বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর

ধরন: যাদুঘর
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

বাংলাদেশ সরকার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর নিজের পৈত্রিক বাড়ি ভোলা জেলার আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপি মৌজায় এই জাদুঘরটি স্থাপন করেন। এই জাদুঘরে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি রয়েছে লাইব্রেরি এবং মিলনায়তন।

মোস্তফা কামালের জন্ম ১৯৪৭ সালে ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর গ্রামে। তাঁর বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন হাবিলদার। মোস্তফা কামালের শৈশবের বেশিরভাগই কেটেছিল তাঁর বাবার সাথে কুমিল্লা সেনানিবাসে। মাত্র ২য় শ্রেণী পর্যন্ত পড়তে পেরেছিলেন তিনি। ১৯৬৭ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাসা থেকে পালিয়ে তিনি যোগ দেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। বক্সার হিসেবে সুখ্যাতি ছিল মোস্তফা কামালের। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি তাঁকে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদর দফতরে বদলি করা হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়ন্ত্রন নিয়ে আশুগঞ্জ, উজানিশ্বর এবং অ্যান্ডারসন লেকে তিনটি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি স্থাপন করে। কিন্তু এই ঘাঁটিগুলোর ওপর পাক বাহিনীর অবিরাম কামানের গোলাবর্ষণের ফলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট তাঁদের ঘাঁটি স্থানান্তর করতে বাধ্য হয় আখাউরা, সঙ্গীনগর এবং দরুইনে। দরুইনে সৈন্য সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ২য় প্লাটুন কে পাঠানো হয় যেটিতে ছিলেন মোস্তফা কামাল। মেজর শাফায়াত জামিল মোস্তফা কামালকে ল্যান্স নায়েক পদে মৌখিক ভাবে পদোন্নতি দিয়ে একটি সেনাদলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেন। ১৯৭১ সালের ১৮ই এপ্রিল মোস্তফা কামাল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে এক যুদ্ধে শহীদ হন। তাঁকে দরুইনে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতার জন্য তাঁকে মরণোত্তর বাংলাদেশের সর্বচ্চ সামরিক খেতাব “বীরশ্রেষ্ঠ” তে ভূষিত করা হয়। তাঁর সম্মানার্থে একটি ডাকটিকেটও প্রকাশ করা হয়।


কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বরিশালে আপনি সড়কপথে, নদীপথে অথবা আকাশপথে পৌছাতে পারবেন। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং রিজেণ্ট এয়ারওয়েজ ঢাকা এবং চট্রগ্রাম থেকে বরিশালে ফ্লাইট পরিচালনা করে। অক্টোবর থেকে এপ্রিলে প্রতিদিন ফ্লাইট থাকলেও মে থেকে সেপ্টেম্বরে অর্থাৎ গ্রীষ্ম এবং বর্ষায় সপ্তাহে ৩ থেকে ৪টি ফ্লাইট আসা যাওয়া করে। বরিশাল থেকে আপনাকে ভোলার পৌছাতে হবে।

ভোলা শহর থেকে আপনি সহজেই বাস অথবা সিএনজি অটোরিকশাযোগে আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপি মৌজায় বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘরে পৌছাতে পারবেন।।

কিভাবে পৌঁছাবেন: ভোলা জেলা

বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার একটি হল ভোলা। ভোলার উত্তরে লক্ষ্মীপুর ও বরিশাল জেলা, দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে লক্ষ্মীপুর জেলা, নোয়াখালী জেলা, মেঘনা নদী ও শাহবাজপুর চ্যানেল এবং পশ্চিমে পটুয়াখালী জেলা অবস্থিত।

ঢাকার গাবতলি এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ভোলার উদ্দেশে নিয়মিত বাস ছেড়ে যায়। ভোলায় সড়কপথে যাওয়ার জন্য রয়েছে দুটি পথঃ একটি বরিশাল অতিক্রম করে এবং অপরটি লক্ষ্মীপুরের উপর দিয়ে।

ঢাকা থেকে ভোলায় বেশকিছু লঞ্চ সরাসরি যাতায়াত করে তাই আপনি নদীপথে ভোলা পৌছাতে পারবেন। ঢাকা থেকে ভোলায় চলাচলকারী লঞ্চগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ
• এমভি ভোলা, ফোনঃ ০৪৯১-৬১২৩৬
• শ্রীনগর, ফোনঃ ০৪৯১-৬২৫২৩
• বালিয়া, ফোনঃ ০১৭১১৯০৫৪৭১
• কর্ণফুলী, ফোনঃ ০৪৯১-৫১৩৫৪
এই লঞ্চগুলো ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিট এবং রাত ৮ টার মধ্যে ভোলার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং পরদিন ভোর ৬ টা থেকে ৬:৩০ মিনিটের মধ্যে ভোলায় পৌঁছে। এই লঞ্চগুলোতে প্রথম শ্রেণীর ভাড়া ৯০০/- টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণীর ভাড়া ২০০/- টাকা।

কোথায় থাকবেন

ভোলায় থাকার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত ব্যাবস্থা। ভোলা জেলায় একটি সার্কিট হাউজ ছাড়াও প্রতি উপজেলায় রয়েছে উপজেলা পরিষদের অধীনে একটি করে বাংলো। এখানে বেশকিছু বেসরকারি হোটেল ও মোটেলও রয়েছে। আপনার সুবিধার্থে কিছু হোটেল সম্পর্কে তথ্য নিম্নে প্রদান করা হলঃ
1. হোটেল আহসান, ফোনঃ ০১১৯১৪২৬৩২২
2. হোটেল জাহান, ফোনঃ ০১৭১৬৮৭৯৯৭৫
3. হোটেল শীষমহল, ফোনঃ ০১৭১৮৩৩৫৩১১
4. হোটেল প্রিন্স, ফোনঃ ০১৭১২৭৬২৩৫৮
5. হোটেল গোল্ডেন প্লাজা, ফোনঃ ০১৭২৬৬৬৭২১৮

কি করবেন

১। জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন।
২। জাদুঘরের সংগ্রহ দেখতে পারেন এবং লাইব্রেরিতে বই পড়তে পারেন।
৩। জাদুঘর ও আশেপাশের ছবি তুলতে পারেন।

খাবার সুবিধা

মহাসড়কের পাশে এবং স্থানীয় বাজারে কিছু রেস্টুরেন্ট আছে যেখানে আপনি দেশীয় খাবার পাবেন। তবে, খাবারের মান সম্পর্কে কোনরকম উচ্চাশা না রাখাই শ্রেয়।

ভ্রমণ টিপস

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন