টরে পাঁচ থেকে ছয় মেট্রিকটন, আউশ মৌসুমে তিন থেকে চার মেট্রিকটন এবং আমন মৌসুমে চার থেকে পাঁচ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন করা সম্ভব।

গবেষণা শুরু করার পরপর বিআরআরআই সেমি ডোয়ারফ ফটো পিরিয়ড সহনীয় জাতের উদ্ভাবনের জন্য আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইআরআরআই)কে অনুসরণ করে। সময়ের সাথে সাথে বিআরআরআই এর বিজ্ঞানীরা অধিক ফলনের জন্য আইআরআরআই প্রদত্ত খাটো চারার ব্যবহারের ধারনা থেকে সরে আসে এবং কৃষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি বান্ধব পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে মাঝারি উচ্চতার স্বল্প আয়ুর ধানগাছ উদ্ভাবন করে যেগুলোর ফটো পিরিয়ড স্পর্শকাতরতা সামান্যই।

বিআরআরআই উদ্ভাবিত এমভি ধানগুলো বর্তমানে বাংলাদেশের ৯০% বোরো (শীতকালীন ধান) এলাকা, ২৫%-৩০% আউশ (গ্রীষ্মকালীন ধান) এবং ৫০%-৫৫% আমন (বর্ষাকালীন ধান) এলাকায় চাষ হচ্ছে। এসকল ধানের প্রজাতিগুলো দেশের মোট ধান চাষের ৫৬% এলাকায় চাষ হচ্ছে এবং দেশের বার্ষিক ৭৪% চাল উৎপাদন এসব ধান থেকেই হয়ে থাকে। দেশে বার্ষিক চালের উৎপাদন ১৯৭২-৭৩ সালের ৯.৯৩ মিলিয়ন মেট্রিকটন থেকে বর্তমানের প্রায় ৩৪ মিলিয়ন মেট্রিকটনে বৃদ্ধি করার পেছনে বিআরআরআই এর আধুনিক প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবিত এমভি ধানগুলো প্রধান ভুমিকা পালন করেছে।

বিআরআরআই এর শস্য বিজ্ঞানীরা স্বাদ, পুষ্টিগুন, উৎপাদনের ক্ষমতা, রান্নার মানের উপর ভিত্তি করে নিয়মিতভাবে শস্যদানার গুনাগুন পরিক্ষা নিরীক্ষা করে থাকে। এতে করে কৃষকরা একদিকে যেমন প্রত্যাশা অনুযায়ী মান সম্পন্ন শস্য পাচ্ছে অন্যদিকে ভিন্ন ধরনের শস্যও উৎপাদিত হচ্ছে।
বর্তমানে জয়দেবপুরের সদর দফতরে এবং ৯ টি আঞ্চলিক কেন্দ্রে বিআরআরআই এর ১৩৪ জন বিজ্ঞানী এবং ৩৪৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করছে। বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে বিআরআরআই এর গবেষণা কার্যক্রম বিনিময় কর্মসূচি রয়েছে।


কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে ঢাকা পরিবহনের বাসে জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌছাতে পারবেন। সেখান থেকে রিকশায় অথবা সিএনজি অটোরিকশায় বিআরআরআইতে আসতে পারবেন। এছাড়া ঢাকা থেকে গাড়ি ভাড়া করে অথবা ব্যাক্তিগত গাড়িতে করে সরাসরি এখানে পৌছাতে পারবেন।

কিভাবে পৌঁছাবেন: গাজীপুর জেলা

ঢাকা থেকে গাজীপুরে দিনের ২৪ ঘণ্টাই বিভিন্ন বাস চলাচল করে। যেমনঃ ঢাকার আজিমপুর থেকে টঙ্গীর হোসাইন মার্কেটে অনিক এবং উইনার বাস সার্ভিস চলাচল করে। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশা অথবা ব্যাক্তিগত গাড়িতেও গাজীপুরে পৌছাতে পারেন।

ঢাকা-টঙ্গী ডাইভারশন সড়ক এবং টঙ্গী-কালীগঞ্জ ডাইভারশন সড়কের মাধ্যমে ঢাকার সাথে গাজীপুরের সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। রেলপথেও গাজীপুরে যাওয়া যায়। গাজীপুরের ৭টি রেলস্টেশন হলঃ রাজেন্দ্রপুর, শ্রীপুর, ধীরাশ্রম, জয়দেবপুর, টঙ্গী, সাতখাঁমাইর এবং পুবাইল।
ঢাকা থেকে গাজীপুরে বিভিন্ন বাস সার্ভিস রয়েছে। যেমনঃ পুবালি পরিবহন মহাখালি থেকে নরসিংদীতে চলাচল করে। এছাড়া কেটিএল সার্ভিস ঢাকা থেকে কালীগঞ্জে চলাচল করে। ঢাকা থেকে গাজীপুরে চলাচলকারী বিভিন্ন রুটের বাস সার্ভিসগুলোর মধ্যে আছেঃ
আজমেরি পরিবহনঃ নন্দন পার্ক- সদরঘাট
প্রভাতি-বনশ্রীঃ
১। গুলিস্তান- কালিয়াকৈর
২। গুলিস্তান –কাপাসিয়া
৩। গুলিস্তান -শ্রীপুর
৪। গুলিস্তান –ত্রিমোহনী
সালসাবিল— যাত্রাবাড়ি –কোনাবাড়ি
রাহবার—লোহারপুল-মৌচাক
আনাবিল-যাত্রাবাড়ি
ট্রান্সসিলভা- যাত্রাবাড়ি-গাজীপুর
গাজীপুর পরিবহন লিমিটেড-ধাকা-গাজীপুর
ঢাকা পরিবহন লিমিটেড-মতিঝিল-গাজীপুর
ভিআইপি ২৭-গাজীপুর চৌরাস্তা-আজিমপুর
বলাকা পরিবহন-শিববাড়ি বাজার-সদরঘাট

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গাজীপুরে ট্রেন চলাচল করে। গাজীপুর জেলায় ৭ টি রেল স্টেশন রয়েছে।

কোথায় থাকবেন

গাজীপুরে থাকার ব্যবস্থা বেশ উন্নত। এখানে বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে থাকার জন্য। এখানকার হোটেলগুলোর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ

হ্যাপি ডে ইন
মোবাইলঃ ০১১৯১০০৪৮০১-৪

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট
ফোনঃ ৫৭৫২৫৭৩

পুষ্পদম রিসোর্ট
মোবাইলঃ ০১৭৫০০২৭৭৭

রাঙ্গামাটি ওয়াটারফ্রন্ট
মোবাইলঃ ০১৭১২৮১৭৭৭০, ০১৮১১৪১৪০৭৪

কি করবেন

১। এই ইন্সটিটিউটের চমৎকার পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।
২। গবেষণার কাজে ব্যবহার করা ধানের ক্ষেতগুলো দেখতে পারেন।
৩। গবেষণার কলাকৌশল সম্পর্কে জানতে পারেন।

খাবার সুবিধা

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন