নারায়নপুর নীলকুঠি

ধরন: ইতিহাস ও সংস্কৃতি
সহযোগিতায়:
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিস্তারিত

একসময় বাংলাদেশে বেশকিছু নীলকুঠির অস্তিত্ব ছিল। শুকনো জমির চাইতে নদীমাতৃক এলাকা নীলচাষের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় এসব স্থানে বেশীরভাগ নীলকুঠি অবস্থিত ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনকালে (১৭৫৭-১৮৫৮), তারা কিছু নীল চাষের কারখানা এবং গরিব কৃষকদের কাছ থেকে ‘দাদন’ সংগ্রহ করতে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু নীলকুঠি নির্মাণ করে যা দেশের বিভিন্ন স্থানে নীল চাষের কারখানার ধ্বংসপ্রাপ্ত চিমনী থেকে প্রতীয়মান হয়। এমনই একটি নীলকুঠি নরসিংদী জেলার বেলাবো থানার নারায়নপুর গ্রামে অবস্থিত। এই নীলকুঠির চিমনীটি প্রায় ৭৫ ফুট লম্বা যা নীচ থেকে উপরে ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় চিমনীর নীচে ছয়টি বিশাল চুল্লী ছিল। চুল্লীর ধোঁয়া নির্গমনের জন্য এখানকার চিমনীটি নির্মাণ করা হয়। এই অঞ্চলে সর্বশেষ নীল চাষির (কুথিয়াল) নাম বেশ প্রচলিত ছিল। সম্প্রতি চিমনীটির নিকটবর্তী স্থানের নাম রাখা হয়েছে নীলকুঠি বাসস্ট্যান্ড এবং এই স্থানটি ঢাকা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

১৭৭৭ সালে বাংলায় নীলচাষ শুরু হয় এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে কৃষকদের বিদ্রোহী করে তুলতে নীলচাষ ছিল একটি মাইলফলক। গরিব কৃষকদের সেসময় বাধ্য করা হয় তাদের জমিতে খাদ্য শস্যের পরিবর্তে নীলচাষ করতে। লুইস বোনারড ছিলেন সম্ভবত সর্বপ্রথম নীল চাষি। বাংলার নবাবদের রাজত্বে ইংরেজদের ক্ষমতার ব্যাপ্তি বৃদ্ধি এবং ইউরোপে নীলরঙের ব্যাপক চাহিদার কারনে নীলচাষ দিন দিন বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠে। বাংলার বিভিন্ন অংশের পাশাপাশি বুরদওয়ান, বাকুরা, বীরভুম এবং মুর্শিদাবাদে ব্যাপকভাবে নীল চাষ শুরু করা হয়। নীলচাষ করানো ব্যাক্তিরা এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেয়নি নীলচাষের জন্য। তারা কৃষকদের উচ্চ সুদে ঋণ প্রদান করত যাকে বলা হত ‘দাদন’। একবার কোন কৃষক এই ঋণ গ্রহন করলে উত্তরসূরিদের কাছে ঋণের বোঝা না দেয়া পর্যন্ত তাঁকে সারা জীবনের জন্য ঋণগ্রস্ত থাকতে হত। নীলচাষ করানো ব্যাক্তিরা কৃষকদের নামে মাত্র মূল্য প্রদান করত যা ছিল নীলের বাজার মূল্যের মাত্র আড়াই শতাংশ। কৃষকরা বর্বর নীলচাষ করানো ব্যাক্তিদের কাছ থেকে মোটেই সুরক্ষিত ছিল না কারন কৃষকরা তাদের নির্দেশ মেনে না চললে কৃষকদের সম্পত্তি ধ্বংস করে দেওয়া হত অথবা কৃষকদের সম্পত্তি বন্ধক করে রাখা হত।

ইংরেজ শাসকরা নীলচাষ করানো ব্যাক্তিদের পক্ষেই ছিল এবং এই জন্যই ১৮৩৩ সালের একটি আইনের মাধ্যমে নীলচাষ করানো ব্যাক্তিদের কৃষকদের নিপীড়নের জন্য একরকম অনুমতি প্রদান করা হয়। এমনকি, জমিদারেরা, ঋণদাতারা এবং অন্যান্য প্রভাবশালি ব্যাক্তিরাও নীলচাষ করানোদের পক্ষ নিয়েছিল। নীলচাষের নামে অমানুষিক নিপীড়ন এবং নির্যাতন সইতে না পেরে কৃষকরা বিদ্রোহ করতে বাধ্য হয়।

১৮৫৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে কৃষকরা আর একটিও নীলগাছের চারা রোপণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রায় অর্ধশতাব্দী জুড়ে নিপীড়িত হলেও নীল বিদ্রোহে কৃষক সমাজের দাবি অবাক করার মতই শক্তিশালী ছিল।


কিভাবে যাবেন

আপনি ঢাকার মহাখালি, বিমানবন্দর, আবদুল্লাহপুর এবং টঙ্গী বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা-ভৈরব রুটের বাসে উঠতে পারেন। নরসিংদীর শিবপুর থানার ইটাখোলা বাসস্ট্যান্ডে পৌছার পর আপনি বাসের সুপারভাইজারকে বলতে পারেন আপনাকে নীলকুঠি বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিতে। বাসস্ট্যান্ড থেকে নীলকুঠি মাত্র পাঁচ মিনিটের দুরত্বে অবস্থিত।

কিভাবে পৌঁছাবেন: নরসিংদী জেলা

নরসিংদী জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই উন্নত। বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এই জেলা দিয়ে অতিক্রম করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে এই জেলায় যেতে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগে। বেশকিছু নদী নরসিংদীর মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই জেলার নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ উন্নত। বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত দুটি রেলপথ (ঢাকা-চট্রগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট) এই জেলার উপর দিয়ে চলে গিয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল থেকে নরসিংদীর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বাস চলাচল করে। যেমনঃ গুলিস্তান থেকে চলাচল করে ন্যাশনাল এক্সপ্রেস (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত)ও বিআরটিসির (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) বাস। এছাড়া সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চলাচল করে মনোহরদী পরিবহন, আনা সুপার সার্ভিস, বিআরটিসির বাস এবং মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে পিপিএল, চলনবিল ট্রান্সপোর্ট, আরাবিয়ান ট্রান্সপোর্ট, বাদশা পরিবহনসহ বিভিন্ন বাস চলাচল করে।

ঢাকা থেকে নরসিংদীতে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১। ন্যাশনাল পরিবহন
১৮, খাজা সুপার মার্কেট কাউণ্টার, ফোনঃ ৮০২৩০৯২
কল্যাণপুর কাউণ্টার, ফোনঃ ০১৭১৩২২৮২৮৬
কলাবাগান কাউণ্টার, ফোনঃ ৯১৪৩৩৭২
গাবতলি কাউণ্টার (খ-২২), ফোনঃ ৯০০৫৮৪৪

২। আল-মোবারোকা ট্র্যাভেলস
সেকশন# ১১, লেন# ১৫, ব্লক# এ, বাসা# ১৩, মিরপুর, ঢাকা
ফোনঃ ৯০১০৫২৯, ৮০১০৮১৩,৭৫১৫৮৮৮
৩। বিআরটিসি
বিআরটিসি বাস ডিপো, কমলাপুর, ঢাকা
ফোনঃ ৯৩৩৩৮০৩, ৯০০২৫৩১

৪। ঈগল পরিবহন
ঢাকার কাউণ্টারসমূহঃ
গাবতলি বাস টার্মিনাল, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
আরামবাগ কাউণ্টার (নটরডেম কলেজের বিপরীতে)
ফোনঃ ০২-৮০১৭৬৯৮, ৯০১৩২২৪, ৮৩৫৩২০০, ৮৯৫৯৮২০, ৯১১৬৮৩৭, ৭১০১৫০৪, ০১১৯৯২৪৫৭৩৯

৫। খালেক এন্টারপ্রাইজ
ক-২৫৯/বাগবাড়ি (পুরাতন বিউটি সিনেমা হলের সামনে), এশিয়ান হাইওয়ে, গাবতলি, মিরপুর, ফোনঃ ০২-৮০১৫২৬২
গাবতলি কাউণ্টার, ফোনঃ ০২-৮০১৫২২৪
মৌচাক বুথঃ ২৩৬, মালিবাগ (ফুজি কালারের পেছনে), ফোনঃ ০২-৯৩৪৫৮০৪

ঢাকা থেকে নরসিংদী জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত। ঢাকা থেকে সড়কপথে নরসিংদীর দূরত্ব ৫৯.৪ কিলোমিটার। রেলযোগে ঢাকা থেকে নরসিংদী যেতে সময় লাগবে প্রায় দেড় ঘণ্টা। শুধুমাত্র নরসিংদী জেলাতেই রয়েছে ১০টি রেলস্টেশন। ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম ও সিলেটে চলাচলকারী বিভিন্ন ট্রেন নরসিংদীতে যাত্রা বিরতি করে। এছাড়া তিতাস কমিউটার এবং এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সরাসরি নরসিংদীতে চলাচল করে।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য ক্লিক করুন http://bdallinfo.com/trains-from-narsingdi/

কোথায় থাকবেন

নরসিংদীতে থাকার জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হোটেল, গেস্ট হাউজের মধ্যে রয়েছেঃ
১। নরসিংদী সার্কিট হাউজ (সরকারি)
ফোনঃ ০২৯৪৬২০৮৩, ০১৭৩৫৮৪০২৯৪

২। জেলা পরিষদ পোস্টাল বাংলো (সরকারি)
পোস্টাল বাংলো সড়ক, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬৩৭৬৫
মোবাইলঃ ০১৭১২-৫২১২৭৪

৩। ডাক বাংলো (সরকারি)
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬৩১৮১

৪। রেস্ট হাউজ (সরকারি)
সিভিল সার্জনের কার্যালয়, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬২২৬০

৫। রেস্ট হাউজ (সরকারি)
এলজিইডি কার্যালয়, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬২২৬০

৬। ইউএমসি জুট মিলস (সরকারি)
কাউরিয়াপাড়া, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬৬৫১

৭। হোটেল নিরালা (আবাসিক)
লাইব্রেরি পট্টি, নরসিংদী মার্কেট, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬৩৩৯৩
মোবাইলঃ ০১৭১১১৯৬৬৯৯

৮। হোটেল আল আরাফাত (আবাসিক)
২১৫/১, সিএন দাবি রোড, বাসস্টেশন, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬৩৩৯৩
মোবাইলঃ ০১৭১২১৩০১৩৯

৯। হোটেল মমতাজ
পাতিলবাড়ি সড়ক, নরসিংদী
মোবাইলঃ ০১৭১১৯৫২১২০

১০। হোটেল আজিজ (আবাসিক)
পাতিলবাড়ি সড়ক, নরসিংদী
মোবাইলঃ ০১৭১২০৭০২৩১

১১। হোটেল রিয়াজ (আবাসিক)
পাতিলবাড়ি সড়ক, নরসিংদী
ফোনঃ ০২৯৪৬৫১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬০৯০৪৫

১২। হোটেল তানিম (আবাসিক)
পাতিলবাড়ি সড়ক, নরসিংদী
ফোনঃ ৯৪৬৩৯৮২
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৯১৬১৪৩

১৩। হোটেল আল মামুন (আবাসিক)
বাজির মোড়, নরসিংদী
মোবাইলঃ ০১৭১১৩৪১৯৪০

কি করবেন

১। নীলকুঠির স্থাপত্যশৈলী ভালভাবে প্রত্যক্ষ করতে পারেন।

২। ছবি তুলতে ভুলবেন না।

৩। এখানে প্রচুর টিয়া পাখি দেখতে পাবেন।

৪। চারপাশের সবুজ পরিবেশে নিজের ক্লান্তি দূর করতে পারেন।

৫। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে নীলকুঠির ইতিহাস ভালভাবে জানার চেষ্টা করতে পারেন।

খাবার সুবিধা

 নরসিংদীতে খাওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

মানচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথা বলুন

এই মুহূর্তে অনলাইনে না থাকায় আমরা দুঃখিত! কিন্তু আপনি আমাদের ই-মেইল পাঠাতে পারেন। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!

ENTER ক্লিক করুন