প্রায় ৬ শতক ধরে স্থায়ী ষাটগম্বুজ মসজিদ দেশের বৃহত্তম ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর মধ্যে একটি। ভারতীয় উপমহাদেশের অধিবাসীরা এই মসজিদটির স্থাপত্যশৈলীর তারিফ করে থাকে। খান জাহান আলী এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। চ্যাপ্টা ইট দিয়ে নির্মিত এই ষাটগম্বুজ মসজিদের দেয়ালগুলো অস্বাভাবিক রকমের পুরু। মসজিদের অভ্যন্তরে ৭৭টি নিচু গম্বুজ রয়েছে এবং প্রতি কোণায় একটি করে গম্বুজ রয়েছে। ষাটগম্বুজ মসজিদের অভ্যন্তরকে বেশকিছু সারির মাধ্যমে পৃথক করা হয়েছে যেগুলোর বেশিরভাগেই টেরাকোটার কাজ করা রয়েছে। দুর্গের সাথে সাদৃশ্য এই স্থাপনাটির নিকটে আরো তিনটি ছোট মসজিদ রয়েছে। এগুলো হলঃ পশ্চিম দিকে বিবি বেগনির মসজিদ, বিবির বেগনির মসজিদের আধ মাইল উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত চুনাখোলা মসজিদ, এবং ষাট গম্বুজ মসজিদের আধ মাইল দক্ষিন পূর্বে অবস্থিত একগম্বুজ বিশিষ্ট সিঙ্গাইর মসজিদ।
খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় ষাটগম্বুজ মসজিদ অবস্থিত। বাগেরহাটে বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র ১০/-টাকা রিকশাভাড়ায় আপনি ষাটগম্বুজ মসজিদে পৌছাতে পারবেন। তবে, সময় স্বল্পতা না থাকলে বাসস্ট্যান্ড থেকে পায়ে হেঁটেই এই মসজিদে পৌছাতে পারবেন। বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে হাঁটলেই আপনি দরগার দেখা পাবেন। দরগা থেকে ষাটগম্বুজ মসজিদ ২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করে বাগেরহাটে পৌছাতে পারবেন। ঢাকা থেকে বাগেরহাটে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছঃ
১। মেঘনা পরিবহন
সায়েদাবাদ টার্মিনাল
যোগাযোগঃ ০১৭১৭১৭৩৮৮৫৫৩
ভাড়াঃ ৩৫০/-টাকা
২। শাকুরা পরিবহন
গাবতলি টার্মিনাল
যোগাযোগঃ ০১৭১১০১০৪৫০
ভাড়াঃ প্রায় ৫০০/-টাকা
৩। পর্যটক পরিবহন
সায়েদাবাদ টার্মিনাল
যোগাযোগঃ ০১৭১১১৩১০৭৮
ভাড়াঃ প্রায় ৩৫০/-টাকা
৪। সোহাগ পরিবহন
গাবতলি টার্মিনাল
যোগাযোগঃ ০১৭১৮৬৭৯৩০২
ভাড়াঃ ৩৮০/- টাকা
প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা মধ্যে তিনটি লঞ্চ এবং একটি স্টিমার ঢাকার সদরঘাট থেকে পিরোজপুরের হুলারহাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। হুলারহাটে পৌঁছে আপনাকে বাসে করে অথবা ভাড়া গাড়িতে করে সড়কপথে পিরোজপুর হয়ে বাগেরহাটে পৌছাতে হবে।
ঢাকার সদরঘাট থেকে পিরোজপুরের হুলারহাটের উদ্দেশ্যে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
• আল-খালাদি
• পার্বত
• ফারহানা
• টিপু
ছাড়ার সময়ঃ বিকাল ৫টা
পৌছানোর সময়ঃ সকাল ৯টা
ভাড়াঃ
রেগুলারঃ ১৮০/-টাকা
সিঙ্গেল কেবিনঃ ৫০০/-টাকা
ডবল কেবিনঃ ৮০০/-টাকা
বর্তমানে রাজধানী ঢাকার সাথে বাগেরহাটের আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। তবে, বাগেরহাটে একটি বিমানবন্দর নির্মাণাধীন রয়েছে। সুতরাং, অদুর ভবিষ্যতেই ঢাকা ও বাগেরহাটের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা যায়।
বাগেরহাটে থাকার জন্য খুব বেশি হোটেল নেই। তবে এখানে রেল রোডে অবস্থিত মমতাজ হোটেলে থাকতে পারেন। এই হোটেলটিতে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান মোটামোটি ভাল এবং খরচও একটু বেশি। এছাড়া এই হোটেলের আশেপাশে থাকার জন্য আরো কিছু হোটেল রয়েছে।
ষাটগম্বুজ মসজিদের আশেপাশে আপনি আরো কয়েকটি ছোট মসজিদ ঘুরে দেখতে পারেন। এগুলো হলঃ ষাট গম্বুজ মসজিদের প্রায় ৫০০ মিটার পেছনে একটি বিশাল পুকুরের পরে অবস্থিত বিবি বেগনির মসজিদ যেখানে ফুলের নকশা করা রয়েছে, বিবি বেগনির মসজিদের ৫০০ মিটার পেছনে ধানক্ষেতে অবস্থিত চুনাখোলা মসজিদ এবং ষাট গম্বুজ মসজিদের সাথে সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে অবস্থিত সিঙ্গাইর মসজিদ।
আপনাকে আশেপাশে খাবার হোটেল অথবা রেস্টুরেন্ট খুঁজে নিতে হবে। এখানে খাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ড এবং দরগার কাছে কিছু ধাবা রয়েছে। তবে, এসব স্থানে খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই খাবারের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। এছাড়া, আপনি সাথে করে খাবার নিয়েও যেতে পারেন।
ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং দরগার আশেপাশে কেনাকাটার জন্য টুপি, তসবিহ এবং ক্ষুদ্র অলংকার ছাড়া বেশিকিছু পাবেন না।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!