বেবুদ রাজার দিঘী

ধরন: হ্রদ
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

বেবুদ রাজার দীঘিটি স্থানীয়ভাবে বেবুদ রাজার পুকুর এবং বেবুইদ্দার পুকুর নামে পরিচিত। আদিবাসী কোচ সম্প্রদায়ের রাজা বেবুদ এই পুকুরটি খনন করিয়েছিলেন। তবে স্থানীয়রা এও মনে করেন যে বেবুদ রাজা ছিলেন হাজং সম্প্রদায়ের রাজা।

বেবুদ রাজার পুকুরকে ঘিরে প্রচলিত কল্পকাহিনী:
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ১৬শ শতকে উপজাতি কোচ সম্প্রদায়ের রাজা ছিলেন বেবুদ। রাজা বেবুদ এবং তাঁর পুকুরকে ঘিরে কয়েকধরনের কল্পকাহিনী প্রচলিত আছে। কথায় আছে একবার খরার সময় পানির সংকট দূর করার জন্য রাজা বেবুদ এই বিশাল পুকুরটি খনন করলেও পুকুরটি পানিতে পূর্ণ হয়নি। এরপর রাজা বেবুদ স্বপ্নযোগে পুকুরে পানি আনার জন্য তাঁর স্ত্রীকে এই পুকুরে বলী দেওয়ার নির্দেশ পান। রাজা বেবুদ তাঁর স্ত্রী শম্পারানীকে স্বপ্নের কথা জানালে শম্পারানী রাজাকে স্বপ্নে প্রাপ্ত নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে বলেন তবে তিনি রাজার কাছে তাদের শিশু সন্তানের ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশংকা প্রকাশ করেন কারন শিশু সন্তানটি পুরোপুরি শম্পারানীর উপর নির্ভরশীল ছিল।

পরদিন ঘুমের মধ্যে রাজা বেবুদ আবারো স্বপ্নটি দেখেন তবে এবার তিনি তাঁর শিশু সন্তানের বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। স্বপ্নযোগে রাজা জানতে পারেন যে তাঁকে একটি জাদুর আংটি দেওয়া হবে এবং তিনি যদি এই আংটি নিয়ে পুকুর পাড়ে আসেন তবে শম্পারানী ফেরত আসবেন শুধুমাত্র তাদের শিশু সন্তানটিকে খাওয়ানোর জন্য। সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশ্বস্ত হয়ে পরদিন রানী পুকুরের মাঝখানে চলে যান। এতে করে পুকুরের পানি আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে স্রোতের তীব্র ঘূর্ণিতে পড়ে শম্পারানী পুকুরে তলিয়ে যান।

এরপর যখনই শিশু সন্তানটি ক্ষুধায় কান্নাকাটি করত, রাজা বাচ্চাটিকে পুকুর পাড়ে এনে আংটি দিয়ে পুকুরের পাড়ে ঘষা দিতেন এবং এতে করে রানী মানব আকৃতিতে ফিরে এসে তাঁর সন্তানকে খাওয়াতেন


কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে খুব সহজেই আপনি বেবুদ রাজার পুকুরে পৌছাতে পারবেন। আপনার সুবিধার্থে এখানে আসার দিকনির্দেশিকা নিম্নে প্রদান করা হলঃ

১। প্রথমেই আপনাকে এগারোসিন্দুরে অবস্থিত গোয়ালঘাটে পৌছাতে হবে। গোয়ালঘাটের জিপিএস অবস্থান হল (২৪°১৫’৪৫.৬৪”উ, ৯০°৩৯’২৩.৮৫”পু)। ঢাকার মহাখালি থেকে আপনি এখানে বিভিন্ন বাসে করে আসতে পারেন যেমনঃ  কিশোরগঞ্জের জলসিঁড়ি, অনন্যা এবং নান্দাইলের বন্যা পরিবহন। এসব বাসে ভাড়া পড়বে প্রায় ১৩০/- টাকা। তবে, বাসের হেলপারকে আগে থেকে জানিয়ে রাখতে হবে যে আপনি গোয়ালঘাটে নামতে চান।

২। গোয়ালঘাট থেকে রিকশায় অথবা পায়ে হেঁটে আপনি বেবুদ রাজার পুকুরের কাছে আসতে পারবেন। রিকশায় করে আসলে একবারে যাওয়া এবং আসার জন্য রিকশা ভাড়া করাই ভাল এবং এতে করে আপনাকে ৮০/- টাকা থেকে ১০০/- টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হবে। বিশ থেকে ত্রিশ মিনিটের মধ্যে এই দীঘিতে পৌছাতে পারবেন। বেবুদ রাজার দীঘির জিপিএস অবস্থান হল (২৪°১৬’১২.৯৬”উ, ৯০°৩৯’২৯.৪৩”পু)।

কিভাবে পৌঁছাবেন: কিশোরগঞ্জ জেলা

কিশোরগঞ্জ সদরের অবস্থান ২৪.৪৩৩৩°উ ৯০.৭৮৩৩°পূর্বে। ১৯৩.৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কিশোরগঞ্জ সদরে প্রায় ৫৫৮২৮টি বসতবাড়ি রয়েছে। এই জেলায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্ব জন্মগ্রহন করেছেন। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার (কিশোরগঞ্জ জেলা) উত্তরে নান্দাইল উপজেলা, দক্ষিনে পাকুন্দিয়া এবং কাটিয়াদি উপজেলা, পূর্বে করিমগঞ্জ এবং তাড়াইল উপজেলা পশ্চিমে হোসাইনপুর ও নান্দাইল উপজেলা অবস্থিত। কিশোরগঞ্জ জেলার প্রধান নদী হল নরসুন্দা নদী।

ঢাকা ও কিশোরগঞ্জের মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। জলসিরি
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে চলাচল করে
প্রথম বাস ছাড়ে ভোর ৫টায় এবং শেষ বাস ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৭টায়
ভাড়াঃ ১৩০/- টাকা (পরিবর্তনশীল)

২। নাবিল পরিবহন
ঠিকানাঃ ১৫/১, পুরাতন গাবতলি, মিরপুর, ঢাকা-১২১৮
ফোনঃ ০২-৯০০৭০৩৬, ০২-৯০১১১৪৩

৩। ড্রিম লাইন
ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে কিশোরগঞ্জ চলাচল করে
ফোনঃ ০১৭১১৩৭৭৫৮৬

৪। কিশোরগঞ্জের বোটরিশ বাসস্ট্যান্ড থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
একতা সার্ভিস (লোকাল)
কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরব হয়ে ঢাকার সায়েদাবাদে চলাচল করে
ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ছেড়ে যায়।

৫। ঈশা খাঁ সুপার গেইট লক
কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার সায়েদাবাদে চলাচল করে
ভোর ৬:৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ছেড়ে যায়

৬। এম কে সুপার
কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের মধ্যে চলাচল করে
ভোর ৬:৫০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬:১০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ছেড়ে যায়

৭। অতিথি
কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের মধ্যে চলাচল করে
ভোর ৬:৪৫ মিনিটে এবং সকাল ৭:২০ মিনিটে দুটি বাস ছেড়ে যায়
আপনাকে আগাম এই বাসের আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
মোবাইলঃ ০১৭১৮৪৮১১৯২ (কিশোরগঞ্জ কাউণ্টার)
০১৯১৯০১৯১৯৭ (টাঙ্গাইল কাউণ্টার)

৮। এশা এন্টারপ্রাইজ
কিশোরগঞ্জ ও চট্রগ্রামের মধ্যে চলাচল করে
দুপুর ১:২০ মিনিটে এবং দুপর ২:২০ মিনিটে দুটি বাস ছেড়ে যায়
আপনাকে আগাম এই বাসের আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
মোবাইলঃ ০১৭১৩৫৭৭৩০৪

কোথায় থাকবেন

কিশোরগঞ্জে থাকার জন্য হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। হোটেল তেপান্তর প্রিন্সেস
জামিরদিয়া মাস্টার বাড়ি, ভালুকা
ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ

২। হোটেল রিভার ভিউ
স্টেশন রোড, কিশোরগঞ্জ

৩। হোটেল শাহিনা (আবাসিক)
স্টেশনরোড, কিশোরগঞ্জ
3. Hotel shahina (Resident)
৪। বাংলাদেশ গেস্ট হাউজ
স্টেশন রোড, কিশোরগঞ্জ

৫। হোটেল গাংচিল (আবাসিক)
স্টেশন রোড, কিশোরগঞ্জ

কি করবেন

১। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে দীঘির ইতিহাস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করতে পারেন।
২। ছবি তুলতে পারেন।

খাবার সুবিধা

কিশোরগঞ্জ শহরে খাওয়ার জন্য আপনি বেশকিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট পাবেন।এগুলো সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন 

ভ্রমণ টিপস

বেবুদ রাজার দীঘি দেখে আপনি নিম্নলিখিত স্থানগুলোতেও যেতে পারেনঃ

১। আংটি চোরের বিল;

২। শাহ মাহমুদ মসজিদ;

৩। সাদী মসজিদ;

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন