বারিক টিলা এবং জাদুকাটা নদী

ধরন: নদী
সহযোগিতায়: Nayeem
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে উৎপত্তি হওয়া জাদুকাটা নদীটি সুনামগঞ্জের একটি অপরূপ নদী। বর্ষাকালে এই নদীটি অনেক প্রশস্ত হয়ে যায়। শীতকালে বেড়াতে গেলে মাইল জুড়ে বিস্তৃত বালুময় তীর দেখে বর্ষাকালে নদীটির উন্মত্ততা সম্পর্কে আপনি ধারনা পেয়ে যাবেন। জাদুকাটা নদীর স্বচ্ছ নীল জল এতটাই স্বচ্ছ যে নদীর তীর থেকেই আপনি নদীর তলদেশ দেখতে পাবেন। নদীতীরে সবখানেই বড় পাথরখণ্ডের সাথে দেখা মিলবে আপনার। জাদুকাটা নদী থেকে বেশকিছু খালের সৃষ্টি হয়েছে যেগুলো সুরমা নদীতে মিলিত হয়েছে।

নদীটির পাশেই প্রায় ১৫০ ফুট উচ্চতার একটি টিলা রয়েছে। স্থানীয়রা এই টিলাটিকে বারিক টিলা বলে থাকে। এই টিলায় অবস্থিত পিলারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়েছে তাই আপনাকে ভারতীয় বিএসএফের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এই টিলার উপর থেকে সবকিছুই দেখতে বেশ ক্ষুদ্র লাগে।


কিভাবে যাবেন

আপনাকে প্রথমেই সুনামগঞ্জ পৌছাতে হবে। ঢাকা থেকে কিভাবে সুনামগঞ্জে যাবেন তা ইতিমধ্যেই উল্ল্যেখ করা হয়েছে। জিপিএস এ জাদুকাটা নদীর অবস্থান হল (২৫°১১’২৭.০৩”উ, ৯১°১৪’৫৬.০৫”পূ)। আপনাকে মোটরসাইকেল ভাড়া করতে হবে। দুজনের জন্য মোটরসাইকেল ভাড়া পরবে প্রায় ৩০০/- টাকা। সুনামগঞ্জ থেকে এই অপরূপ সুন্দর নদীটিতে পৌছাতে প্রায় ৬০ মিনিট থেকে ৮০ মিনিট সময় লাগবে।

কিভাবে পৌঁছাবেন: সুনামগঞ্জ জেলা

আপনি সুনামগঞ্জে সরাসরি শুধুমাত্র সড়কপথে যেতে পারবেন কারন সুনামগঞ্জের সাথে রেলপথে, আকাশপথে এবং নদীপথে সরাসরি কোন যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই।

ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জে চলাচলকারি বাসগুলোর মধ্যে আছেঃ
১। হানিফ এণ্টারপ্রাইজ:
– আরামবাগ কাউণ্টার, ফোন নং: ০১৭১৩-৪০২৬৭১
– সায়েদাবাদ কাউণ্টার, ফোন নং: ০১৭১৩-৪০২৬৭৩
২। শ্যামলী পরিবহনঃ
– আরামবাগ কাউণ্টার ঢাকা, ফোন নং: ৭১০২২৯১, ০১৯৩৬২৬০২৩
– সায়েদাবাদ কাউণ্টার ঢাকা, ফোন নং: ০১৭১৮০৭৫৫৪১, ৭৫১১০১৯, ৭৫৫০০৭১

৩। মামুন এণ্টারপ্রাইজ:
– সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে রাত ১২:৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় বাস ছেড়ে যায়।
– সায়েদাবাদ কাউণ্টার -০১৭১৮৪৩৮৭৩২, জনপথ মোড়-০১৯১৭৭৭০৬১, ফকিরাপুল- ০১৯১২৮৭৪৬৭
এছাড়াও রেলপথে অথবা আকাশপথে আপনি প্রথমে সিলেটে পৌছাতে পারেন। সিলেট থেকে বাসে করে আপনি সুনামগঞ্জে প্রায় এক ঘণ্টায় পৌছাতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

সুনামগঞ্জে থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ
১। হোটেল নুর, পূর্ব বাজার স্টেশন রোড;
২। হোটেল নুরানী, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন রোড;
৩। হোটেল প্যালেস, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন রোড;
৪। সুরমা ভ্যালী আবাসিক রিসোর্ট;

কি করবেন

• টিলার উপর দাড়িয়ে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
• নৌকা ভ্রমন করতে পারেন।
• ছবি তুলতে পারেন।

খাবার সুবিধা

এখানে খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। তবে কিছু দোকানে আপনি হালকা স্ন্যাক্স ও ফলের রস খেতে পারবেন। এখানে বেড়াতে গেলে সাথে করে খাবার নিয়ে যাওয়াই ভাল।

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন